কলকাতা নয়, ঢাকাকেই সাহিত্যের রাজধানী বললেন সমরেশ

আগের সংবাদ

সময়ের প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাব

পরের সংবাদ

জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলা

রায় বাস্তবায়নে পৃথক সেল তৈরি করা উচিত

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ , ৮:২১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯, ৮:২১ অপরাহ্ণ

Avatar

জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ থেকে বেশকিছু রায় ও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব নির্দেশনা আদতে পুরোপুরি পালন ও বাস্তবায়ন হয়নি। ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো অবৈধ ঘোষণা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ, হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশ, ঢাকার চার নদ-নদী রক্ষায় উদ্যোগ- বিভিন্ন সময়ে দেয়া এসব রায় ও নির্দেশনার অধিকাংশেরই কার্যকারিতা দেখা যায়নি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়তই উদাসীনতা, নিষ্ক্রিয়তা ও অবহেলার পরিচয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। জনস্বার্থবিষয়ক এসব মামলার রায় ও নির্দেশনা ঠিকমতো বাস্তবায়ন না হওয়া অপ্রত্যাশিত। সুপ্রিম কোর্টের দেয়া তথ্য মতে, দুধে ভেজাল, পানিতে দূষণ, পরিবেশ দূষণ, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, নদী দখল ও দূষণ রোধ, খাদ্যপণ্যে ফরমালিন ঠেকানো এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যাপারে জনস্বার্থে একের পর এক মামলা হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে মানুষের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার রক্ষায় এ ধরনের মামলা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যদিও এসব মামলায় উচ্চ আদালতের ওপর চাপ বাড়ছে। এরপরও মামলার রায়ে গুরুত্ব না দেয়া দুঃখজনক। জানা গেছে, ফুটপাত উন্মুক্ত রাখার নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনের ওপর ২০০১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ‘জনস্বার্থে’ বেশ কিছু নির্দেশনা দেন উচ্চ আদালত। তৎকালীন বিচারপতি আবু সাঈদ আহাম্মেদ ও বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চের ওই রায়ে বলা হয়, ‘ভারতে জনস্বার্থে দায়ের করা মামলার রায় তদারকি করতে একটি সেল খোলা হয়েছে। একই ধরনের মামলায় দেয়া রায় বা আদেশ বাস্তবায়নে যথাযথ দৃষ্টি দেয়ার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সেটি আমাদের দেশে হয়নি। মাননীয় প্রধান বিচারপতি দয়া করে জনস্বার্থে দেয়া (পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন-পিআইএল) উচ্চ আদালতের রায় ও আদেশ বাস্তবায়ন নজরদারি করতে একটি তদারকি সেল গঠনে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশনা দেবেন।’ এই নির্দেশনার বাইরে ফুটপাত নিয়ে রায়ে বলা হয়, ঢাকার ফুটপাত ও চলাচলের পথকে জনসাধারণের ব্যবহার এবং পথচারীদের জন্য অবশ্যই পরিচ্ছন্ন এবং উন্মুক্ত রাখতে হবে। অবৈধ স্থাপনা অপসারণে সরকারকে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সড়কের ফুটপাত ও চলাচলের পথে নির্মাণসামগ্রী রাখা বন্ধ করতে হবে। ফুটপাতের দরিদ্র হকারদের সরকার ক্রমান্বয়ে পুনর্বাসন করতে পারে বলেও রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এ রায় ঘোষণার পর পেরিয়ে গেছে ১৬ বছর। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। এভাবে উচ্চ আদালতের দেয়া রায় দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হওয়াটা স্বাভাবিক। সরকারকে কথায় নয় বরং কাজে প্রমাণ করে দেখাতে হবে তারা রায় বাস্তবায়নে আগ্রহী। পাশাপাশি এই বিষয়ে বিকল্প উইং করা দরকার। বিশেষ করে উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়নে সরকারের পৃথক সেল তৈরি করা উচিত। যাতে জনস্বার্থে প্রদত্ত রায়ের মধ্যে কোনগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না তা খতিয়ে দেখতে সেল কাজ করতে পারে।