ছিঁচকে চুরির ত্রিশূল

আগের সংবাদ

প্রাণ থাকতে পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকপঞ্জি করতে দেবেন না : মমতা

পরের সংবাদ

প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর হলো না

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯ , ১:৩১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯, ১:৩১ অপরাহ্ণ

Avatar
উচ্চ আদালতের রায় থাকার পরও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য আপাতত দূর হচ্ছে না। বেতন বাড়ানোর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব নাকচ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দিয়েছে- প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড ঠিক আছে। তাই বেতন বাড়ানোর বিষয়টি অযৌক্তিক। বেতন বৈষম্য কমানোর এই দাবিকে অযৌক্তিক বলার কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষক সমাজের একটা বড় অংশ অবহেলিত থাকবে অথচ সরকারের কর্তাব্যক্তিরা এটিকে একেবারেই আমলে নেবে না, এটা দুঃখজনক। শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করতে বেশ কিছুদিন থেকে সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। দাবি আদায়ে প্রধান শিক্ষকরা হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডসহ গেজেটেড পদমর্যাদা দেয়ার নির্দেশ দেন আদালত। রায়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডসহ গেজেটেড পদমর্যাদা ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর করতে এ নির্দেশ দেয়া হয়। আদালতের রায়ের আলোকে এবং শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ জুলাই বেতন বৈষম্য দূর করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু গত রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয় ওই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। এমতাবস্থায় শিক্ষক নেতারা নতুন করে আন্দোলনে যাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। শিক্ষকরা আন্দোলনে গেলে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর পড়ালেখায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে। অস্বীকার করা যাবে না যে, আমাদের দেশে সরকারি চাকুরেদের মধ্যে বিভিন্ন স্তরে বেতন বৈষম্য প্রকট। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়, যাতে বেতন-ভাতাও বাড়ে। একইসঙ্গে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল এক ধাপ উন্নীত করা হয়। এতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড-১১ এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড-১২-এ হয়। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড-১৪ এবং প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড-১৫তে উন্নীত হয়। সে মোতাবেক, বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের তিন ধাপ নিচে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষদের বেতন। সহকারী শিক্ষকদের দাবি তাদের বেতন প্রধান শিক্ষকের চেয়ে তিন ধাপ নিচে থাকতে পারে না, এটা এক ধাপ নিচে করা হোক। অর্থাৎ প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ গ্রেডে হলে, সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১ গ্রেডে ধরা হোক। এই বৈষম্য নিরসনের দাবিতে সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরেই দেনদরবার করে আসছেন। আশানুরূপ সাড়া পেতে ব্যর্থ হয়েই তারা অনশনের মতো কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শিক্ষকদের অনশনে বসতে বাধ্য হওয়াও আমাদের জন্য লজ্জাকর। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌনে তিন লাখ শিক্ষক আছেন। শিক্ষকরা নতুন করে আন্দোলনে গেলে শিক্ষার্থীরা নিশ্চিতভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের যেমন তেমনি শিক্ষকদেরও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সরকার ও শিক্ষক সমাজ একটা যৌক্তিক অবস্থানে আসতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা চাই, অনতিবিলম্বে উদ্ভূত সংকটের সমাধান হোক। জটিলতার নিরসনে শিক্ষক নিয়োগে পৃথক কর্মকমিশন গঠনের বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় আনা উচিত।