সরকারের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করবে বিএনপি

আগের সংবাদ

বুড়িগঙ্গায় বর্জ্য ফেলা নিয়ে হাতাহাতি, কর্মকর্তাকে ধাওয়া

পরের সংবাদ

‘জাতির জনককে জানো’

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯ , ৯:৩৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৯, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

Avatar

বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে যে আসীন হয়েছে তা বঙ্গবন্ধুরই অবদান। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে এখন বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হচ্ছে। সেখানে তিনি কি বলেছিলেন, কেন বলেছিলেন সেসব নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। তার অসাম্প্রদায়িক ভাবনা, মানবতা, দৃঢ় নেতৃত্ব, দেশপ্রেম, মাতৃভাষাপ্রীতি, মূল্যবোধের জায়গাগুলো বিশ্বকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর এই বিশ্ব দরবারে আসীন হওয়াকে আমাদেরকে মনেপ্রাণে ধারণ করতে হবে।

একঝাঁক শিশু-কিশোর ও শিক্ষার্থীদের কথাগুলো বলছিলেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান পিবিএস এর বঙ্গবন্ধু মঞ্চের ‘জাতির জনককে জানো’ শীর্ষক আয়োজনে তিনি কথাগুলো বলেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও আদর্শকে শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগের নিয়মিত আয়োজনের অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পিবিএসের বঙ্গবন্ধু মঞ্চে এ অনুষ্ঠান হয়। এদিন শিশু কিশোর ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জাতির জনকের জীবন-ইতিহাসের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও পশ্চিম বাংলার বঙ্গবন্ধু গবেষক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সঙ্গীতা ইমাম। উপস্থিত ছিলেন পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান শায়ক।

আলোচনায় সেলিনা হোসেন আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু কখনো ক্ষমতা বা দম্ভের জায়গা থেকে রাজনীতি করেননি। তার রাজনীতি পুরোটাই মানবকল্যাণে নিবেদিত। তিনি রাজনীতির সঙ্গে সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। তিনি সেই রাজনীতি করতেন যেখানে মানুষ মানুষের কথা ভাববে, সকলের অধিকার নিশ্চিত করবে, দেশেকে নিয়ে ভাবাবে।

উদাহরণ টেনে সেলিনা হোসেন বলেন, ৬ দফার দাবি ছিল এদেশের মানুষের অধিকারে দাবি। ৬৬ সালে ছয় দফা দেয়ার পর ৬৭ সালে বঙ্গবন্ধু দেশের নানা প্রান্তে গিয়ে গিয়ে মানুষকে জাগিয়েছেন। অনেক জায়গায় তিনি তার সঙেগ শিল্পীদেরকে নিয়ে গেছেন। সেখানে মিটিং শুরুতেই পরিবেশিত হতো ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। এর মানে তিনি মানুষকে আগেই দেশপ্রেমের আবেগে উজ্জীবীত করতেন।

তিনি বলেন, মাতৃভাষার প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম। ৫৭ সালে চীনে গিয়েও তিনি বাংলার বক্তৃতা করেছিলেন। তাই আমাদেরকে মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করলে চলবে না। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তুমি অনেক ভাষাই জানবে, শিখবে। কিন্তু মাতৃভাষা না জানাটা লজ্জার।
এ ছাড়াও সেলিনা হোসেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ও ৭ মার্চের ভাষনের দিনের স্মৃতিচারণ করেন।

এই আয়োজনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও রাজনৈতিক দর্শনের ওপর নির্মিত একটি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শিত হয় এবং তার ওপর শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানমূলক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এরপর প্রতিযোগীতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার হিসেবে শিক্ষার্থীদের দেয়া হয় বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বই।