যেখানেই লাঙল, সেখানেই ভোট!

আগের সংবাদ

বিনিয়োগকারী ঠকানোর ফন্দি আইএফআইসি ব্যাংকের

পরের সংবাদ

সাড়ে ৩ লাখ প্রাথমিক শিক্ষকের স্বপ্নভঙ্গ

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ , ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ

Avatar

স্বপ্নভঙ্গ হলো সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের। বেতন আর বাড়ছে না। গত রোববার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বেতন বাড়ানো সংক্রান্ত চিঠিটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর সুযোগ নেই। প্রাথমিকের শিক্ষকদের বিদ্যমান বেতন যথাযথ রয়েছে বলে ওই চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। চিঠিটি দেখার পর ক্ষুব্ধ-হতাশ সারাদেশের ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেতন না বাড়ানো সংক্রান্ত চিঠিকে ফেসবুকে ভাইরাল করা হয়েছে। শিক্ষকরা বলেছেন, বেতন না বাড়ানো তাদের শোকাহত করেছে। তারা এই ‘শোক’কে শক্তিতে পরিণত করে শিগগিরই আন্দোলন শুরু করবেন।

গত ৮ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ে উপসচিব (বাস্তবায়ন) সাদিয়া শারমিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক পদে বেতন গ্রেড যথাযথ ও সঠিক থাকায় প্রধান শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১০ ও সহকারী শিক্ষক পদের বেতন গ্রেড-১২তে উন্নীতকরণের সুযোগ নেই।’

এর আগে, প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর গ্রেড পরিবর্তনের প্রস্তাবনা গত ২৯ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষকদের দাবির মুখে প্রস্তাবনায় প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। যদিও সহকারী শিক্ষকদের দাবি ছিল ১১তম গ্রেডে বেতন ভাতা।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষকদের বেতনভাতা বাড়ানোর বিষয়টি খারিজের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন ভোরের কাগজকে বলেছেন, অর্থ সচিব বিদেশে রয়েছেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন। এরপর শিক্ষকদের বেতনের বিষয়ে অর্থ সচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কী কারণে শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর দাবিটি অর্থ মন্ত্রণালয় নাকচ করল- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি অর্থ সচিবের সঙ্গে বৈঠকেই আলোচিত হবে।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি খারিজ করার আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারো সঙ্গেই কোনো আলোচনা করা হয়নি। অর্থ বিভাগের উচিত ছিল, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলা। তাহলে পরিস্থিতি এত জটিল হতো না। আর অর্থ বিভাগের একটি সূত্র বলছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়ালে একই গ্রেডে যারা বেতন পান তারাও বেতন বাড়ানোর দাবি করবেন। তাতে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে। সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে অর্থ বিভাগ প্রাথমিকের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি নাকচ করে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে গত ২৯ জুলাই যে চিঠি লিখেছেন তাতে বলা হয়েছে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি ২০১৮ সালে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রাথমিকের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দেয়ার পর সহকারী শিক্ষক আর প্রধান শিক্ষকের মধ্যে বেতনের পার্থক্য হয়েছে চার ধাপের। অথচ ২০১৪ সালের ৯ মার্চের আগে এই পার্থক্য ছিল মাত্র এক ধাপের। শিক্ষকরা ধাপ কমানোর জন্যই আন্দোলন করে আসছিলেন।

শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করে দশম গ্রেডে। আর সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড নির্ধারণ করে ১২তম গ্রেডে। বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা ১১ এবং প্রশিক্ষণবিহীনরা ১২তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম এবং প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকরা ১৫তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় বেতন বাড়াতে রাজি হলে প্রধান শিক্ষকদের একধাপ এবং সহকারী শিক্ষকদের দুই ধাপ বেতন বাড়ত। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্যেরও নিরসন হতো।

কিন্তু বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রাথমিকের শিক্ষকরা। বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন, আমরা সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেড চেয়েছিলাম। আমরা ১১তম গ্রেডের দাবিতে আছি। এ দাবি আদায়ে খুব তাড়াতাড়ি কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল হক বলেছেন, শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদও।