রমেক অধ্যক্ষসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আগের সংবাদ

পাঁচ জেলায় দুদকের অভিযান

পরের সংবাদ

‘সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইন সংস্কার হচ্ছে’

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ , ৭:৫৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ

Avatar

সকলের অধিকার সুনিশ্চিত করতে আইনের সংস্কারের কাজ চলছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা কেউ চাইনি দেশে রামু ও নাসিরনগরের মতো ঘটনা ঘটুক। কিন্তু তারপরও হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিচারের দণ্ডের মেয়াদ আছে দুই বছর। আমরা এ আইন সংস্কারের করার কাজ করছি। সাক্ষ্য আইনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ আইনটিরও পরিবর্তন দরকার। ল’কমিশনের পরামর্শে আমরা এ আইনের খসড়ার যাচাই বাছাই করছি। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ সাক্ষ্য আইনটা ফাইনাল করে সংসদে পেশ করতে পারবো। হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এ আইনটা নিয়ে হিন্দু নেতাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি হিন্দু নেতাদের সহায়তা কামনা করেন তিনি। বলেন, তাদের সহযোগীতা ছাড়া এ আইন করা সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে আইন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এসব কথা বলেন।

একাত্তরের ঘাতাক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির আরেক উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। আরো বক্তব্য রাখেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানাদাশ গুপ্ত, একাত্তরের ঘাতাক দালাল নির্র্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির প্রমুখ।

মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেল হত্যার বিচার হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে, হচ্ছে। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ আইনের শাসনে ফিরে এসেছে। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশটাকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের মূল চেতনা থেকে নস্যাত করার অপচেষ্টা করা হয়। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের চেতনা থেকে আমরা ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছি। এদেশ কোনো ধর্মের নয়। এদেশ হিন্দু মুসলমান সকলের। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা একাত্তরের মূল চেতনায় ফিরে যেতে চাই। সংবিধানের মূল চার নীতি বাস্তবায়ন করতে চাই। তা না হলে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়া সম্ভব নয়।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি বিচার ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলার রায়ে কিছু ত্রুটি রয়ে গেছে। যদি সঠিক বিচার হতো তাহলে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান আসামি জিয়াউর রহমান হওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি হওয়ার কথা ছিল খালেদা জিয়ার। তাদের কেন বাদ দেয়া হলো। আমরা চাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো সংস্কার হোক। এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনের নায়কদের চিহ্নিত করতে অতি দ্রুত একটি কমিশন গঠন করতে হবে।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক তার প্রবন্ধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনের সংস্কারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এর মধ্যে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের প্রয়োজনীয়তা, বঙ্গবন্ধু হত্যাপূর্ব নতুন আইন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, পরিত্যক্ত সম্পত্তি আইন, যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ আইন, গণহত্যা অস্বীকারের বিরুদ্ধে আইন, এছাড়া অন্যান্য আরো কিছু আইন সংস্কারের বিষয়ে উল্লেখ করেন।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা