স্লুইসগেট নয় অভিশাপ

আগের সংবাদ

এমপিওর আশায় ২৫ বছর

পরের সংবাদ

রসগোল্লার স্বাদ ফেরাতে…

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ , ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

Avatar

জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন বা ‘জিআই’ পণ্যের তালিকাভুক্ত হওয়ার পর রসে ভরা রসগোল্লার স্বাদ ও মান বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এর অংশ হিসেবে রাজ্যের জেলায় জেলায় অভিযান চালাচ্ছে ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ফুড প্রসেসিং এন্ড হর্টিকালচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন। তারা মিষ্টির দোকানগুলোতে গিয়ে মিষ্টির মান পরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট দোকানদারকে ‘জিআই’ লোগো ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে।
কলকাতার দৈনিক বর্তমানের এক খবরে বলা হয়েছে, রসগোল্লার স্বাদ ফেরাতে জেলায় জেলায় কোমর বাঁধছে খোদ রাজ্য সরকার। যে রসগোল্লার জন্য বাংলার এত নামডাক, তার স্বাদে ‘টাল’ খাওয়াতে রাজি নয় প্রশাসন। চলতি মাসের মধ্যে অন্তত ৭০০ দোকানে রসগোল্লার মান বাড়াতে চায় তারা। মোট আড়াই হাজার দোকানে সেই কাজ শেষ করার দায়িত্ব নিচ্ছে প্রশাসন।
প্রায় দুবছর আগে ‘জিআই’ তকমা পেয়েছে ‘বাংলার রসগোল্লা’। কিন্তু এখন পর্যন্ত জিআই তকমা নিতে রাজি হয়নি প্রায় কোনো সংস্থা। রসগোল্লাই যে বাংলা থেকে একমাত্র জিআই পেয়েছে, তা নয়। পশ্চিমবঙ্গের বহু পণ্যেই জিআই আছে। কিন্তু সে সবের থেকে রসগোল্লার লড়াই ছিল একেবারে আলাদা। রসগোল্লা তাদের, এমন দাবিদার হয়ে উঠেছিল প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা। তাদের দাবি ছিল যে মিষ্টি স্বয়ং জগন্নাথদেবকে নিবেদন করার প্রথা চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ কী করে দাবি করে, রসগোল্লার উৎপত্তি বাংলায়? বিষয়টি গড়ায় আইনি লড়াই পর্যন্ত। বিস্তর টালবাহানার পর অবশেষে রসগোল্লা নিয়ে জয় হয় পশ্চিমবঙ্গের। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দেয়, রসগোল্লার জন্ম বাংলাতেই। নবীনচন্দ্র দাশের আবিষ্কারকেই স্বীকৃতি দেয় তারা।

ওড়িশা অবশ্য হাল ছাড়েনি। তাদের যে মিষ্টি নিয়ে এত গরিমা ছিল, তাকেও স্বীকৃতি দিয়েছে কেন্দ্র। অবশ্য তাকে রসগোল্লা বলা হয়নি। সেই মিষ্টির নাম ‘ওড়িশার রসগোল্লা’।
রাজ্য সরকারের ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ফুড প্রসেসিং এন্ড হর্টিকালচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের বক্তব্য চাইলেই তারা যাকে তাকে ‘জিআই’ লোগো ব্যবহারের অনুমতি দেবেন না। সেক্ষেত্রে রসগোল্লার সংজ্ঞা মেনে মিষ্টি প্রস্তুত করতে হবে সংশ্লিষ্ট দোকানকে। কী কী উপকরণে এবং কী শর্তে সেই রসগোল্লা তৈরি হবে, তার মাপকাঠি আছে। যারা তা করবে, তাদের রসগোল্লা পরীক্ষা করা হবে স্টেট ফুড সেফটি ল্যাবরেটরিতে। এরপরই মিলবে ‘জিআই’ লোগো ব্যবহারের অনুমতি। আর এভাবেই স্বাদ ফেরানো হবে রসগোল্লার।