উত্তরায় দুদক পরিচালকের বাসায় অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী দগ্ধ

আগের সংবাদ

সাড়ে ৩ লাখ প্রাথমিক শিক্ষকের স্বপ্নভঙ্গ

পরের সংবাদ

এরশাদের আসন

যেখানেই লাঙল, সেখানেই ভোট!

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ , ৪:০৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

Avatar

সংসদে বিরোধীদল জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান পদ নিয়ে কদিন আগেও তুমুল বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন জিএম কাদের আর এরশাদপত্নী রওশন এরশাদ। আর এর মূলে ছিল পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের মনোনয়ন। লাঙলের টিকেট কে পাবেন- তা নিয়েই ভেতরে ভেতরে চলছিল স্নায়ুযুদ্ধ। অবশ্য ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় পরে তাদের মধ্যে যে সমঝোতা হয় তার অন্যতম সিদ্ধান্ত হচ্ছে বাবার আসনে রওশনপুত্র রাহগির আল মাহিরের (সাদ এরশাদ) মনোনয়ন।

যদিও বহিরাগত ঠেকাতে এ ঘটনার আগে রংপুরে এরশাদ পরিবারের সদস্যরাই ছিলেন তৎপর। এরশাদ পরিবারের একমাত্র উত্তারাধিকারী দাবিদার ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফের সমর্থকরা সাদ এরশাদের কুশপুত্তলিকাও পুড়িয়েছে। তার দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত বলেও প্রচার করতে থাকেন কর্মী ও সমর্থকরা। এ নিয়ে উত্তাপও ছড়িয়ে পড়ে। আবার এরশাদের বোন সাবেক সংসদ সদস্য মেরিনা রহমানের মেয়ে ও প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলুর স্ত্রী মেহেজেবুন্নেছা রহমান টুম্পাও ছিলেন মাঠে। তবে তাদের সবাইকে টপকে এরশাদপুত্রেরই ভাগ্য খুলেছে।

চাচার সঙ্গে সাদ এরশাদ

জাপায় দেবর-ভাবির সমঝোতা আর পদ ভাগাভাগির পর রংপুরের জাপার রাজনীতির ঘূর্ণি বাতাস একমুখী হয়েছে। কারো কোনো রকম উচ্চবাচ্য নেই। জোটগত বন্ধু আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বৈরি সম্পর্কের বিএনপিকে প্রতিপক্ষ ধরে জয়ের জন্য নির্ভুল ছক কষছে এরশাদের জাপা। এরশাদের মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে সব দ্বন্দ্ব ভুলে তারা তৎপর। ‘যেখানেই লাঙল প্রতীক সেখানেই সিল মারা’র একমাত্র স্লোগান নিয়ে ভোটের মাঠ কাঁপাতে চায়। এক্ষেত্রে ইতিহাসও তাদের অনুকূলে। যেটা নেই আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপির ক্ষেত্রে।

নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৯১ সালের পর থেকে রংপুর-৩ (সদর) আসনের মানুষ এরশাদকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করে আসছে। অন্য দলের কোনো প্রার্থী তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি। যদিও জোটগত কারণে গত তিনটি নির্বাচনে এরশাদের আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থীই দেয়নি। সে কারণে প্রতিবারই এরশাদ বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন। তবে এরশাদের মৃত্যু আর ‘রংপুর নিয়ন্ত্রিত’ জাপায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এবার লাঙলের বিজয় নির্বিঘ্ন হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এর ওপর একাদশ সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে ভরাডুবির নেতিবাচক অভিজ্ঞতা শঙ্কায় রাখবে জাপাকে।

বাবাকে জড়িয়ে সাদ এরশাদ

তবে রংপুরে জাপার পক্ষে-বিপক্ষের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বলছেন, সেনা ও স্বৈরসাশক হিসেবে যতই সমালোচনার মুখে ফেলা হোক না কেন নিজ এলাকা রংপুরে এরশাদের জনপ্রিয়তা এতটুকু ম্লান হয়নি কখনও। একাদশ সংসদ নির্বাচনে মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে থেকে এলাকায় না গিয়েও তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এসব কারণে রংপুরের নেতাদের আত্মবিশ্বাসে কখনও ভাটা পড়েনি। তাদের কথা, মৃত এরশাদ জীবিত এরশাদের চেয়েও শক্তিশালী। এরশাদের কবরস্থান রাজধানীর পরিবর্তে পল্লীনিবাসে করার পেছনের রাজনৈতিক দর্শন ছিল সেটাই।

যদিও রংপুরের মেয়র ও জাপার মহানগর কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বরাবরই বলে আসছিলেন সাদ এরশাদকে মনোনয়ন দিলে তার পক্ষে কাজ করবে না রংপুরের নেতারা। তবে শেষ অবধি নাটকীয়তার মধ্য দিয়েই এরশাদবিহীন জাপায় আবারো সিদ্ধান্ত পাল্টে যাওয়ার নজির দেখা যাচ্ছে।