পদ্মা সেতু রক্ষণাবেক্ষণ অনুষ্ঠান

আগের সংবাদ

উদ্বোধনের ১০ মাসেও চালু হয়নি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল

পরের সংবাদ

ছয়শ’ মন্ডপে পূজার আয়োজন

দেবী দুর্গার আগমনে সাজছে বরিশাল

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ , ১২:২৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ১২:২৪ অপরাহ্ণ

Avatar

শরতের শুভ্রতা ছড়িয়ে আগমন করবেন দেবী দুর্গা। পঞ্জিকা মতে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মর্তলোকে দেবীর আগমনী বার্তা বেজে উঠবে। ৪ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে দেবীর নবপত্র কল্পারম্ভ ষষ্ঠী পূজা; ওইদিন মন্ডপে মন্ডপে বেঁজে উঠবে ঢাক-ঢোল আর কাঁসরের বাজনার শব্দ। ৫ অক্টোবর সপ্তমী পূজা, ৬ অক্টোবর মহাঅষ্টমী পূজা, ৭ অক্টোবর নবমী এবং ৮ অক্টোবর দশমী বিহিত পূজা ও দশহরার মধ্যদিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী পূজার অনুষ্ঠান সমাপ্ত হবে।
তাই দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে এখন দম ফেলার সময় নেই বরিশাল নগরীসহ জেলার ৬১৩টি পূজামন্ডপ ও মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজে নিয়োজিত শিল্পীদের। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বরিশালের সর্বত্র চলছে নানা ধরনের প্রস্তুতি। নগরীসহ জেলার দশটি উপজেলার মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ।
প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা জানান, এটেল মাটি, বাঁশ, সুতলীসহ প্রতিমা তৈরিতে প্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি তাদের পারিশ্রমিক। এনিয়ে তাদের মনে কোন ক্ষোভ বা অভিযোগ নেই। তাদের মতে, আমাদের তৈরি প্রতিমা দেখে হাজার হাজার মানুষ মুগ্ধ হয়। আমাদের তৈরি প্রতিমা ভক্তের পূজা পায়, এই পাওনাওতো আর কম নয়। তাই এমন একটা মহৎ কাজের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারাটাই আমাদের কাছে অনেক বড় পাওয়া।
বরিশাল জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানিক মুখার্জী জানান, মহানগরসহ গোটা বরিশাল জেলায় এবার ৬১৩টি মন্ডপের মধ্যে মহানগরে ৪০টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবারের মতো এবারেও বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজা অনুষ্ঠিত হবে জেলার আগৈলঝাড়ায় উপজেলায়। জেলার ৬১৩টি পূজা মন্ডপের মধ্যে আগৈলঝাড়া উপজেলায়ই ১৫১টি মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

শারদীয় দুর্গা পূজাকে ঘিরে গত এক মাস ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন মৃৎ শিল্পীরা। তারা মাটি দিয়ে তৈরি করছেন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, মহিষ, সিংহের মৃন্ময় মূর্তি। প্রতিবারই প্রতিমা তৈরিতে দেখা যায় নতুনত্ব। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রতিমা তৈরিতেও রয়েছে বৈচিত্রের ছোঁয়া। আয়োজকদের ফরমায়েশ ও বাজেট অনুযায়ী প্রতিমা তৈরি করছেন শিল্পীরা। বিভিন্ন পূজামন্ডপে দেবীকে উপস্থাপন করা হবে এক কোচা শাড়ি পরিহিত বাঙালির চিরচেনা মায়ের রূপে। কেউ সাঁওতালি, কেউ নৃত্যরত, কেউ যুদ্ধরতসহ বিভিন্ন সব বাহারি ঢংয়ে। ইতোমধ্যে দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় সর্বত্র উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে।
বরিশাল নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন, সদররোড, ফলপট্টি, কাটপট্টি, কালিবাড়ী, কাউনিয়া এলাকার বিভিন্ন মন্দিরের মন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, সবখানে এখন চলছে দেবী প্রতিমার ওপর কাদামাটির প্রলেপের কাজ। পরবর্তী সময়ে প্রতিমার ওপর রং তুলির ছোঁয়ায় দশভুজা দেবী ষষ্ঠীর দিন পাবে জীবন্ত রূপ। ওইদিন দেবী সেজে উঠবেন অপরূপ সাজে। শঙ্খ, উলুধ্বনি আর মঙ্গল সংগীতে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেবেন সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা।
আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের একমাত্র পাল পাড়ার প্রতিমা নির্মাণ শিল্পী গৌরাঙ্গ পাল জানান, উপজেলায় একমাত্র পাল পাড়া হিসেবে তাদের রয়েছে সু-প্রাচীণ ইতিহাস ও ঐতিহ্যর খ্যাতি। বাপ-দাদার আমল থেকেই তারা বিভিন্ন সময়ে প্রতিমা নির্মাণ করে আসছেন। তাদের গ্রামে নির্মান শিল্পী হিসেবে বর্তমানে ১৭টি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে ৪০জন পুরুষ ও ৩০জন নারী শিল্পী রয়েছেন। প্রত্যেক পরিবারের নারীদের শিল্প কাজে রয়েছে নিপুন দক্ষতা। তাই পুরুষ শিল্পীদের পাশাপাশি পাল পাড়ার প্রত্যেক নারীরাই মাটির তৈরী শিল্প কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। বিশেষ করে প্রতিমার মুখ মন্ডল তৈরীর নিপুন কাজে নারী শিল্পীরা খুবই দক্ষ। গৌরাঙ্গ পাল আরও জানান, দুর্গা প্রতিমা নির্মানে তারা ৫০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিয়ে থাকেন। শুভ দিন হিসেবে গত শ্রাবন মাসে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসবের দিন থেকেই তারা প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।
পাল পাড়ার শিল্পীরা ইতোমধ্যে দেবীর প্রতিমা নির্মাণের কাজ শেষ করেছেন। এখন চলছে সর্বশেষ মাটির প্রলেপের কাজ। এরপর রং তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে প্রতিমার দৃষ্টি নন্দিত রূপ। আগৈলঝাড়ার শিল্পীরা উপজেলা ব্যতিত শরিয়তপুর, মাদারীপুর, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, কুয়াকাটা, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা তৈরী করছেন। সকল প্রতিমার কাজ এখন শেষপর্যায়ে। দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে ততোই বেড়ে চলেছে নির্মান শিল্পীদের ব্যস্ততা।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে বলেন, প্রতিমার সৌন্দর্য, মন্ডপের চাকচিক্য নিয়ে বিভিন্ন পূজামন্ডপের মধ্যে চলছে নীরব প্রতিযোগিতা। তাই প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি শুরু হয়েছে চোখ ধাঁধানো পূজা মন্ডপ তৈরি ও নানা পরিকল্পনার কাজ। তিনি আরও বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই আলোকসজ্জ্বার মাধ্যমে নতুন সাজে সেজে উঠবে নগরীসহ গোটা জেলার দশটি উপজেলা।
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বিপিএম (বার) বলেন, ইতোমধ্যে পূজা উৎসবকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ, অধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরি অনুযায়ী পূজা মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হবে। পূজা উৎসবকে ঘিরে উদ্যাপন কমিটির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি গোটা জেলায় ৯২৪জন পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া মহানগরে পৃথকভাবে মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর পূজা মন্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য এখন থেকেই পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নজরদারি বৃদ্ধি শুরু করেছেন।