এফআর টাওয়ার মামলায় তিন সরকারি কর্মকর্তার জামিন

আগের সংবাদ

জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত আহমদ রফিক

পরের সংবাদ

তামাক কোম্পানি গুলোর হাত অনেক লম্বা: সাবের হোসেন চৌধুরী

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ , ৮:৫৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ৯:১৩ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

তামাক কোম্পানিগুলোর হাত অনেক লম্বা। তাদের বিরুদ্ধে কোন একটি উদ্যোগ নিলে অদৃশ্য কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ূ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী। আজ বৃহষ্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদে বেসরকারী সদস্যদের জন্য সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপণকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে সাবের হোসেন চৌধুরীর সিদ্ধান্ত প্রস্তাব ছিল, ‘সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের উপর প্রচলিত অ্যাড ভেলোরাম পদ্ধতির পরিবর্তে সুনির্দ্দিষ্ট করারোপ করা হোক।’

বক্তব্যে সাবের হোসেন চৌধুরী তামাকজাত পণ্যের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, তামাক ও তামাকজাত পণ্যের কারণে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসুখে মারা যান। আর এর চিকিৎসার জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকা দেশে বিদেশে খরচ হচ্ছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক ফোরামে বলেছেন, ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তিনি সম্পূর্ণ তামাক মূক্ত করবেন। সেটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এখনি তামাকের ওপর করারোপ জরুরী। যাতে তামাকের ব্যবহার ও সেবন কিছুটা কমে। তাছাড়া আমরা তামাকের ক্ষতির জন্য ব্যয়িত অর্থে অনেক উন্নয়ন মূলক প্রকল্প হাতে নিতে পারি। এসময় তিনি বিভিন্ন পরিসংখ্যান দিয়ে তামাকের ক্ষতির উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, আমরা ২৯০ জনের মত এমপি তামাকের উপর সুনিদ্দিষ্ট করারোপের (গত বারের চেয়ে অধিক) জন্য স্বাক্ষর করি। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলোর হাত অনেক লম্বা। তাদের বিরুদ্ধে কোন একটি উদ্যোগ নিলে অদৃশ্য কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। তামাকের উপর প্রস্তাবিত করারোপ কিন্তু অর্থমন্ত্রী করেন নি। এর ফলে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। কেন উনি এটা বাস্তবায়ন করছেন না তা বুঝতে পারছি না। কেন অর্থমন্ত্রী এটি গ্রহণ করেন নি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ সিদ্ধান্ত প্রস্তাবকে সমর্থন করেন ১০ জন এমপি বক্তব্য রাখেন।

কিন্তু অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার বক্তব্যে জানান, বর্তমানে তামাক ও তামাকজাত পণ্যের উপর গত বছরের চেয়ে অধিক করারোপ করা হয়েছে। এটি বর্তমানে সঠিক বলে আমি মনে করছি। সেকারনে তিনি সাবের হোসেন চৌধুরীর প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পরে সাবের হোসেন চৌধুরী অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে সন্তুষ্ঠ না হয়ে তার সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহারে রাজি হননি। স্পিকার তখন প্রস্তাবটি ভোটে দিলে কন্ঠভোটে প্রস্তবটি নাকচ হয়ে যায়। এর পরে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, এখানে প্রায় সবাই তামাকের উপর করারোপরে পক্ষে বাজেটের আগে সমর্থন করলেও আজ ভোটে তারাই সরকারের পক্ষে যাবেন না বলে আমার প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। আমার প্রস্তাবে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। অথচ যারা আগে এ প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন করেছিলেন, তারা প্রস্তাবটি নাকচ করার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এখানে একবার পক্ষে সম্মতি, আবার সংসদে বিপক্ষে ভোট এমন নজির সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য সঠিক নয়। ধ্বনী ভোটে সাবের হোসের চৌধুরীর সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়।

এর পরে ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, আজ যারা বিপক্ষে ভোট দিলেন, তারা সরকারের বিরোধীতা করবেন না বলে বিপক্ষে ভোট দিলেন। কিন্তু এটি তো সরকার পতনের বা জাতীয় স্বার্থে ভোট নয়, এটি শুধুমাত্র একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব। তবে এখানেও যদি সরকারকে সমর্থন করতে তাদের পক্ষে ভোট দিতে হবে তা হলে তা নিশ্চয় সংসদে একটি খারাপ নজির হয়ে থাকবে।

পরে স্পিকার বলেন, ২৯৪ বিধি অনুযায়ী বলা আছে স্পিকার কতৃক কোন প্রস্তাব ভোটে নাকচ হয়ে গেলে তা নিয়ে কোন সদস্য আর কোন বক্তব্য দিতে পারবেন না। এখানে তার পরেও আমি আপনাদের কথা শুনেছি। এ প্রস্তাবে আমি কোন পক্ষপাতিত্ব করিনি। প্রথমবার ভোটে আমি নিজে কিছুটা কনফিউসড ছিলাম বলে দ্বিতীয় বার আবারও প্রস্তাবটি ভোটে দিয়েছি। এটাতে আমার কিছু করার থাকে না। সংসদের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত।