দেবী দুর্গার আগমনে সাজছে বরিশাল

আগের সংবাদ

আনুশকাকে নিয়ে একান্তে কোহলি

পরের সংবাদ

উন্নত স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত শেরপুরবাসী

উদ্বোধনের ১০ মাসেও চালু হয়নি ২৫০ শয্যার হাসপাতাল

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ , ১২:৩৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

Avatar

উদ্বোধনের পর ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল। এতে জেলার প্রায় ১৬ লাখ মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা যায়, শেরপুর ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হলেও জেলা হাসপাতালটি ছিল ৫০ শয্যার। দীর্ঘদিন পর তা ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও রাজস্ব খাতে ছিল ৫০ শয্যাই। জেলার প্রায় ১৬ লাখ মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। নারায়ণপুর জেলা হাসপাতালের পাশের ১ একর জমির ওপর ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮তলা ভবনের প্রকল্প হাতে নেয় গণপূর্ত বিভাগ। ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ শেরপুর-১ আসনের এমপি মুক্তিযুদ্ধা আতিউর রহমান আতিক।

ইতোমধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালসহ শেরপুরের কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সেই ঘোষণার দীর্ঘ প্রায় ১ বছরে চালু হয়নি নতুন ভবনে জেলা হাসপাতালের কার্যক্রম। স্বাস্থ্য বিভাগ ও গণপূর্ত বিভাগের অপ্রকাশিত মতবিরোধে ঝুলে আছে চালুকরণ প্রক্রিয়া। জেলা বিএমএর সভাপতি ডা. এম এ বারেক তোতা বলেন, মানুষের অধিকতর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে দ্রুতই উদ্ভূত সমস্যা নিরসনের মাধ্যমে নতুন ভবনে কার্যক্রম চালুকরণের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দৃষ্টিনন্দন ওই নতুন ভবনে আইসিইউ ও সিসিইউসহ আধুনিক সব ধরনের চিকিৎসা সুযোগ-সুবিধা রাখা রয়েছে। তিনি আরো জানান, ভবনটি হস্তান্তর ও গ্রহণের জন্য গত এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগকে চিঠি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সার্ভে শেষ না হওয়ার কথা বলে তারা ভবনটি এখনো গ্রহণ করছেন না। তিনি বলেন, ভবনের নকশা করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেই নকশা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. রেজাউল করিম বলছেন, নবনির্মিত ওই ভবনে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। সমস্যাগুলো হচ্ছে, ওই ভবনে কমন বাথরুম ছাড়া চিকিৎসকদের বসার রুমে কোনো এটাস্ট বাথরুম নেই। ওয়ার্ডের কোনো ওয়াশরুম নেই। অপারেশন থিয়েটারেও রয়েছে সমস্যা। যে কারণে ভবনের কাজের বিষয়ে জেলা হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সার্জন ডা. রবিউল করিমকে আহ্বায়ক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ নাদিম হাসানকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যের একটি সার্ভে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ওই বোর্ডের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব বলেন, ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতাল চালুর বিষয়ে ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমন্বয় সভায় কথা হয়েছে। সে প্রেক্ষিতে ওই সভায় উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ১ মাসের মধ্যে তা চালুকরণে আশ্বস্ত করেছেন। তা চালু হলে শেরপুরবাসীর কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবার দ্বার উন্মোচিত হবে।