জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত আহমদ রফিক

আগের সংবাদ

যেমন করে হোক রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে হবে: রওশন

পরের সংবাদ

ইটের স্থাপনার মধ্যে এক টুকরো সবুজের উপস্থিতি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯ , ৯:১৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯, ৯:১৬ অপরাহ্ণ

Avatar

দিন দিন বাড়ছে বনসাই শিল্পচর্চা। প্রাণের স্পন্দন আর শিল্পকর্মের নান্দনিকতা এক সুতোয় প্রকাশ পায় বলেই বনসাই যেন জীবন্ত শিল্পকর্ম হিসেবে পরিচিত উঠছে। নগরে ইটের স্থাপনার মধ্যে এক টুকরো সবুজের উপস্থিতি এবং স্বল্প পরিসরে সহজ যত্ন আত্তিতে বনসাই সংগ্রহ করা যায় বলেই বৃক্ষপ্রিয় মানুষের কাছে বনসাইয়ের কদর শিশু সন্তানের মতোই যেন একটু বেশিই আদরনীয়। বনসাই শিল্পের প্রসারে এবং নান্দনিকতাকে আরও অধিক বৃক্ষপ্রেমীদের কাছে ছড়িয়ে দিতে রাজধানীতে শুরু হলো এক বিশাল বনসাই প্রদর্শনী।

বৃস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দেশের শীর্ষস্থানীয় বনসাই সংগঠন রেডিয়েন্ট বনসাই সোসাইটির উদ্যোগে ধানমন্ডির ডবিউভিএ অডিটোরিয়ামে এ বনসাই প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। এবার এ প্রদর্শনীর ১১তম আয়োজন। প্রধান অতিথি হিসেবে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন এটিএন বাংলার পরিচালক নাহিদ রহমান ও ইফাদ গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আবির বকশী। সোসাইটির সভাপতি গুলসান নাসরীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মনিরউদ্দিন আহমেদ।

সাইফুল আলম বলেন, বনসাই একটি অতি প্রাচীন শিল্প। আর এ শিল্পটি হলো একটি বড় বৃক্ষকে নান্দনিকভাবে ছোট করে রাখা, সতেজ করে রাখা। আর সত্যিকার অর্থেই শিল্পে রুপান্তর করা। এই কারণেই গাছ লাগালে তাকে শিল্প না বললেও বনসাই তৈরি করা হলে তাকে আমরা শিল্প বলি। এই শিল্প সৃজনের জন্য কবির মতো দিগন্ত প্রসারিত দৃষ্টির দরকার হয়। নান্দনিকতাবোধ, কারুশিল্পীদের মতো মানসিক গভীরতার দরকার হয়।

তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব আছে এ ধরণের শিল্পকে মানুষের কাছে পরিচিত করার। শিল্পীটিকে শিল্প হিসেবে পরিচিত করে দেয়ার জন্য রাষ্ট্রের নেতৃত্বের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয়ার। তিনি বলেন, টাকা দিয়ে এখন শিল্পতো বটেই ভালোবাসা, সুখ, দুঃখ, সমাজ ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় কাঠামো বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। সম্পর্কের মাপ হচ্ছে। কার গাড়িটা বড় বাড়িটা বড় সেটা হিসেবে হচ্ছে। এমনি সামাজিক অবস্থায় এইরকম বোধে যারা জীবনকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন বনসাই প্রদর্শনী তাদের জন্য অনেক উপকারি হতে পারে। ছোটো এর মধ্যেও যে জীবন আছে, শিল্পবোধ আছে সেইরকম একটি চেতনা জাগ্রত করতে পারে।

গুলসান নাসরীন চৌধুরী বলেন, যারা শহরে থাকেন তাদের ছোট ছেলে মেয়েদের অনেকেই আমাদের দেশের বিভিন্ন গাছপালা সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না। তাই তাদের এইসব গাছপালা সম্পর্কে ধারণা দেয়ার ক্ষেত্রে এ প্রদর্শনী খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বনসাই অমূল্য সম্পদ;স্টাইল, সিস্টেম ও বয়সের উপর ভিত্তি করেই এগুলোর দাম নির্ধারণ করা হয়। এর ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। যদি বনসাই শিল্প বাড়ানো যায়, তাহলে এগুলো রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

প্রদর্শনী ঘুরে দেখা গেছে সোসাইটির শিল্পীদের নিজ হাতের ছোঁয়া ও যত্নে সৃষ্ট নান্দনিক সব বনসাই। প্রদর্শনীতে ৩০জন বনসাই শিল্পী অংশ নিয়েছেন। যাতে ৫০ প্রজাতির প্রায় ৩০০টি বনসাই স্থান পেয়েছে। যাতে দেশি বনসাইয়ের মধ্যে রয়েছে পাকুর বট, হিজল, তমাল, তেঁতুল, কামিনী, অর্জুনসহ বিভিন্ন গাছ। বিদেশি বনসাইয়ের মধ্যে রয়েছে জুনিপার, ফোকেনটি, ফাইকাস লং আইল্যা, গ্রীন আইল্যান্ড, প্রেমনা, সরা, হানি লুকাস্ট, বারবাডুস চেরি, রাইটিয়া রেলিচুয়াসা, চাইনিজ এলেমসহ আরও নানা বনসাই।

প্রদর্শনী থেকে চাইলে যে কেউ বনসাই কিনতেও পারেন। ১০০০ থেকে শুরু করে ১,৮০,০০০ টাকার মধ্যে এসব বনসাই পাওয়া যাবে। সকলের জন্য উন্মুক্ত এ বনসাই প্রদর্শনী চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা