সাংবাদিক সংহতি দিবস উদযাপন

আগের সংবাদ

হংকংয়ের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিকের জন্মদিন বৃহস্পতিবার

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ , ৯:৫১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯, ৯:৫১ অপরাহ্ণ

Avatar

মহান মুক্তিযুদ্ধেরর অন্যতম প্রেরণা ’৫২-র ভাষা আন্দোলন। সেই ভাষাসংগ্রামীদের মধ্যে যারা বেঁচে আছেন, আমাদের আজও আলোর পথ দেখাচ্ছেন তাদের মধ্যে আহমদ রফিক অন্যতম। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তিনি যেমন রাজপথে নেমেছিলেন তেমনি নিজের লেখনি দিয়ে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছেন। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন। লিখেছেন অজস্র গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ। দুহাত ভরে লিখে চলেছেন ছোটদের জন্যেও। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আহমদ রফিকের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। ভাষাসগ্রামী ও গবেষক আহমদ রফিকের নব্বইতম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক আনন্দানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) তাঁর নিউ ইস্কাটনের বাসায় (২০/সি, নিউ ইস্কাটন রোড) প্রকাশনী প্রতিষ্ঠান অন্যপ্রকাশ আয়োজিত এক ঘরোয়া অনষ্ঠানে ভক্ত-অনুরাগীরা শুভেচ্ছা জানাবেন।

এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম। আহমদ রফিক ভাষাসংগ্রামীদের তালিকা প্রস্তুতে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন। সেটা সরকারি এবং নিজ উদ্যোগ দুইভাবেই। ভাষা আন্দোলন নিয়ে সাহিত্যকর্মের কথা বলতে গিয়ে আহমদ রফিক বলেছেন, ‘আমার একটা আক্ষেপ, ভাষা আন্দোলন নিয়ে অনেক কবিতা লেখা হয়েছে, কিন্তু একটি মহৎ উপন্যাস তৈরি হয়নি। এটি বিস্ময়কর।’

১৯২৯ সালের আজকরে এ দিনে তৎকালীণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার মেঘনাপাড়ের শাহবাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আহমদ রফিক। তাঁর পিতা আবদুল হামিদ, মাতা রহিমা খাতুন। তিনি ১৯৪৭ সালে নড়াইল মহকুমা হাই স্কুল থেকে প্রবেশিকা, ১৯৪৯ সালে মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক এবং ১৯৫৮ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন আহমদ রফিক। বিভিন্ন গ্রগতিবাদী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি অংশ নিয়েছিলেন বায়ান্নর মহান ভাষা আন্দোলনে। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠকও তিনি। ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য ভূমিকায়। পরে ভাষা আন্দোল নিয়ে লিখেছেন নানা গবেষণামূল গ্রন্থ।

সুদীর্ঘ জীবনে সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ে আহমদ রফিকের লেখালেখির পরিমাণ বিপুল। রবীন্দ্র-গবেষক হিসেবে তিনি দুই বাংলাতেই খ্যাতি অর্জন করেছেন। রবীন্দ্রবিষয়ক গবেষণার ফসল হিসেবে তিনি বাংলা সাহিত্য ভ-াারে যোগ করেছেন অসংখ্য অনবদ্য সব গ্রন্থ।

আহমদ রফিক কবিতাও লিখেছেন প্রচুর। তবে কবি পরিচয় ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে তাঁর নানা পরিচয়। সমাজ-গবেষক, প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ভাষাসংগ্রামী। লেখালেখির জন্য পেয়েছেন অফুরান শ্রদ্ধা ভালবাসাসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। বাংলা একাডেমির ফেলো, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির জীবন সদস্য, ‘রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র’ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, একুশে পরিষদ ও ভাষা আন্দোলন জাদুঘরের অন্যতম উদ্যোক্তা আহমদ রফিক বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার ও অগ্রণী ব্যাংক শিল্পসাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্রপুরস্কার লাভ করেন। সাহিত্যে অসামান্য অবদান রাখার জন্য তিনি ১৯৯৫ সালে একুশে পদক পান। ১৯৯৭ সালে টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট তাঁকে রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য উপাধিতে ভূষিত করে।