ঢাকা ওয়াসার ১০ কোটি লিটার পানি উদ্বৃত্ত থাকছে

আগের সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট সংশোধন বিল পাস

পরের সংবাদ

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ , ১০:৪০ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯, ১০:৪০ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ মানুষ হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। আমরা যদি তাই বিশ্বাস করতাম, তাহলে এদেশে বিএনপির অস্বিত্ব থাকতো না। কারণ বিএনপি দ্বারা আমরা যে পরিমান হত্যা নির্যাতন, নিপীড়নের স্বীকার হয়েছি তা আর কেউ হয়নি।

তিনি বলেন, জনগণ আমাকে প্রধানমন্ত্রীর দ্বায়িত্ব দিয়েছেন তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য। আরাম আয়েসের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করেনি। আমি জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর কণ্যা। তিনি তাঁর জীবনটাই উৎসর্গ করেছেন দেশের কল্যাণের জন্য। তাঁর কণ্যা হিসেবে জনগণের প্রতি আমার দায়বদ্ধতার একটা আলাদা জায়গা রয়েছে। সে জন্য আমি দিন রাত পরিশ্রম করি। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ারমত দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে কাটালেই কি প্রশ্নকর্তা খুশী হতেন।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় এমপি রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এ জবাব দেন। প্রশ্নকর্তা রুমিনের প্রশ্ন ছিল- ‘দেশে বর্তমানে মানুষ হত্যা হইতে মশা মারা পর্যন্ত সকল ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রয়োজন হয়, যাহা রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাঙিয়া পড়া, অকার্যকর হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। প্রাতিষ্ঠানিক সফলতা একটি কার্যকর রাষ্ট্রের পূর্বশর্ত। এই অকার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলো কি রাষ্ট্রপরিচালনায় সরকারের সার্বিক ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে না?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অকার্যকর রাষ্ট্রের উদাহরন তো সৃষ্টি করেছিল বিএনপিই। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতো রাষ্ট্রযন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন ব্যক্তির কাছ থেকে। প্রধানমন্ত্রী ঘুমিয়ে থাকতেন, সিদ্ধান্ত দিতেন তার পুত্র হাওয়া ভবন থেকে। মন্ত্রী সচিবরাও হাওয়া ভবন থেকে নির্দেশের অপেক্ষায় প্রহর গুনতো। স্পিকারের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য একটি অনাকাঙ্খিত, অসংসদীয় ও অবাস্তব প্রশ্ন করেছেন। তিনি মানুষ হত্যা আর মশা মারাকে একই সমতলে নিয়ে এসেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান জাতীর পিতাকে স্বপরিবারে হত্যা করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। জিয়াউর রহমানের প্রতিহিংসার বলি হয়ে জেলখানায় নির্মমভাবে নিহত হন জাতীয় চার নেতা। তিনি তো ক্যুর অপরাজনীতির শুরুর সংস্কৃতি চালু করেন। শত শত সো অফিসার ও সৈনিককে হত্যা করে। ঘুষ দূর্নীতি, লুটপাটের সংস্কৃতি চালু করেন। তার স্ত্রী খালেদা জিয়া যে তার চেয়ে এক কাঠি সরেস-সে প্রমান তিনি রেখেছেন। এদেশে জঙ্গীসুষ্টি, অগ্নি সন্ত্রাস, বোমা হামলা, মানি ল-ারিং এতিমের টাকা আত্মস্বাদ হেন অপকর্ম নেই যে তিনি তার পুত্রদ্বয় এবং তার দলের নেতারা করেনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি শাসনামালে ২০০১-২০০৬ সালের মধ্যে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া,. আহসান উল্লাহ মাস্টার, মমতাজ উদ্দিনসহ আমাদের ২১ হাজার আওয়ামী লীগের নেতাকে হত্যা করে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হমলা করে আমাকে সহ দলের পুরো নেতৃত্বকে নিশ্চহ্ন করার চেষ্টা করেছিল। আইভি রহমানসহ ২২ নেতা কর্মী সেদিন নিহত হন। এছাড়া ২০১৪ সালে অগ্নি সন্ত্রাস করে ৫০০ জন নিরিহ মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ২৪জন কে হত্যা করেছে। অসংখ্য প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দিয়েছে।