সড়কে দুঃসহ শব্দসন্ত্রাস হাইড্রোলিক হর্ন

আগের সংবাদ

৫ লাখ মানুষের জন্য চিকিৎসক ৫ জন!

পরের সংবাদ

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ রুখলেন যে রুশ ক্যাপ্টেন

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ , ১:০৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯, ৪:৪১ অপরাহ্ণ

Avatar

সাবমেরিন। পারমাণবিক টর্পেডো। আমেরিকা বনাম সোভিয়েত। এক রুশ ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্ত ইতিহাস পাল্টে দিল। মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি বেশ ক’দিন। ব্যাটারি ফুরিয়ে এসেছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়েছে আগেই। ভেতরে দ্রুত বাড়ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড। উপরে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ। ধাক্কায় চারপাশ কেঁপে উঠছে। এমনই এক অবস্থায় সমুদ্রের অনেক গভীরে, সোভিয়েত নৌসেনার ডিজেল চালিত সাবমেরিন বি-৫৯ এর মধ্যে তর্কে জড়িয়ে পড়েছেন ক্যাপ্টেন ভ্যালেন্টিন গ্রিগরিভিচ সাভিতস্কি আর ক্যাপ্টেন ভাসিলি আর্খিপভ। পারমাণবিক টর্পেডো ব্যবহার করা হবে কি না তা নিয়ে তর্ক।

২৭ অক্টোবর ১৯৬২। বিশ্বে টানটান উত্তেজনা। এক দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেনেডি, অন্য দিকে সোভিয়েতের সর্বময় কর্তা নিকিতা ক্রুশ্চেভ। কিছুদিন আগেই নিজেদের নাকের ডগায় কিউবায় এক নির্মীয়মাণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কথা জানতে পেরেছে আমেরিকা। অভিযোগ, তা তৈরি করছে সোভিয়েত ইউনিয়ন। হুমকির মুখে তখনো অবিচল সোভিয়েত ইউনিয়ন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় কয়েকটি সাবমেরিনকে ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে, তারই একটি পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন বি-৫৯। ওই সময়ে কিউবার কাছেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছিল সে। লুকিয়ে লক্ষ করছিল মার্কিন নৌসেনার গতিবিধি। কোনোভাবেই যাতে সাবমেরিনগুলোর খোঁজ আমেরিকা জানতে না পারে, সেই নির্দেশ দেয়া ছিল। ফলে বেশ কিছুদিন সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল বি-৫৯সহ একাধিক সাবমেরিনকে। কিন্তু ভাগ্য মন্দ, আমেরিকার এয়ারক্র্যাফ্ট ক্যারিয়ার ইউএসএস র‌্যান্ডলফের নেতৃত্বে ১১টি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ বি-৫৯-এর অবস্থান বুঝে ফেলে। খবর যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে।

সমুদ্রের তলদেশ থেকে বি-৫৯ কে সমুদ্রপৃষ্ঠে তুলে আনতে ডেপ্থ চার্জ ব্যবহার শুরু করে মার্কিন নৌবাহিনী। যদিও সাবমেরিনের ক্ষতি করার ক্ষমতা তার ছিল না। সমুদ্রের আরো গভীরে নেমে যায় বি-৫৯। নিয়ম অনুযায়ী, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে হলে ক্যাপ্টেনকে পলিটিক্যাল অফিসারের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু আর্খিপভের উপস্থিতি সব পাল্টে দিল। আর্খিপভ বি-৫৯ এর দ্বিতীয় প্রধান অফিসার হলেও, বি-৪, বি-৩৬, বি-১৩০-সহ কয়েকটি সাবমেরিনের কম্যান্ডার। পদমর্যাদায় সাভিতস্কির সমান। এ ক্ষেত্রে পারমাণবিক টর্পেডো ব্যবহার করতে হলে তিন জনকেই সহমত হতে হবে। কিন্তু আর্খিপভ নারাজ। তর্ক যত গড়াচ্ছিল ততই মেজাজ হারাচ্ছিলেন সাভিতস্কি। বছর চৌত্রিশের আর্খিপভ নিজের কথায় অনড়। শেষে পারমাণবিক টর্পেডো ব্যবহার না করে ভেসেই ওঠে বি-৫৯। ফিরে যায় স্বদেশে। নিজেদের অবস্থান লুকোতে না পারার ব্যর্থতা বি-৫৯ অফিসারদের লজ্জার কারণ হয়ে উঠেছিল। তবে আর্খিপভ কাজ চালিয়ে যান।

ইতিহাস বলছে, আর্খিপভের ওই সিদ্ধান্ত পৃথিবীকে পারমাণবিক যুদ্ধ থেকে রক্ষা করেছিল। সে দিন বি-৫৯’এর উপরে হামলা চালানোর সময়ে মার্কিন নৌবহরেরও ধারণা ছিল না, বি-৫৯ পারমাণবিক টর্পেডো বহন করছে। বি-৫৯ সে দিন তা ব্যবহার করলে, পাল্টা জবাবে কী হত সহজেই অনুমেয়। নোয়াম চমস্কির মতে, পৃথিবীকে নিশ্চিহ্ন হওয়া থেকে বাঁচিয়েছিলেন আর্খিপভ।