ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পবিত্র আশুরা পালন

আগের সংবাদ

স্থপতিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ নেই: গণপূর্ত মন্ত্রী

পরের সংবাদ

কেরাণীগঞ্জে বাড়িঘরে তাণ্ডব, লুটপাট আহত ৮

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ , ৭:১১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

রাজধানীর কেরাণীগঞ্জের আটিমৌজা এলাকায় বাড়িঘরে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী হামলা, লুটপাট ও তাণ্ডব চালিয়েছে স্থানীয় হাইজিং কোম্পানির লোকজন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৮ জন। তাদের কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে শাক্তা ইউনিয়নের আটিমৌজার পশ্চিম বামনসুর মডেল টাউন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের তিনজনকে আটক করেছে কেরাণীগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় হাউজিং কোম্পানির লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কেরাণীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকের মোহাম্মদ জোবায়ের ভোরের কাগজকে বলেন, হামলাকারী তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাউজিং কোম্পানির লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে ক্ষতিগ্রস্তরা।

হামলায় আহতের চিহ্ন

ভুক্তভোগীরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বামনসুর মডেল টাউন কোম্পানির লোকজন তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে জায়গা দখলের চেষ্টা করে আসছে। স্থায়ী বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে সেখানে তারা আবাসিক ভবন নির্মাণ করতে চায়। তবে বাপ-দাদার ভিটাসহ কেনা জমিতে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি তারা ছেড়ে দিতে না চাওয়ায় তারা নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। শেষ অবধি চাঁদাদাবিও করছিল। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় এক বাসিন্দা নতুন ঘর নির্মাণ করতে গেলে হাউজিং কোম্পানির লোকজন বাধা দেয়। পরে দলবল বেঁধে এসে তাদের বাড়িঘরসহ আরো কয়েকটি ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। টিনের বেড়া, ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় ও লুটপাট চালায়।

হামলায় ভাঙচুর করা আসবাব

হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে এসময় আহত হয়েছে অন্তত ৮জন। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বামনসুরের বহু ঘরবাড়িতে সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালালেও পুলিশ সেখানে হামলার পরে উপস্থিত হয়। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফের হামলার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ।

ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজনের অভিযোগ, শাক্তা ইউনিয়নের লিটন চেয়ারম্যান তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে হাউজিং করতে চায়। এজন্য বহুদিন ধরে তার লোকজন স্থানীয়দের উচ্ছেদ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচেআছ। তার ভাড়া করা লোকজনই হামলা চালিয়েছে।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দোকান

হামলার শিকার ক্ষতিগ্রস্ত সুভানা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে ভোরের কাগজকে বলেন, আমি অনেক কষ্টে জমি কিনে ঘর বানিয়েছি। কেনা জমির দলিলও আছে আমার। কিন্তু চেয়ারম্যানের লোকেরা এখানে হাউজিং করার জন্য আমাকে জমি ছাড়তে চলে। জমির টাকা না দিয়ে উল্টো চাঁদাদাবি করছে।

সুভানা আরো বলেন, লিটন চেয়ারম্যানের ভাড়া করা লোকজন এসে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বহু বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। ভাঙচুর, লুটপাট করেছে। পুলিশকে খরব দেয়া হলেও তারা যথাসময়ে আসেনি।

জানতে চাইলে শাক্তা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন লিটন ভোরের কাগজকে বলেন, ঘটনাটা পরিকল্পিত। কে বা কারা হামলা চালিয়েছে তা রহস্যজনক। তিনি আরো বলেন, যেসব বাড়িঘরে হামলা হয়েছে সেখানে মাদক ব্যবসা হয়। নানাভাবে তারা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছে। তাই আমি এলাকার পরিবেশ উন্নত করতে হাউজিং করেছি। তবে তারা হাউজিংয়ের রাস্তার ওপর বাড়িঘর নির্মাণের চেষ্টা করেছে। নিজের এলাকায় কী করে রহস্যজনক হামলা হয় সেটা জানতে চাইলে লিটন বলেন, মহিলারা নিজেরা নিজেরাই হামলা চালিয়ে সবোটাজ করেছে।

ঢাকা দক্ষিণের পুলিশ সুপার মাছুম আহমেদ ভূইয়া জানান, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।