জলবায়ু অভিযোজন সমাধানের উপায় উদ্ভাবনে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আগের সংবাদ

সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন

পরের সংবাদ

কৃষি প্রযুক্তির আধুনিকায়নে বিনিয়োগে আগ্রহী চীন

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ , ১:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯, ১:২৯ অপরাহ্ণ

Avatar

চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ। বাংলাদেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্রযুক্তির আধুনিকায়নে চীন সহযোগিতা ও বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের পরই কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত এবং বৈশ্বিক বাজারে আমাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে এ খাতের বহুমুখীকরণ ও বিশেষ করে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের জন্য চীনের সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

গতকাল সোমবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ও বাংলাদেশ সফররত চীনের লিয়াওনিং ফেডারেশন অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যকার বিজনেস ম্যাচ-মেকিং ডিসিসিআইতে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভারপ্রাপ্ত ডিসিসিআই সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। ডিসিসিআই পরিচালক এনামুল হক পাটোয়ারী, এস এম জিল্লুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিজনেস ম্যাচ-মেকিংয়ে লিয়াওনিং ফেডারেশন অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নিজেদের পণ্য ও তথ্য লেনদেনের সুযোগ পান।

চীনের লিয়াওনিং ফেডারেশন অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান ঝাও ইয়ানকিংয়ের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল উক্ত বিজনেস ম্যাচ-মেকিংয়ে অংশগ্রহণ করেন। বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ডিসিসিআই লিয়াওনিং ফেডারেশন অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যকার সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী এবং লিয়াওনিং ফেডারেশন অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান ঝাও ইয়ানকিং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ঢাকা চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী চীনের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১২.৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের সার্বিক বৈদেশিক বাণিজ্যের ১৩.৮৫%। তিনি জানান, আলোচিত অর্থবছরে চীনের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ওয়াকার চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক বাজারে আমাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধিতে এ খাতের বহুমুখীকরণ ও বিশেষ করে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের জন্য চীনের সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ইলেকট্রনিক্স এবং অটোমোবাইল প্রভৃতি খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ডিসিসিআই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চীনের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের প্রতি আহবান জানান।

প্রতিনিধিদলের দলনেতা ঝাও ইয়ানকিং বলেন, লিয়াওনিং প্রদেশটি চীনের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত, যা ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে জাপান, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মঙ্গোলিয়ার বেশ নিকটবর্তী এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের লিয়াওনিং প্রদেশে বিনিয়োগের আহবান জানান। তিনি বলেন, লিয়াওনিং প্রদেশটি লৌহ, নিকেল, ম্যাগনেশিয়াম প্রভৃতি খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ এবং লিয়াওনিং প্রদেশে বিশেষায়িত প্রায় ৩৯টি পণ্য উৎপাদিত হয়। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ও লিয়াওনিং প্রদেশের মধ্যকার বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য চেম্বারগুলোর মধ্যকার যোগাযোগ আরো বৃদ্ধির ওপর জোরারোপ করেন।