গুলশান বনানীর লেক যেন ময়লার ভাগার

আগের সংবাদ

মিউজিক ভিডিওতে রুনা লায়লা

পরের সংবাদ

সিংগাইরে বায়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শ্রেণিকক্ষ সংকটে বারান্দায় পাঠদান 

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ , ৩:৩৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ

Avatar

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের ৯২নং বায়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বারান্দায় চলছে পাঠদান। সরকারিভাবে তেমন কোনো অনুদান না পাওয়ায় আসবাবপত্র সংকট, ব্যবহার অনুপযোগী টয়লেট, কম্পিউটার সুবিধা না পাওয়া, ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ও শিক্ষক স্বল্পতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টি।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে ৩৩ শতাংশ জমির ওপর বায়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। সিংগাইর উপজেলা সদর থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ হয় এবং ৪ তলা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে তিন কক্ষ বিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। শিক্ষকদের জন্য নেই কোনো অফিস কক্ষ। শিক্ষকরা বারান্দার এক কোণে স্বল্প জায়গায় একটি টেবিল ও কয়েকটি চেয়ার ফেলে গাদাগাদি করে বসে কাজ সারেন। ভবনের তিনটি কক্ষই শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

এ ছাড়া প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বারান্দার মেঝেতে বসিয়ে পাঠদান করাতে হয়। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ৪৩ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৩৯, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৬৮, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩৯, চতুর্থ শ্রেণিতে ৩৯ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৩২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন করে শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বিদ্যালয়টিতে ২৬০ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক আছেন ৫ জন। বিদ্যালয়টিতে ২০১৭ ও ২০১৮ সালের সমাপনী পরীক্ষায় একাধিক (এ+) প্লাসসহ শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে লেখাপড়ায় গুণগত মানেও রয়েছে এগিয়ে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন সমস্যার কারণে ডিজিটাল যুগে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির সামনে নিজস্ব জায়গায় রয়েছে বড় আকারের গর্ত। বছরের অধিকাংশ সময় পানি জমে থাকায় এডিস মশা বংশ বিস্তার করছে। এতে শিক্ষার্থীদের নানা রোগ-বালাইয়ের আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। বাকি জায়গায় সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে। ফলে শিক্ষার্থীরা সমাবেশ ক্লাসসহ খেলাধুলাও করতে পারে না। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিমু খানম বলেন, বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানকল্পে বিদ্যালয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এনে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুযোগ সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, নানা সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা নার্গিস আক্তার বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেননি। তারপরেও আমি স্কুলটিতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করুণ অবস্থা দেখে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি।