নির্বাচন ভবনে আগুন, তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি

আগের সংবাদ

খেলা শুরু হয়ে আবার বন্ধ

পরের সংবাদ

পাঠদান করতে বিশ বছর ধরে নদী পাহাড় জঙ্গল পাড়ি দিচ্ছেন শিক্ষিকা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ , ১:২৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯, ৬:৩০ অপরাহ্ণ

Avatar

বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে স্কুটি তারপর নদীতে একা একা নৌঁকো বেয়ে যাওয়ার পর বিপদসঙ্কুল পাহাড়ি জঙ্গলপথে দু’ঘণ্টা ট্রেকিং শেষে দেখা মেলে চৌদ্দ শিক্ষার্থীর। যাদের পড়াতে রোজ এই বন্ধুর পথ পাড়ি দেন কেরলার শিক্ষিকা কে আর ঊষাকুমারী।

কেরালার তিরুঅনন্তপুরম জেলার অমবুরি গ্রামের বাসিন্দা এই শিক্ষিকা প্রতি সকালে সাড়ে ৭টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হন। স্কুটিতে পৌঁছান কুম্বিক্কল কাদাভু পৌঁছে নদীতে নৌকো বেয়ে পৌঁছান ‘অগস্ত্যবনম’ বনাঞ্চলের কাছে। এরপর একটি মাত্র লাঠি সম্বল করে তিনি দু’ঘণ্টা ধরে পাড়ি দেন ঊষাকুমারীর পাহাড়ি জঙ্গল। বন্যপ্রাণীদের আক্রমণের আশঙ্কায় বিপদসঙ্কুল এই পথের পরে ঊষাকুমারী পৌঁছান নিজের কর্মক্ষেত্র, ‘অগস্ত্য একা আদ্যপক স্কুলে। যেখানে কান্নি উপজাতির ছাত্র-ছাত্রীদের ঊষাকুমারীই একমাত্র শিক্ষিকা।

গত বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটাই প্রাত্যহিক কাজ এই শিক্ষিকার। একদিনের জন্যেও কর্মক্ষেত্রে পৌঁছতে দেরি হয় না তার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে বাড়ি না ফিরে থেকে যান কোনও শিক্ষার্থী বাড়িতে। যাতে পরের দিন অনুপস্থিত না হতে হয়। শুধু পড়ানোই নয়। নিজের হাতে পরিবেশন করেন মিড ডে মিল। বেতনের টাকা থেকে ব্যবস্থা করেন দুধ ও ডিমের। নিজের বেতন কোনও কারণে অনিয়মিত হলেও ছাত্র ছাত্রীদের মিড ডে মিল-এ দুধ ও ডিম বন্ধ হতে দেননি তিনি। একান্তই তিনি না আসতে পারলে ব্যবস্থা করেছেন একজন কেয়ারটেকারের। ক্লাস না হলেও যাতে বন্ধ না হয় শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিল।

ঊষাকুমারী জানান, শুরুর যাত্রাপথ ছিল আরো বন্ধুর। তিনি যখন প্রথম চাকরি শুরু করেছিলেন, ছিল না কোনও স্কুলের বিল্ডিংই। গাছতলায় বড় পাথরখণ্ডে বসে পড়াতেন তিনি। পরে তৈরি হয় স্কুল ঘড়।

এই অসামান্য কাজের জন্য ঊষাকুমারী কেরালা অ্যাসোসিয়েশন ফর নন-ফরমাল এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর ‘সাক্ষরতা পুরস্কার সহ নানা সন্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তবে তিনি মনে করেন পরবর্তী সময়ে যখন তার স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা আরো বেশি হারে নিজেদের জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে ঠিক তখনই তিনি পাবেন এই পরিশ্রমের সার্থকতা।