সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে

আগের সংবাদ

নগরবাসীর তথ্যভান্ডার সিআইএমএস অ্যাপস উদ্বোধন

পরের সংবাদ

বিচারকাজে গতি নেই তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলা মামলার

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ , ১২:১১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯, ১২:২৪ অপরাহ্ণ

Avatar

পুরান ঢাকার হোসেনী দালানে তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলা মামলার বিচারকাজে গতি নেই। সাক্ষী হাজির করতে না পারায় এক বছর ধরে সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে আটকে আছে মামলার বিচারকাজ। চার বছর আগে হওয়া এ হামলা মামলার অভিযোগপত্র জমা দিতেও এক বছর দেরি করেছিল তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১১ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ সাক্ষ্যগ্রহণ হয় গত বছরের ২২ অক্টোবর। এরপর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে বেশ কয়েকটি নির্ধারিত শুনানির তারিখে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সাক্ষী হাজির করতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, ওই দিন বোমা হামলায় নিহত একজনের ভাই আবু সাইদ (৪৯) সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। এরপর গত বছরের নভেম্বর, চলতি বছরের জানুয়ারি ও মার্চে বেশ কয়েকটি তারিখ থাকলেও কোনো সাক্ষী আসেননি। সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালতে আজ সোমবার মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত আছে বলেও জানান এ আইনজীবী।

২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর প্রথম প্রহরে তাজিয়া মিছিলের জন্য পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে হোসেনী দালান ইমামবাড়ায় সমবেত হয়েছিলেন ২০-২৫ হাজার মানুষ। সে সময় হঠাৎ পরপর তিনটি বোমা বিস্ফোরণে অর্ধশত আহত হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজ্জাদ হোসেন নামের এক কিশোর ও জামাল উদ্দিন নামে একজন মারা যান। হামলার দুদিন পর অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চকবাজার থানায় মামলা করে পুলিশ। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শফিউদ্দিন শেখ। পরের বছর ১৮ অক্টোবর নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ১০ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর মধ্যেই ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ; অভিযানের সময় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় সন্দেহভাজন তিন জঙ্গি। ২০১৭ সালের ৩১ মে ঢাকার মহানগর জজ আদালতে গ্রেপ্তার ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

গত বছরের ১৪ মে মামলাটি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। এই আদালতে সর্বশেষ সাক্ষ্য দেন আবু সাঈদ। মামলার নথিতে বলা হয়, গত জানুয়ারিতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত আবদুল্লাহ বাকি ওরফে নোমান ছিল হোসেনী দালানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। হামলার আগে ১০ অক্টোবর তারা বৈঠক করে হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। বোমা হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল জাহিদ, আরমান ও কবির। কবির ও জাহিদ ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে। হামলার পর আশ্রয়ের জন্য কামরাঙ্গীরচরে বাসা ভাড়া করে আরমান ও রুবেল। ঘটনাস্থলে আরমান পরপর পাঁচটি বোমা ছোড়ে। বাকি পাঁচজন চান মিয়া, ওমর ফারুক, আহসানউল্লাহ, শাহজালাল ও আবু সাঈদ হামলার চিত্র ভিডিও করা ছাড়াও হামলায় উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করে। আসামি মাসুদ রানারও হামলায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু আগের দিন গাবতলীতে পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে এএসআই ইব্রাহীম মোল্লাকে হত্যার সময় ঘটনাস্থলে গ্রেপ্তার হন তিনি। মামলার নথিপত্রে আরো দেখা যায়, সাক্ষীরা প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মামলার ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। কিন্তু কেউই

মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো কিছু বলেননি। এই কারণে আসামিদের আইনজীবী ফারুক আহাম্মাদ তাদের জেরাও করতে চাননি। বাদী আদালতে দেয়া সাক্ষ্যেও কোনো আসামিকে শনাক্ত করেননি বলে জানান আইনজীবী ফারুক। পরে মামলার ১০ আসামির মধ্যে চারজন জামিন পেয়েছেন। এরা হলেন-নেত্রকোনার কলমাকান্দার লেংগুড়া মধ্যপাড়ার ওমর ফারুক মানিক, একই উপজেলার হাফেজ আহসান উল্লাহ মাসুদ, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বড়ইতলী গ্রামের শাহজালাল মিয়া এবং গাইবন্ধার সাঘাটার ডিমলা পদুম শহরের চান মিয়া।

কারাগারে আছেন- সাঘাটার কচুয়া দক্ষিণপাড়ার কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক, বগুড়ার আদমদীঘির কেশরতা গ্রামের মাসুদ রানা মাসুদ ওরফে সুমন, রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব, দিনাজপুর কোতোয়ালির ঘাসিপাড়ার আবু সাঈদ রাসেল ওরফে সোলায়মান ওরফে সালমান ওরফে সায়মন, রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম ইব্রাহিমনগর বালুরমাঠ এলাকার আরমান ওরফে মনির, কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুরের জাহিদ হাসান ওরফে রানা ওরফে মুসায়াব ও দিনাজপুরের রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব ওরফে সুমন। এদের মধ্যে জাহিদ, আরমান, রুবেল ও কবির আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরই মধ্যে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মাদের আবেদনে আসামি জাহিদ হাসান রানা ওরফে মুসায়াবকে শিশু হিসেবে দেখিয়ে শিশু আইনে আলাদা অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা আদালতে এসে অভিযোগ প্রমাণ করার মতো কিছু বলেনি।