দুই বছরে ছয়শ অভিযান

আগের সংবাদ

‘ডটার অফ নেশন’ পাচ্ছেন লতা মঙ্গেশকর

পরের সংবাদ

প্রবৃদ্ধি কমেছে পোশাকে

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ , ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

Avatar

প্রথম মাসে ভালো প্রবৃদ্ধির পর অর্থবছরের দ্বিতীয় মাসে এসে হোঁচট খেল পণ্য রপ্তানি আয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরের গত দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ৬৭৩ কোটি ২১ লাখ ৭ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ কম। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমেছে ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ। এদিকে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অথচ আলোচিত সময়ে তৈরি পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি কমার পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারেনি এ খাতটি। লক্ষ্যমাত্রা কমেছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল রবিবার পণ্য রপ্তানি আয়ের যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, আগস্ট মাসে প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে পারেনি দেশের তৈরি পোশাক খাত। চলতি অর্থবছরের দুই মাসে ৫৭১ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে শূন্য দশমিক ৭৩৩ শতাংশ কম। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কমেছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। তবে এ নিয়ে চিন্তিত নন পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন বিজিএমইএ। এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি রুবানা হক ভোরের কাগজকে বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে আমাদের প্রবৃদ্ধি ভালো ছিল। দ্বিতীয় মাস আগস্টে কুরবানির ঈদ থাকায় প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা ভাটা পড়ে। আশা করছি, আগামীতে আবার প্রবৃদ্ধি বাড়বে।

ইপিবির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে সব ধরনের পণ্য রপ্তানিতে বৈদেশিক মুদ্রার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষ রপ্তানি আয় অর্জিত হয়েছে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ৪ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছর দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এ দুই মাসে রপ্তানি আয় এসেছে ৬৭৩ কোটি ২১ লাখ ৭ হাজার মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে রপ্তানি আয় অর্জিত হয়েছিল ৬৭৯ কোটি ৫০ লাখ ২ হাজার ডলার। সে হিসাবে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ।

জানা যায়, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এ খাত থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি আয় এসেছিল ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ৩২ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে তৈরি পোশাক খাতে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় অর্জিত হয়েছে ৫৭১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় এসেছিল ৫৭৩ কোটি ৫১ লাখ ডলার। সে হিসাবে এ খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ।
প্রবৃদ্ধি কমার পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি তৈরি পোশাক খাত। লক্ষ্যমাত্রা কমেছে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত দুই মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় এসেছে ২৯২ কোটি ৮ লাখ ৫ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি। নিট পোশাকে প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা কমেছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। অন্যদিকে ওভেন পোশাক রপ্তানি করে আয় হয়েছে ২৭৯ কোটি ৫৬ লাখ ৪ হাজার ডলার, যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ কম। পাশাপাশি ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা কমেছে ওভেনে।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাক শিল্প-মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, বর্তমানে পোশাক শিল্পকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিক‚লতা মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। আমরা এখন শতভাগ কমপ্লায়েন্স কারখানার দিকে হাঁটছি। কিন্তু এ খাতের কিছু সমস্যা বড় আকার ধারণ করছে। তিনি বলেন, ইউরোপের বাজারসহ অন্যান্য দেশের ক্রেতা এবং পণ্যের মূল্য ক্রমাগতভাবে হ্রাস পাচ্ছে। মজুরি, জ্বালানি, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বেড়েছে। এ ছাড়া প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে অস্তিত্ব এবং আমাদের সক্ষমতা টিকিয়ে রাখা এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ জন্য রপ্তানি আয় সামান্য বাড়বে আবার কমবে। বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা ঠিকই পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ইপিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ১ দশমিক ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে। এ খাত থেকে আয় এসেছে ১৮ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ। যদিও গত অর্থবছরজুড়েই চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে আয় ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। সম্প্রতি দেশের বাজারে গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে কাঁচা চামড়া।

এদিকে গত জুলাই মাস শেষে প্লাস্টিক পণ্যে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ২৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ সময়ে আয় হয়েছে ২ কোটি ৭ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। গত দুই মাসে হোম টেক্সটাইল খাতে প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা দুটোই কমেছে। এ সময় আয় এসেছে ১১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। চলতি অর্থবরের দুই মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি আয় কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে লক্ষ্যমাত্রাও। এ সময়ে এ খাত থেকে আয় এসেছে ১৩ কোটি ৫ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাস শেষে কৃষিপণ্য রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ও লক্ষ্যমাত্রা কোনোটাই অর্জিত হয়নি। এ খাত থেকে আয় এসেছে ১৩ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ২৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। অন্যদিকে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমেছে ২৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ।