৫ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১২ হাজার ৫৪

আগের সংবাদ

মাসাকাদজার নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল এখন ঢাকায়

পরের সংবাদ

জন্মদিনে ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত পঙ্কজ ভট্টাচার্য

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯ , ৮:৫৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯, ৩:০১ পূর্বাহ্ণ

Avatar

পঙ্কজ ভট্টাচার্য। ষাটের দশকের আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের এক অগ্রসৈনিক ছিলেন তিনি। পেয়েছেন বঙ্গবন্ধুর নিবিড় সান্নিধ্যও। একাত্তরের রণাঙ্গন থেকে ফিরে বঙ্গবন্ধুর পায়ের কাছেই তিনি সমর্পন করেছিলেন নিজের হাতে তুলে নেয়া অস্ত্র।

সোমবার পাবলিক লাইব্রেরীর শওকত ওসমান মিলনায়তনের মায়াবি সন্ধ্যাটি যেন তারই জন্মদিনের আলোয় তারই নামেই সুবাসিত হয়ে উঠেছিল বৃষ্টিস্নাত হিমেল হাওয়ার কানাকানিতে!

মোমবাতি প্রজ্জলন, ফুলেল শুভেচ্ছা, তথ্যচিত্র প্রদর্শন, কথামালা, গান আর নৃত্যের তালে তালে প্রবীণ ৮০তম জন্মদিনে সংবর্ধিত হলেন অসাম্প্রদায়িক ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে থাকা অমল হৃদয় আর ধবল চুলের স্মার্ট রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য। পঙ্কজ ভট্টাচার্য এর জন্মদিন উদযাপন নাগরিক কমিটি আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আগত বন্ধু স্বজন সহযোদ্ধা বুদ্ধিজীবীরা তাকে ফুলেল ভালোবাসা জানান।

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ড. অজয় রায়, সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল শওকত আলী, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারন, সাবেক শিল্পমন্ত্রী দীলিপ বড়ুয়া, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সৈয়দ আবুল মকসুদ, মহিলা পরিষদ সভাপতি আয়শা খানম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, পঙ্কজ ভট্টাচার্যর সহধর্মিনী নারী নেত্রী রাখি দাশ পুরকায়স্থ, ঐক্য ন্যাপের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট তারেক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লেখক সঞ্জিব দ্রং প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে সম্মাননা পত্র পাঠ করেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। প্রথমে আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে গানের মধ্য দিয়ে মধ্য দিয়ে সংবর্ধিত অথিতিকে মঞ্চে বরণ করে নেন স্পন্দনের শিল্পীরা। এরপর ‘আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’ এবং ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’ দুটো সম্মেলক গান গেয়ে শোনান সংস্কৃতি মঞ্চের শিল্পীরা। ‘প্রিয় এমন রাত যেন যায় না বৃথা’ গেয়ে শোনান বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী ফেরদৌস আরা, ‘আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে’ গেয়ে শোনান সুকলা সেতু। এরপর নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে উত্তরীয়, উপহার এবং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান কমিটির আহবায়ক আনিসুজ্জামান। এছাড়া ফুলেল শুভেচ্ছা জানান, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণফোরামের পক্ষে মফিজুল ইসলাম খান, সাবেক ডেপুটি স্পীকার কর্ণেল অবঃ শওকত আলী, শিক্ষাবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পথ নাটক পরিষদের পক্ষ থেকে আহমেদ গিয়াস, উদীচী, বহ্নিশিখা, সমমনা নারায়ণগঞ্জ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারন সম্পাদক নুরুল শরীফ আম্বিয়া, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, ঢাকা পদাতিক, খেলাঘর নারায়ণগঞ্জ, ত্বকী মঞ্চ’র পক্ষ থেকে রাফিউর বাব্বি, কেন্দ্রিয় খেলাঘর, গৌরব একাত্তর, সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদ, ঐক্য ন্যাপ, শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন, আইনজীবী ঐক্য পরিষদ, ন্যাপ মুজাফফর, বাংলাদেশ নৃত্য শিল্পী সংস্থা, বাংলা একাডেমি।

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থেকে কখনো বিচলিত হয়নি পঙ্কজ। তাঁর সেই স্বপ্ন বৃথা যাবে না। আজ না হোক, কাল তা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ন্যাপের প্রতীক কুঁড়েঘরের চেতনায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বৃহত্তর শক্তি গড়ে তুলতে হবে। সংবর্ধনার প্রতিক্রিয়ায় পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, যারা রাষ্ট্রের নব্য দখলদার হয়েছে, তাদের প্রতিহত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ে যেতে চাই।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশপ্রেমের নানা উদাহরণ এদেশে আছে। কিন্তু পঙ্কজ ভট্টাচার্যের দেশপ্রেম আর আন্দোলন সংগ্রামের প্রতি নিষ্ঠা এদেশে এক বিরল দৃষ্টান্ত। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী পঙ্কজ ভট্টচার্য তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনও ব্যাক্তিগত লাভ-লোকসানের হিসেব কষেননি। ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন তাঁর। আর এ কারনেই সাম্প্রতিক সময়ের নষ্ট রাজনীতির এই প্লাবনেও দেশপ্রেমের ছোট্ট ডিঙ্গি নিয়েই এখনও ভাসছেন তিনি। উজানে তরী বাওয়া মাঝির মতো কাজ করছেন আদর্শ বাস্তবায়নে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা যেখানেই আঘাত হেনেছে সেখানে প্রতিবাদ ধ্বনিত করে তিনি উপস্থিত হয়েছেন দুর্গতজনদের মাঝে।