ঢাকাকে ‘বস্তিবিহীন’ নগরী করতে চান গণপূর্তমন্ত্রী

আগের সংবাদ

একক ব্যক্তির কোম্পানি গঠনের সুযোগ রেখে আইন সংশোধন হচ্ছে

পরের সংবাদ

সন্ধান মিলেছে চন্দ্রযান বিক্রমের, যোগাযোগের চেষ্টা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯ , ৬:৫২ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯, ৭:১১ অপরাহ্ণ

Avatar

চাঁদের পৃষ্ঠ ছোঁয়ার আগেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া চন্দ্রযান-২’র খোঁজ পাওয়া গেছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুর ঠিক কোন জায়গায় সে নেমেছে, কক্ষপথে থাকা অরবিটার তা জানতে পেরেছে বলেও জানিয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)। এমনকি ছবিও তুলে ফেলেছে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পা ছোঁয়ানো ল্যান্ডার বিক্রমের। তবে সবগুলিই ‘থার্মাল ইমেজ’। সেসব ছবি অরবিটার বেঙ্গালুরুতে ইসরোর গ্রাউন্ড কন্ট্রোল রুমে পাঠিয়েছে।

রবিবার এই সুসংবাদ দিয়েছেন ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন। তিনি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত বিক্রমের কাছ থেকে কোনো রেডিও সিগন্যাল অরবিটারের কাছে পৌঁছয়নি। কিন্তু সে কোথায় নেমেছে, তার খবর যখন পাওয়া গিয়েছে, তখন আশা, শিগগিরই বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে।

এছাড়া কোনো ক্যামেরার মাধ্যমে থার্মাল ইমেজিং তখনই সম্ভব হয় যদি কোনো বস্তু থেকে বেরিয়ে আসা ইনফ্রারেড আলোক তরঙ্গের বিকিরণের ভিত্তিতে কোনো ছবি তোলা হয়। এই ইনফ্রারেড আলোক তরঙ্গের বিকিরণ আমাদের শরীর থেকেও প্রতি মুহূর্তে বেরিয়ে আসছে। রাতে নাইট ভিশন ক্যামেরায় আমাদের ছবি তোলা হলেও সেই থার্মাল ইমেজিং পদ্ধতিরই সাহায্য নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে ‘ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইসার-কলকাতা)’র বিশিষ্ট সৌরপদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিব্যেন্দু নন্দী জানান, সূর্যের পিঠ থেকে বেরিয়ে আসা আলো প্রতি মুহূর্তেই এসে আছড়ে পড়ছে চাঁদ, পৃথিবীসহ এই সৌরমণ্ডলের সব গ্রহে উপগ্রহেই। যে গ্রহের বায়ুমণ্ডল রয়েছে সেখানে সেই সূর্যের আলোর কিছুটা অংশ শোষিত হয়। কিন্তু চাঁদের কোনো বায়ুমন্ডল নেই তাই সূর্যের আলো, সূর্য থেকে বেরিয়ে আসা সব ধরনের বিকিরণ পুরোপুরিই এসে আছড়ে পরে চাঁদের পিঠে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পা ছোঁয়ানো বিক্রমের গায়েও এসে পড়েছে সূর্যের আলো। তাতে বিক্রমের গা গরম হয়েছে। তার মানে তাপের সৃষ্টি হয়েছে। তাই গা গরম হওয়া বিক্রমের সেই বাড়তি তাপশক্তি ইনফ্রারেড আলোকশক্তিতে বদলে গিয়েছে। তৈরি করেছে ইনফ্রারেড আলোক তরঙ্গ। সেই তরঙ্গের মাধ্যমেই চন্দ্রযান-২-এ থাকা অরবিটার থার্মাল ইমেজ নিয়েছে বিক্রমের।

অন্যদিকে ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্সে’র অধ্যাপক, বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী সুজন সেনগুপ্ত অবশ্য বলছেন, ‘‘এই থার্মাল ইমেজিং-র মাধ্যমে কিন্তু এটা বলা যাবে না, বিক্রম চাঁদের পিঠে নেমে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে কি না।’’

এছাড়া ‘ইন্টার-ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স (আয়ুকা)’-র অধ্যাপক, ইসরোর ‘অ্যাস্ট্রোস্যাট মিশনের’ সায়েন্স অপারেশন বিভাগের প্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘কতটা সম্ভব তা নিয়ে আমার খুব স্পষ্ট ধারণা নেই। কারণ বিক্রমের আকার এক মিটারের (৩ ফুট ৩ ইঞ্চি) বেশি নয়। অরবিটার এখন রয়েছে চাঁদের পিঠ থেকে ১০১ কিমি উঁচুতে। ওই উচ্চতা থেকে এক মিটার আকারের বিক্রমের ছবি ইনফ্রারেড আলোক তরঙ্গে কতটা নিখুঁত ও স্বচ্ছভাবে অরবিটার তুলতে পেরেছে তা জানতে ও বুঝতে আমাদের আরেকটু সময় লাগবে।’

তিনি আরো বলেন, চন্দ্রযান-২ এর অরবিটারে থাকা টেরেন ম্যাপিং ক্যামেরা পারে ইনফ্রারেড আলোক তরঙ্গের বিকিরণের ছবি তুলতে যার রেজোলিউশান ১০০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে হতে পারে পাঁচ মিটার।

দীপঙ্কর বলেন, ‘এমন উচ্চতা থেকে রেজোলিউশনের ক্যামেরা দিয়ে ল্যান্ডার বিক্রমের চেহারার একটি বস্তুর ছবি তোলা যেতে পারে। কিন্তু তার গঠনগত খুঁটিনাটির সব কিছু সেই ক্যামেরায় ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম। তাই বিক্রম অক্ষত শরীরে আছে কি না বা পুরোপুরি সচল আছে কি না থার্মাল ইমেজিং-র মাধ্যমে তা বোঝা কিছুটা দুরূহ।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সময় রাত ১টা ৫২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামার কথা ছিল বিক্রমের। কিন্তু তার মিনিট কয়েক আগে থেকেই, বিক্রম যখন চাঁদের পিঠ থেকে ২.১ কিমি উঁচুতে, সেই সময়ই অরবিটারের সঙ্গে যাবতীয় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ল্যান্ডারের। তার পর থেকে বিক্রমের পাঠানো কোনো রেডিও সিগন্যালই অরবিটারে পৌঁছয়নি।