পর্দা নামলো দেবর-ভাবি নাটকের!

আগের সংবাদ

ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

পরের সংবাদ

রবিঠাকুরের নৃত্যালেখ্য বর্ষামঙ্গল

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯ , ২:০৭ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯, ২:০৭ পূর্বাহ্ণ

Avatar

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীর সংগীত ভবনের অধ্যক্ষ, রবীন্দ্রসংগীত ভূবনের তারকা শৈলজারঞ্জন মজুমদার। শান্তিনিকেতনের বাইরে রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশ্যে জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়েছিল এই বাংলাদেশেই। বিশ্বকবির ঊনসত্তর বছর পূর্তিতে সে অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়েছিল তখনকার ছোট্ট মহকুমা শহর নেত্রকোনায়। আর সেই প্রথম জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ছিলেন শৈলজারঞ্জন। তাঁকে নিয়েই আজকের কথা।

যিনি নানা কৌশলে রবি ঠাকুরকে দিয়ে ষোলটি গান করিয়ে নিয়েছিলেন। কখনো নানা রাগে গান সৃষ্টির কথা বলে, কখনো বর্ষার নতুন বিষয়ে গান তৈরির বায়নায়। আর এভাবেই যখন ষোলটি গান সৃজন পূর্ন হলো তখন সেটি সমষ্টি হয়ে পরিণত হলো গীতিআলেখ্য ‘বর্ষামঙ্গল’ এ। যা প্রথম পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবদ্দশায় ১৯৩৯ সালে। সেই বর্ষামঙ্গলই ২০১৯ সালে এসে ঢাকার মঞ্চে উপস্থাপিত হলো নৃত্যালেখ্য রূপে। বর্ষানির্ভর ষোলটি গানের সঙ্গে যুক্ত হলো নাচের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা আর নেপথ্যে উচ্চারিত হলো প্রতিটি গানের সৃষ্টিকথা। পুরো পরিবেশনায় অংশ নিল কলকাতার ভারতের শান্তিনিকেতন আশ্রমের শিল্পীরা। মিলনায়তনভর্তি দর্শকশ্রোতা উপভোগ করলেন দেড় ঘন্টার এক রবীন্দ্রময় সন্ধ্যা।

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে এই পরিবেশনাটির আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন চয়নিকা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একান্ত সহচর সঙ্গীতগুরু আচার্য শৈলজারঞ্জন মজুমদারের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে এই নৃত্যালেখ্যটি পরিবেশিত হয়। তিনি পর্বে সাজানো এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যজন আতাউর রহমান, বিশ্বভারতীর দুই প্রাক্তন উপাচার্য ড. সুজিত কুমার বসু ও ড. স্বপন কুমার দত্ত এবং উপমহাদেশের প্রখ্যাত মনিপুরী নৃত্যগুরু গুরুদেবযানী চালিহা। সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম। এই আয়োজনের গ্রন্থনা, পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন এস বি বিপ্লব।

আয়োজনটি শুরু হয় বাংলাদেশের শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘সুরের গুরু দাও দাও সুরের দীক্ষা’ সমবেত সঙ্গীতে। এরপর ছিল আলোচনা পর্ব। তার পরই শুরু হয় বর্ষামঙ্গল নৃত্যালেখ্যের পরিবেশনা। মঞ্চের পেছনের সারিতে বসেছিলেন সঙ্গীত শিল্পীরা। তাদের সঙ্গে দু’জন ধারাভাষ্যকার যারা গানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরছিলেন। আর তার পরপরই গানটির পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত হয় নাচের অভিব্যক্তি। সবগুলো গানই ছিল নানা রাগে সৃষ্ট বর্ষা ও বর্ষাকালকে ঘিরে। রবীন্দ্রনাথের নির্দেশনায় যে যন্ত্রগুলো ব্যবহৃত হয়েছিল সেগুলোর আশ্রয়েই এগিয়ে যায় পরিবেশনা পর্ব। গানের সুরের সঙ্গে চলে নাচের দোলা। প্রথম গানটি ছিল ‘ওগো সাঁওতালি ছেলে’।

এরপর একে এক পরিবেশিত হয় ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’, ‘আজি তোমায় আবার চাই সোনাবারে’, ‘এসো গো জ্বেলে দিয়ে যাও প্রদীপখানি’, ‘শ্রাবণের গগনের গায়’, ‘আজি ঝর ঝর মুখর বাদর দিনে’, ‘স্বপ্নে আমার মনে হলো’, ‘এসেছিলে তবু আসো নাই’, ‘এসেছিনু দ্বারে তব শ্রাবণও রাতে’, ‘নিবিড় মেঘের ছায়ায় মন দিয়েছি মেলে’, ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’, ‘সগনও গহনও রাত্রি’, ‘ওগো তুমি পঞ্চদশী’, ‘রিমিক ঝিমিক ঝরে’সহ ষোলটি গান।

গানগুলো গেয়ে শোনান শিখা চ্যাটার্জী, শুভশ্রী বসু ও ড. মানস ভূল। তাদের গাওয়া গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করেন তন্ময় পাল, কৃষ্ণেন্দু দে, সহেলী নন্দী, ঐন্দ্রিলা পাল ও তানিসা সিংহ। প্রতিটি গানের নেপথ্য গল্প তুলে ধরেন স্বপ্না দে ও শাশ্বতী গুহ। নৃত্য পরিচালনায়নায় ছিলেন ড. সুমিত বসু। যন্ত্রবাদনে অংশ নেন তবলা ও খোলে চঞ্চল নন্দী, এস্রাজে সৌগত দাস।
জাতীয় সঙ্গীতের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আয়োজন।