সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

আগের সংবাদ

বিএসএমএমইউ’র ২৬৩ শিক্ষার্থীকে গবেষণা অনুদান

পরের সংবাদ

সুনীলদা নেই, তাই কবিতা ছেড়েছে বসন্ত!

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ , ৫:২৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

‘সুনীলদা, আপনি নেই, বাংলা কবিতা থেকে বসন্ত চলে গেছে। আপনি নেই বাংলা কবিতা থেকে ভারতবর্ষ চলে গেছে। আপনি নেই বাংলা কবিতা থেকে নীরা চলে গেছে। আপনি নেই বাংলা কবিতা থেকে সোনার ঘটি বাটি চলে গেছে। এখন লোহার থালা আর কাসার থালা এ ওর প্রতিধ্বনি শুনে ঘুমোতে যায়। বাংলা কবিতা ম্যান্ডেভিল গার্ডেন্স থেকে, লিটল ম্যাগাজিন থেকে, কলেজ স্ট্রিট থেকে, চন্দনের বন থেকে উড়তে উড়তে আমাজনের জঙ্গলে গিয়ে ঢুকেছে, আর বেরুতে পারছে না। সেখানে এখন আগুন।তবু বাংলা কবিতায় বসন্ত আসবে। আপনাকে নিয়েই বসন্ত ফিরে আসবে। বসন্ত কখনো একা আসে না।
জন্মদিনে প্রণাম।’

জন্মদিনে বাংলা ভাষার বরেণ্যে কবি, কথাসাহিত্যিক, ছোট গল্পকার, কলামিস্ট, সাংবাদিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে আরেক বরেণ্যে কবি সুবোধ সরকার তার ফেসবুক পেজে এভাবেই জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন।

‘এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ আমি কি এ হাতে কোনো পাপ করতে পারি?’, ‘প্রিয় ইন্দিরা, তুমি বিমানের জানালায় বসে, গুজরাটের বন্যা দেখতে যেও না, এ বড় ভয়ঙ্কর খেলা’, ‘কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি’,। এমন অসংখ্য জনপ্রিয় কবিতার জনক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আজকের এইদিনে বাংলাদেশের ফরিদপুরের মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সাল থেকে তিনি কৃত্তিবাস নামে একটি কবিতা পত্রিকা সম্পাদনা শুরু করেন। সেটি ধীরে ধীরে সে সময়ের নতুন প্রজন্মের কবিদের জন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এই কবিরা সবাই মিলে নতুন ছন্দ, নতুন ধারার কবিতা সৃষ্টি শুরু করেন।

সুনীলকে জীবনানন্দ পরবর্তী সময়ের আধুনিক বাংলা কবিতায় অন্যতম প্রধান কবি বলা হয়। লেখক জীবনে তিনি নীল লোহিত, সনাতন পাঠক, নীল উপাধ্যায় ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ একা এবং কয়েকজন এবং ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম উপন্যাস আত্মপ্রকাশ প্রকাশিত হয়। তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই হল আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি, যুগলবন্দী (শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে), হঠাৎ নীরার জন্য, রাত্রির রঁদেভূ, শ্যামবাজারের মোড়ের আড্ডা, অর্ধেক জীবন, অরণ্যের দিনরাত্রি, অর্জুন, প্রথম আলো, সেই সময়, পূর্ব পশ্চিম, ভানু ও রাণু, মনের মানুষ ইত্যাদি।

শিশুসাহিত্যে তিনি “কাকাবাবু-সন্তু” নামে এক জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজের রচয়িতা। মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত তিনি ভারতের জাতীয় সাহিত্য প্রতিষ্ঠান সাহিত্য অকাদেমি ও পশ্চিমবঙ্গ শিশুকিশোর আকাদেমির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০২ সালে তিনি কলকাতা শহরের শেরিফ নির্বাচিত হন। ১৯৭২ ও ১৯৮৯ সালে আনন্দ পুরস্কার এবং ১৯৮৫ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারে ভুষিত হন। এ ছাড়া অনেক পুরস্কার সম্মাননায় ভুষিত হন বরেণ্য এই লেখক।

সুনীলের স্ত্রী স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়। ১৯৬৭ সালে তাদের বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র ছেলে সৌভিক গঙ্গোপাধ্যায়।

২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর হৃদযন্ত্রজনিত অসুস্থতার কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ২০০৩ সালে ৪ এপ্রিল তিনি ‘গণদর্পণ’কে সস্ত্রীক মরনোত্তর দেহদান করে যান।কিন্তু তার পুত্র সৌভিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ইচ্ছেতে তার দেহ দাহ করা হয়।