স্কুটিতে মা ও মেয়ে

আগের সংবাদ

রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপকতা

পরের সংবাদ

ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ

মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে হবে

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ , ৯:০৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯, ৯:০৬ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

সারাদেশে ঝুঁকি নিয়ে চলছে রেল। লাইনচ্যুত হওয়াসহ ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে রেলপথে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় বিপুল প্রাণহানি ঘটলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। রেললাইনে পাথর থাকা অপরিহার্য হলেও মাইলের পর মাইল রেললাইনে পাথর নেই, চুরি হয়ে যাচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ তিন হাজার কিলোমিটার রেললাইনের দিকে তাকালেই দুর্দশার চিত্র দেখতে পাবে। রেলের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন করা নিয়ে নানা প্রকল্পের কথা জানতে পারি। অথচ যে পথ দিয়ে রেল চলাচল করে সেই পথই নিরাপদ করা হচ্ছে না। পর্যাপ্ত নতুন রেলপথ, সেতু নির্মাণ ও সংস্কার করা দূরে থাক, বিদ্যমানগুলোই সংস্কার করা হচ্ছে না। প্রায়ই খবর আসে রেলসেতু ভেঙে যাওয়ার ঘটনা। বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিকাংশ সেতুই নির্মিত হয়েছে ব্রিটিশ আমলে। এসব সেতুর বেশিরভাগই ঝুঁকিপূর্ণ-জরাজীর্ণ। জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা এসব সেতুর ওপর দিয়েই চলছে ট্রেন। ফলে একটু উনিশ-বিশ হলেই ঘটছে দুর্ঘটনা। ঢাকা-সিলেট, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে গত দেড় বছরে ৯টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ৭০ থেকে ১০০ বছরের কিংবা তারও বেশি পুরনো সেতুগুলো শুধু ঝুঁকিপূর্ণই নয়, চরম আতঙ্কেরও বটে। এ ছাড়া স্টিল কিংবা লোহার ব্রিজগুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ। দুই অঞ্চলে (পূর্ব-পশ্চিম) কেপিআইভুক্ত সেতু রয়েছে প্রায় ৪৫টি। সেতুগুলোর মধ্যে ৯০ শতাংশেরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অনেকাংশে পাথরই নেই। ফিশপ্লেট নেই অনেক জায়গায়। এ কারণে রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ। একই অবস্থা সেতু ও কালভার্টগুলোর। রেলের একটি সূত্র বলছে, প্রতি বছর ক্লিপই চুরি যাচ্ছে ৫ লাখ পিস, টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ১০ কোটি টাকা। কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত রেললাইনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে (জোড়া) হুক খোলা দেখতে পাওয়া যায়। সারাদেশে ২২ লাখ ঘনফুট পাথর থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৮ থেকে ১০ লাখ ঘনফুট। লাইনের ইলাস্টিক রেল ক্লিপ (প্যান্ডেল), নাট-বল্টু চুরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যথাযথ মেইনটেন্যান্স না করার কারণে প্রতি মাসে ৯০-১২০টির মতো ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। রেল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাইনে পাথর না থাকা, সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটি, লাইন ক্ষয়, স্লিপার নষ্ট, লাইন ও স্লিপার সংযোগস্থলে লোহার হুক না থাকা ইত্যাদি নানা কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো রেলওয়ে। অথচ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অবহেলার শিকার হয়ে আসছিল রেলওয়ে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে রেলের দিকে দৃষ্টি ফেরায়। স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় হয়েছে রেলওয়ে। রেল উন্নয়ন মহাপরিকল্পনাও হাতে নেয়া হয়েছে। যা দেশবাসীকে খুবই আশান্বিত করেছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শ্লথগতি, সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি অনাকাক্সিক্ষত প্রতিবন্ধকতায় পড়ার খবর আমাদের স্বভাবতই হতাশ করে। আমরা বিশ্বাস করি, পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়মতো প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে সত্যিকার অর্থে রেল যোগাযোগে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। তার সুফল পড়বে দেশের সার্বিক অগ্রগতিতে। সব দিক বিবেচনায় নিয়েই প্রয়োজনে প্রকল্পগুলো তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। আমরা চাই সব সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে রেল উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গতি আসুক।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা