অভিন্ন নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসনের ওপর হস্তক্ষেপ

আগের সংবাদ

রোহিঙ্গা সামলাতে বিপুল ব্যয়

পরের সংবাদ

জাপায় দেবর-ভাবির বিরোধের নেপথ্যে

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ , ২:১৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯, ২:১৯ পূর্বাহ্ণ

Avatar

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পদ নিয়ে চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের বিরোধের পরিণতিতে জাতীয় পার্টি (জাপা) এখন খাদের কিনারে। যে কোনো মুহূর্তে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যেতে পারে প্রয়াত স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত দলটির সর্বশেষ অংশটুকুও।

বিগত তিন দশকে প্রতিষ্ঠাতার চোখের সামনেই চার টুকরা হয়েছে ১৯৮৬ সালে দলছুট নেতাদের নিয়ে গঠন করা জাপা। এবারই প্রথম এরশাদবিহীন জাপা পড়েছে ভাঙনের মুখে। প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করা নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দুই শিবিরে। দেবর জি এম কাদেরকে ‘সন্তানতুল্য’ আর ভাবি রওশন এরশাদকে ‘মাতৃতুল্য’ জ্ঞান করার পরও পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব না কমে বরং বেড়েছে।

প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর দুমাস না পেরুতেই পার্টির এ ভাঙনের মুখে বিব্রত ও অস্বস্তিতে পড়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে জি এম কাদেরপন্থিরা বলছেন, ঝামেলাকারীরা বিদায় হয়েছে। তারা ইচ্ছে করলে আরেকটি দল গঠন করতে পারে। তাতে এরশাদের জাতীয় পার্টির কোনো ক্ষতি নেই। এরশাদের পথ ধরেই জি এম কাদের পার্টিকে শক্তিশালী করতে পারবেন। আর রওশনপন্থি দুয়েক জন নেতার বক্তব্য হচ্ছে, কোনোভাবেই পার্টিকে ভাঙতে দেয়া হবে না। দেবর-ভাবির মধ্যে মূলত কোনো বিরোধ নেই। সমঝোতার ভিত্তিতেই পার্টি পরিচালিত হবে। অভিমান থেকেই এমনটা হচ্ছে।

দেবর-ভাবির পুরনো বিরোধকে নতুন করে সামনে এনে এরশাদবিহীন জাপাকে ভাঙনের মুখে ফেলার জন্য গঠনতন্ত্রে চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতা ও শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করছেন অনেকেই। এ কারণেই রংপুর-৩ আসনে প্রার্থী বাছাই ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন নিয়ে চরম বিরোধের সূত্র ধরে ভাঙনের মুখে পড়েছে সংসদের বিরোধী দল জাপা।

চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতা : জাপার গঠনতন্ত্রের ২০/১/ক ধারায় চেয়ারম্যানের অসীম ক্ষমতার কারণেই জীবদ্দশায় এরশাদ যখন যাকে খুশি তাকেই গ্রহণ, বর্জন, উন্নতি, অব্যাহতি দিতেন। এ ধারার ক্ষমতাবলেই নিজের অবর্তমানে জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। তবে তখন প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সবাই বিষয়টি মেনে নিলেও বর্তমানে এ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ তারা মানতে পারছেন না। এ কারণে জি এম কাদেরের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে একাংশের নেতাদের।

প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যু : এরশাদের মৃত্যুর পর পার্টির ভারসাম্য রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত দলীয়প্রধান জি এম কাদের পার্টিকে আরো শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করার অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তাকে সংকটে পড়তে হয় রওশনপন্থি সিনিয়র নেতাদের নিয়ে। এরশাদ বেঁচে থাকতে তারা সবকিছু মেনে নিলেও এখন জি এম কাদেরকে বৈধ হিসেবে মানতে পারছেন না। আগামী প্রেসিডিয়াম বৈঠক থেকে তাকে বৈধতা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ কারণে এরশাদবিহীন পার্টির ভারসাম্য রক্ষা নিয়ে মুখোমুখি দাঁড়াতে হচ্ছে দেবর-ভাবিকে।

উত্তরসূরি নির্বাচন : এরশাদ বেঁচে থাকতেই পার্টির উত্তরসূরি হিসেবে তার ছোট ভাই জি এম কাদেরকে দায়িত্ব দেয়ার পর থেকে রওশনপন্থিদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে টপকে কো-চেয়ারম্যানকে পার্টিপ্রধান করায় সিনিয়র নেতারা তা মানতে পারছিলেন না। এ কারণে দূরত্ব বাড়তে থাকে। যার চূড়ান্ত পরিণতি দেখা দেয় বিরোধীদলীয় নেতার পদ নিয়ে।

সমন্বয়হীনতা : পার্টিপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে জি এম কাদেরের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে রওশনপন্থি নেতারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। এরশাদের সময়ে বহিষ্কৃত নেতাদের দলে সক্রিয় করা এবং পদোন্নতি দেয়া নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়। তা ছাড়া দেবর-ভাবির সম্পর্ক বিষয়ে গণমাধ্যম কিংবা নেতাদের কাছে উপস্থাপন করা তথ্য নিয়েও বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

এরশাদের আসনে প্রার্থী : রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী বাছাই নিয়ে রওশনপন্থি ও কাদেরপন্থিরা দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যেও বিরোধ দেখা দেয়। শেষ অবধি তা দেবর-ভাবি সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে।

এর আগে গত ২২ জুলাই বিরোধীদলীয় উপনেতার প্যাডে হাতে লেখা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জিএম কাদেরের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন রওশন এরশাদ। হাতে রওশনের স্বাক্ষরসহ নয় নেতার নাম উল্লেখ ছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই দেবর-ভাবির মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে।

শেষ অবধি জিএম কাদেরকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা করতে স্পিকারকে চিঠি দেয়ার পর তা বেড়ে যায় বহুগুণ। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রওশনপন্থি হিসেবে পরিচিত পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর (অব.) খালিদ আকতার ও এসএম ফয়সল চিশতি ভোরের কাগজকে বলেন, সবকিছু ঠিক হয়ে আসবে। দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হবে শিগগিরই।