একাত্তরের অনন্য দলিল ‘কথা ৭১’

আগের সংবাদ

সভাপতি নাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক মুন্না

পরের সংবাদ

চন্দ্রযানের ৫ শতাংশ বিধ্বস্ত, আশাবাদী বিজ্ঞানীরা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ , ৭:৪৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

Avatar

চাঁদের বুক থেকে মাত্র ২.১ কিলোমিটার উপরে। আর মাত্র কয়েকটি মুহূর্ত। টান টান উত্তেজনা গোটা দেশজুড়ে। গভীর রাতের বিস্ময়কর এমন ঘটনা দেখার জন্য দেশাবাসী তাকিয়ে ছিল বেঙ্গালুরে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ইসরো ভবনের দিকে। শহর থেকে গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত জেগে ছিল শুক্রবারের (৬ সেপ্টেম্বর) রাতটাতে। কোথাও দল বেঁধে, কোথাও বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সবার চোখে ছিল রাজ্যের কৌতুহল।

কিন্তু সব আয়োজনে যেন বজ্রপাত ঘটে। পরিকল্পনা মাফিক ঠিক রাত ১:৩৮ মিনিটে অবতরণ শুরু করেছিল বিক্রম। কিন্তু হার্ড ব্রেকিং সামলে ফাইন ব্রেকিং পর্ব শুরু করতেই ছন্দ পতনের ঘটনা ধরে পড়ে ইসরোর দপ্তরের জায়ন্ট স্ক্রিনে। দেখা যায় ল্যান্ডার বিক্রমের ক্রমবর্ধমান গতি। এরপর সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। নীরব হয়ে যায় সবকিছু। বিক্রম কি হারিয়ে গিয়েছে? নাকি প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফের সংকেত পাঠাবে? উত্তর নেই ইসরো-র কাছেও। তবে এই দুর্ঘটনাকে হার বলতে নারাজ ইসরো কর্তৃপক্ষ। ভারতের চন্দ্র অভিযানে খরচ হওয়া ৯৭৮ কোটি টাকা অপচয়ও হয়নি, এমনটাই দাবি করছেন ইসরোর এক বিজ্ঞানী। এ অর্থ এর আগে পরিচালিত যেকোনো দেশের চন্দ্রাভিযানের খরচের তুলনায় বহুগুণ কম। ইসরো বলছে, একই ধরনের অভিযানে মার্কিন সংস্থা নাসার ২০ গুণ অর্থ খরচ হয়ে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিজ্ঞানী সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমাদের চন্দ্র অভিযান ব্যর্থ হয়নি। বড়জোর ৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বাকি ৯৫ শতাংশ আমরা সফল।’ ওই বিজ্ঞানীর স্পষ্ট যুক্তি, বিক্রম ল্যান্ডার বিচ্ছিন্ন হলেও অরবিটার ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। তাই গোটা বছর চাঁদের ছবি পাঠাতে পারবে এই অরবিটারটি। তার মতে, ল্যান্ডারের ভাগ্যও জানা যেতে পারে ওই অরবিটারের সূত্রেই। সে-ই জানিয়ে দিতে পারে কোথায় রয়েছে বিক্রম। আর সে ছবি হাতে পেলেই বিজ্ঞানীরা জানতে পারবেন, ঠিক কী ঘটেছিল শুক্রবার মধ্যরাতে।

চাঁদকে আবর্তন করতে থাকা এই অরবিটারে রয়েছে ‘টেরেন ম্যাপিং ক্যামেরা ২ (টিএমসি ২)।’ এক এক ঘূর্ণিতে চাঁদের পিঠের ২০ কিলোমিটার চওড়ার ফিতের মতো এলাকার ছবি তুলতে সক্ষম এই ক্যামেরা।

এ ছাড়াও অরবিটারে রয়েছে ‘চন্দ্রযান টু লার্জ এরিয়া সফ‌্ট এক্স-রে স্পেকট্রোমিটার (ক্লাস)’, ‘সোলার এক্স-রে মনিটর (এক্সএসএম)’, ‘অরবিটার হাই রেজলিউশন ক্যামেরা (ওএইচআরসি)’, ‘ইমেজিং ইনফ্রা-রেড স্পেকট্রোমিটার (আইআইআরএস)’, ‘ডুয়াল ফ্রিকোয়েন্সি সিন্থেটিক অ্যাপারচার রেডার (ডিএফএসএআর)’, ‘অ্যাটমোস্ফিয়ারিক কম্পোজিশনাল এক্সপ্লোরার ২ (সিএইচএসিই ২)’ এবং ‘ডুয়াল ফ্রিকোয়েন্সি রেডিয়ো সায়েন্স (ডিএফআরএস) নামে একটি পরীক্ষা যন্ত্র।

জানা গেছে, চন্দ্রযান-২ এর তিনটি অংশ। ল্যান্ডার, রোভার এবং অরবিটার। ল্যান্ডারের কাজ চাঁদের মাটিতে রোভারকে অবতরণ করানো। রোভার চাঁদ থেকে নমুনা সংগ্রহ ও যাচাই করবে। আর অরবিটার কক্ষ থেকে ছবি পাঠাবে। তবে শুধু তথ্যই পাঠানোই নয়, পৃথিবীর সঙ্গে বিক্রমের যোগাযোগের মূল সেতুও এটি। ওজনে ও শক্তিতে চন্দ্রযান ২-এর তিনটি অংশের মধ্যে অরবিটারই সব চেয়ে এগিয়ে। এটির ওজন ২ হাজার ৩৭৯ কিলোগ্রাম।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় চন্দ্রযান-২। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় এক মিনিটের মধ্যে সেটিকে উৎক্ষেপণ করা হয়। তার এক সপ্তাহ আগে প্রথমবারের উৎক্ষেপণ বাতিল হয়।