কাল থেকে সংসদ অধিবেশন শুরু, বিরোধীদলীয় নেতা কে ?

আগের সংবাদ

জুটি ভাঙলেন তাইজুল

পরের সংবাদ

এবার উত্তর প্রদেশে বাস্তবায়নে চিঠি

এনআরসি জুজু দেখাচ্ছে বিজেপি

কাগজ ডেস্ক :

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৯ , ৩:০০ অপরাহ্ণ

জাতীয় নাগরিকপঞ্জিতে কোনো ব্যক্তির নাম না থাকার মানে তিনি ভিনদেশি। ভারতের উত্তর-?পূর্বের রাজ্য আসামের ১৯ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব এখন সেই প্রশ্নের মুখে। কেউ জানে না এরপর তাদের ভাগ্যে কি আছে। দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি বিদেশিমুক্ত করার কথা বলে আসছে কেন্দ্রের শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি। আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের পর শাসক দল ও সরকারের পদাধিকারীরা জোর গলায় বলে বেড়াচ্ছেন, অন্য রাজ্যেও এনআরসি চালু করা হবে। বিশেষত করে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক ও তেলেঙ্গানায়। ফলে দেশজুড়ে এক ধরনের এনআরসি জুজুর ভয় ছড়িয়ে পড়ছে। এদিকে আসামের পর এবার উত্তর প্রদেশে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন তালিকা এনআরসি বাস্তবায়নে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যটির বিজেপির বিধায়ক সত্য প্রকাশ আগারওয়াল। রাজ্যটিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেকেই অবৈধভাবে বসবাস করছে বলেও দাবি তার।

নিয়মানুযায়ী, কোনো রাজ্যে এনআরসি চালু করতে হলে সেই বিষয়ে প্রস্তাবিত আইন পেশ করতে হয় সংসদে। সংসদের অনুমোদন ছাড়া তা সম্ভব নয়। এক আসাম নিয়ে সরকার ও শাসক দলের নাজেহাল দশা। এর উপর অন্য রাজ্যে এনআরসি চালু করার কোনো প্রস্তাব সংসদে পাস হওয়া তো দূরের কথা পেশ করাই হয়নি। অতএব এখনই তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। যদিও কংগ্রেস এবং অন্য বিরোধী দলগুলো মনে করছে, এনআরসিকে সামনে রেখে দেশে অর্থনীতির করুণ দশা থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মেরুকরণের রাজনীতি করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২০ সালে এনপিআর বা ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্ট্রার চূড়ান্ত হবে। তা আগামী দিনে গোটা দেশে এনআরসির ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এখন প্রশ্ন হলো- তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষ কোথায় যাবে সরকারি বিবৃতিতে বলা হচ্ছে, কারো নাম এনআরসিতে না থাকলেই তাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে, এমনটা নয়। বরং আইনের মাধ্যমে নাগরিকপঞ্জিতে নাম তোলার জন্য আবেদন জানানো যাবে। সেজন্য ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। ট্রাইব্যুনাল যদি কোনো ব্যক্তিকে ভারতীয় নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না দেয়, সেক্ষেত্রে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন করা যাবে।

ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী বললেন, দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের উদ্দেশ্য নেই। সা¤প্রদায়িক ইস্যু তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার লক্ষ্যে অহেতুক জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। অবিবেচকের মতো বক্তব্য পেশ করা হচ্ছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোই যদি প্রকৃত উদ্দেশ্য হয় তাহলে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হলো না কেন তালিকায় যাদের নাম নেই, তাদের সঙ্গে কি করা হবে এর জবাব দিতে হবে সরকারকে।

১৯৫১ সালে আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরি হয়েছিল। ওই রাজ্যে ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। বার চ‚ড়ান্ত তালিকায় ১৯ লাখ বাসিন্দার।
বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু বলেন, মনে রাখতে হবে ভারত দেশটা ধর্মশালা নয়। পৃথিবীর কোনো দেশে বিদেশিদের স্থায়ীভাবে থাকতে দেয়া হয় না। অনুপ্রবেশকারীদর মধ্যেও হিন্দু-মুসলমান কেন খোঁজা হচ্ছে, এ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন করছেন। কেন নয়, ১৯৪৭ সালে দেশটা তো ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হয়েছিল।

বরিশাল, খুলনার বহু মানুষ ধর্মীয় কারণে এদেশে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। আমাদের দল ও সরকার চাইছে এনআরসির মাধ্যমে বিদেশিদের তাড়ানো হোক, অবশ্যই মুসলমানদের। কারণ অমুসলিমরা অত্যাচারিত। এটা বিজেপির সৃষ্টিলগ্নের আদর্শ। বাংলাদেশি মুসলমানদের বিতাড়িত করতে একদিকে যেমন এনআরসি চালু থাকবে, পাশাপাশি ২০১৪ সাল অবধি অমুসলমান শরণার্থীদের এ দেশের নাগরিকত্ব দিতে সংসদে নাগরিকত্ব বিল পাস করানো হবে।

ইতিহাসবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় গণতান্ত্রিক দেশে কোনো সরকারের পক্ষে গায়ের জোরে এতগুলো মানুষকে বিতাড়ন করা কখনোই সম্ভব নয়। তা সে যে রাজনৈতিক মতাদর্শেই বিশ্বাসী সরকার হোক না কেন। তবে অনুপ্রবেশকারী ও এনআরসিকে রাজনৈতিক ইস্যু করে ক্ষমতায় আসা সরকার যে চিহ্নিত মানুষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাইবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। সেক্ষেত্রে সরকারি সুযোগ-সুবিধা, সরকারি পরিচয়পত্র ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত রাখার পন্থা অবলম্বন করা হতে পারে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ভিনদেশি শনাক্ত করে বলপূর্বক দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারবে না সরকার।

এদিকে আসামের পর এবার উত্তর প্রদেশে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন তালিকা এনআরসি বাস্তবায়নে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যটির বিজেপির বিধায়ক সত্য প্রকাশ আগারওয়াল। রাজ্যটিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেকেই অবৈধভাবে বসবাস করছে বলেও দাবি তার। এদিকে আসামে বাদ পড়াদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বেধে সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যেই বিদেশি সাংবাদিকদের আসাম সফরের ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করেছে ভারত সরকার। গত সপ্তাহে চ‚ড়ান্ত নাগরিকত্ব তালিকা প্রকাশের পর থেকে এক ধরনের অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে আসামের ১৯ লাখ বাসিন্দা। ১২০ দিনের মধ্যে বিশেষ আদালতে আবেদনের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হলেও এটি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, তালিকার তথ্য সুরক্ষিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এনআরসির কো-অর্ডিনেটরকে।