তামিমকে ছোঁয়ার অপেক্ষায় মুমিনুল

আগের সংবাদ

মৃতদের ৩৩ ভাগই শিশু

পরের সংবাদ

রাজধানীর রাতের ফ্লাইওভার দুর্বৃত্তদের অভয়ারণ্য

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯ , ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯, ৬:৫১ অপরাহ্ণ

Avatar

রাজধানীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে একে একে নির্মাণ করা হয়েছে ৫টি ফ্লাইওভার। দিনের বেলা এসব ফ্লাইওভারের পরিবেশ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই বদলে যায় পরিস্থিতি। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে যাওয়ায় মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের পুরোটাই সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত থাকে আলোহীন। বাতি না জ¦লায় অন্য চারটি ফ্লাইওভারেরও কোনো না কোনো অংশ সারারাত ডুবে থাকে অন্ধকারে। এ সুযোগে সে সব অংশে আস্তানা গাড়ে দুর্বৃত্ত, মাদকসেবী ও যৌনকর্মীরা। ফলে অন্ধকার ফ্লাইওভারে হরহামেশাই ছিনতাই বা হেনস্থার শিকার হন যাত্রী ও চালকরা। মাঝে মাঝে ঘটে হত্যাকাণ্ডও। অন্যদিকে ফ্লাইওভারের নিচের সড়কেও ঠিকমতো জ¦লে না বাতি। তাই সেখানেও ঘাঁটি গাড়ে মাদকসেবী ও অপরাধীরা। শুধু তাই নয়, সন্ধ্যার পর ফ্লাইওভারের অন্ধকারে আড্ডাবাজির পাশাপাশি শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় মেতে উঠে অনেক যুবক-যুবতী। সবমিলিয়ে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপত্তাহীনতা, আতঙ্ক ও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় অন্ধকার ফ্লাইওভার।
এদিকে নাকের ডগায় এতসব অপরাধ সংঘটিত হলেও অন্ধকারের কারণে বেশিরভাগ সময় কিছুই করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কাজে আসছে না ফ্লাইওভারে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাগুলোও। যদিও ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সিটি করপোরেশনের দাবি বেশিরভাগ বাতি, বিদ্যুতের তার, লাইটিং সিস্টেম ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জিনিস চুরি হয়ে যাওয়ায় এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয় বাজেট দিলে অচিরেই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ২৫ আগস্ট রাতে মালিবাগ ফ্লাইওভারে চালক মিলনকে হত্যার পর মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারী। এ ঘটনার পর পুলিশ সিটিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। ফুটেজ পর্যালোচনা করতে গিয়ে দেখা যায়, পর্যাপ্ত আলোর অভাবে তৃতীয় তলার ছিনতাই হওয়া ফ্লাইওভারের ওই অংশ কাভার করেনি সিসি ক্যামেরা। এর আগে গত বছরের ২৮ মে ফ্লাইওভারের মালিবাগের অংশ থেকে বস্তাবন্দি এক নারীর দুই হাত ও দুই পা উদ্ধার করে রমনা থানা পুলিশ। একটি গাড়ি থেকে ওই ব্যাগটি ফেলে দেয়া হয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় শফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। ছয় মাসেও বাসের নাম জানতে পারেনি পুলিশ। এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা ঘটলেও ফ্লাইওভারে আলো জ্বালাতে গুরুত্ব দিচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা।
গত বুধবার রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের সব বাতি অকেজো। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে উদ্বোধনের কিছু দিন পর থেকেই বাতিগুলো অকেজো হয়ে আছে। ইতোমধ্যে চুরি হয়ে গেছে লাইটিং সিস্টেমসহ বৈদ্যুতিক তার। দীর্ঘ এই ফ্লাইওভারটির নিচেও যেন মাদকসেবীদের আখড়া। ফ্লাইওভারের মালিবাগ থেকে আবুল হোটেল অংশে শিশু-কিশোরদের স্বাচ্ছন্দ্যে মাদক সেবন করতে দেখা যায়। রয়েছে যুবক থেকে বৃদ্ধও। মূলত এরাই রাত ১০টার পরে ছিনতাইয়ে মেতে ওঠে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা ইয়ামিন হোসেন। কিন্তু ফ্লাইওভারের একপাশে ছিনতাই করে অন্যপাশে পালিয়ে যাওয়ায় এদের ধরতে পারে না কেউ।
খিলগাঁও ফ্লাইভারে দেখা যায়, বেশিরভাগ বাতি সচল থাকলেও খিলগাঁও থেকে বাইপাস নিয়ে রাজারবাগ যাওয়ার মোড়ের অংশ রহস্যজনকভাবে অন্ধকার। কাছে গেলে স্পষ্ট হয় বিষয়টি। পুরো মোড়ে ২৫-৩০টি মোটরসাইকেলে যুবক-যুবতীদের সারিবদ্ধ হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। ওই অংশ দিয়ে কম গাড়ি যাতায়াত করার সুযোগে অন্ধকারে অসামাজিক কার্যকলাপেও লিপ্ত হন অনেকে। একই চিত্র মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ধোলাইপাড়ে নামার অংশে। অন্ধকার থাকায় সেখানেও সন্ধ্যার পর থেকে জড়ো হতে থাকে যুবক-যুবতীরা। কুড়িল ফ্লাইওভারে আলো থাকলেও রেললাইন সংলগ্ন অংশ অপরাধের আখড়া। সেখানে কাপড়ের তাঁবু টানিয়ে পতিতা বৃত্তি করতে দেখা যায় ৫-৭ জন নারীকে। তাদের ক্রেতা ছাড়া অন্য কেউ ওই অংশ দিয়ে যাতায়াত করে না।
মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে চলাচলকারী যাত্রীরা বলছেন, দিনের বেলা কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সন্ধ্যার পর কোনো অংশেই জ্বলে না বাতি। ফলে রাত ১০টার পর বিরাজ করে ভুতুড়ে পরিবেশ। আর এই সুযোগে ঘটছে ছিনতাই থেকে শুরু করে সব ধরনের অপকর্ম। শুধু ফ্লাইওভারে আলোর ব্যবস্থা করা হলেই এসব অপরাধ কমে আসবে বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, যে সব ফ্লাইওভারে আলো জ্বলছে না সেগুলোর বাতি, বৈদ্যুতিক তার, লাইটিং সিস্টেমসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি হয়ে গেছে। এগুলো সংস্কারের জন্য এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে একটি বাজেট পাঠানো হয়েছে। বাজেট আসলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।
ফ্লাইওভারের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফ্লাইওভার দেখভালের দায়িত্ব পুলিশের না হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে সার্বক্ষণিক আমাদেরই মনিটরিং করতে হয়। কিন্তু রাতে এ কাজে বিপত্তি ঘটে। কারণ ফ্লাইওভারের অধিকাংশ অংশে নেই লাইটিং সিস্টেম। ফলে ফ্লাইওভারে স্থাপিত সিসি ক্যামেরাগুলো কাজে আসছে না। দীর্ঘ সময়েও এ সমস্যার সমাধান আমরা পাইনি। অথচ দোষ চাপে শুধুই পুলিশের ওপর।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা