মৃতদের ৩৩ ভাগই শিশু

আগের সংবাদ

সালমান শাহ বিহীন ২৩ বছর

পরের সংবাদ

২০২১ সালে কার্যকর

পরীক্ষা থাকছে না তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯ , ১১:১২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

Avatar

বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত যে ধরনের পরীক্ষা নেয়া হয়, ২০২১ সাল থেকে সেই প্রথাগত পরীক্ষা থাকবে না। শ্রেণিকক্ষেই ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আকরাম আল হোসেন এই কথা জানান।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ‘বহুভাষায় সাক্ষরতা, উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এই দিবসটি পালন করা হবে। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০০৫ সালে ছিল ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা না নেয়ার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কত দূর এগিয়েছে সাংবাদিকদের এ রকম এক প্রশ্নের উত্তরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, ২০২১ সাল থেকে প্রাথমিকে নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হবে। তার আগে আগামী বছর ১০০টি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা না নেয়ার বিষয়টি পরীক্ষামূলকভাবে দেখা হবে। এরপরের বছর ২০২১ সাল থেকে সারাদেশে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা পুরোপুরি তুলে দেয়া হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমাতে প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা এবং বার্ষিক পরীক্ষার বদলে সারা বছর ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা না রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বাচ্চাদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমানোর জন্য তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা না নেয়ার নির্দেশনা ছিল। সচিব বলেন, আমরা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে সভা করেছি। ২০২১ সালে নতুন কারিকুলামে কার্যক্রম শুরু করব। ২০২০ সালে সামেটিক পরীক্ষা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত রাখব না, ফরমেটিভ পরীক্ষা রাখব অর্থাৎ রাউন্ড দ্য ইয়ার তারা পরীক্ষা দেবে। সে ক্ষেত্রে ১০০টি স্কুলে ট্রাইআউট করব। এরপর ২০২১ সালে নতুন কারিকুলামে পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে। অর্থাৎ গতানুগতিক প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক এবং বার্ষিক পরীক্ষা থাকবে না। তবে সারা বছরই ক্লাসে মূল্যায়ন করা হবে। সচিব বলেন, শুধু পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীর আচার-আচরণ সব বিষয় মূল্যায়ন করে গ্রেড দেয়া হবে। অর্থাৎ রাউন্ড দ্য ইয়ার তারা পরীক্ষা দেবে।
২০২১ সালে নতুন কারিকুলামের পুরো বাস্তবায়ন হবে জানিয়ে সচিব বলেন, গতানুগতিক প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক এবং বার্ষিক পরীক্ষা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত থাকবে না। সারা বছরেই ক্লাসে মূল্যায়ন করা হবে। শুধু পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীর আচার-আচরণ সব বিষয় মূল্যায়ন করে গ্রেড দেয়া হবে। বাংলাদেশের ৬৫ হাজার ৫৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয় না, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। সরকারি প্রাথমিকে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু করা হয় ২০১৪ সালে। প্রাক-প্রাথমিকের প্রথম ব্যাচে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা ২০১৮ সালের প্রাথমিক সমাপনীতে অংশ নেয়। দেশের শিক্ষাবিদরা পঞ্চম শ্রেণির পিইসি পরীক্ষাও তুলে দেয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছেন, তবে তাতে সরকার সাড়া দিচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হবে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ফাইল চালাচালি চলছে।