রওশন এরশাদ সীমারেখা লঙ্ঘন করেছেন

আগের সংবাদ

সংগ্রামী জীবন ও সোনার বাংলা বিনির্মাণ

পরের সংবাদ

অরক্ষিত ফ্লাইওভার

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিন

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯ , ৮:৫৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৯, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

Avatar

রাজধানীর পরিবহনসেবায় ফ্লাইওভারগুলো কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এলেও রাতে অনেকের কাছে ভয়াবহ আতঙ্কের নাম। ফ্লাইওভারগুলোতে রাতের বেলায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে অহরহ। এমনকি হত্যাকাণ্ডও ঘটছে। এ ছাড়া মাদকসেবী ও যৌনকর্মীরা নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে ফ্লাইওভার। ফলে অন্ধকার ফ্লাইওভারে হরহামেশাই ছিনতাই বা হেনস্থার শিকার হন যাত্রী ও চালকরা। সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লাইটপোস্ট, রেলিং ও পানির পাইপসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও চুরি হয়ে যাচ্ছে। সন্দেহ নেই, ফ্লাইওভারগুলোর এমন ন্যক্কারজনক চিত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির দিকটিই স্পষ্ট করছে। ভোরের কাগজের গতকালের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অরক্ষিত ফ্লাইওভারের চিত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন ফ্লাইওভারের নিচে দিনদুপুরেই চলে ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি। একই স্থানে নিরাপদে মাদক সেবন করে অপরাধীরা সময়-সুযোগ বুঝে অংশ নেয় ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। আবার অনেক অপরাধী সাধারণ দর্শনার্থীর বেশে ফ্লাইওভারের ওপরে উঠে শিকারের আশায় অপেক্ষা করতে থাকে। তার সিগন্যাল পাওয়ার পরই অপর সহযোগীরা মোটরসাইকেলে করে ছিনতাইয়ে অংশ নেয়। মুহূর্তের মধ্যেই মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেট কার ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। ছিনতাইয়ে বাধা দিলে খুনাখুনির মতো ঘটনাও ঘটছে। গত ২৫ আগস্ট রাতে মালিবাগ ফ্লাইওভারে মিলন নামে একজন উবার চালককে হত্যার পর মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারী। এর আগে গত বছরের ২৮ মে ফ্লাইওভারের মালিবাগের অংশ থেকে বস্তাবন্দি এক নারীর দুই হাত ও দুই পা উদ্ধার করে রমনা থানা পুলিশ। এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ফ্লাইওভারে নজর আছে বলে মনে হয় না। বিশেষ করে মগবাজার ফ্লাইওভারে প্রায়ই রাতের বেলায় ছিনতাইয়ের কবলে পড়ছেন প্রাইভেট গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকরা। মহাখালী, খিলগাঁও, বনানী ও তেজগাঁও এলাকার ফ্লাইওভারেও নানা অপরাধ হচ্ছে। বেশিরভাগ সময় অপরাধ হচ্ছে রাতের আঁধারে। ফ্লাইওভারে লাইটপোস্ট না থাকায় এই সুযোগ নিচ্ছে তারা। নগরবাসীর দুর্ভোগ কমানোর জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফ্লাইওভার বানানো হলেও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। নগরজীবনে এমনিতেই সমস্যা ও ভোগান্তির শেষ নেই। তার ওপর নিরাপত্তার দুর্ভাবনা এভাবে বাড়তে থাকলে মানুষ যাবে কোথায়? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হলে ফ্লাইওভারে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। ফ্লাইওভারের নিচে গাড়ি পার্ক করে আড্ডা দেয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। ফ্লাইওভারের নিকটবর্তী থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের তৎপর হওয়া প্রয়োজন। অচল লাইটপোস্টগুলো সচল করতে হবে। বিশেষত মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারে এই সংকট প্রকট। এই ফ্লাইওভারে লাইটপোস্টগুলো অকার্যকর ও অচল বলে অধিকাংশ অংশজুড়ে বিরাজ করে ঘুটঘুটে অন্ধকার। পাশাপাশি ফ্লাইওভারে দ্রুত সিসিটিভি স্থাপন ও মনিটর করতে হবে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা