কাদেরই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান: মাসুদা এম রশীদ

আগের সংবাদ

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে

পরের সংবাদ

পেঁয়াজের বাজার অস্থির

বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত গুরুত্ব দিন

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯ , ৮:৪৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

অতি মুনাফালোভী পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের জিম্মি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘটনা নতুন নয়। হঠাৎ অস্বাভাবিক দাম বেড়ে অস্থির হয়ে উঠেছে পেঁয়াজের বাজার, যা সন্দেহাতীতভাবেই উদ্বেগজনক বলে প্রতীয়মান হয়। গতকাল বিভিন্ন খবরের কাগজে দেখা যায়, রাজধানীর প্রায় সব বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ দিন আগে এ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে। কুরবানির ঈদের পর সাধারণত মসলা জাতীয় এই পণ্যটির দাম কমে যায়। কিন্তু এবার উল্টো মূল্য বেড়ে গেছে। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে শুধু নিম্নবিত্ত নয়, সমাজের মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের নাভিশ্বাস চরমে উঠেছে। পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে এখনি নজর দেয়া উচিত। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি হিসাবে দেখা গেছে, দেশে বছরে ২২ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা আছে। আর চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়ে থাকে ১৯-২০ লাখ টন। পেঁয়াজের চাহিদার ৬০ ভাগ দেশীয় পেঁয়াজ দিয়ে পূরণ হয়। বাকিটা আমদানি করে মেটাতে হয়। গত কুরবানির ঈদের প্রায় এক মাস আগে থেকেই বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। সরকারি হিসাবে পেঁয়াজের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন ও জোগান পর্যাপ্ত হলেও বাজারে তার কোনো প্রভাব নেই। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, পেঁয়াজের জোগান কম। সরকারি হিসাব সঠিক নয়। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে কারো কারসাজি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান সারা বছর অব্যাহত রাখা দরকার। পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হলে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে হতদরিদ্র মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়ে। কাজেই নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতা দূর করার জন্য সময়মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি ক্ষেত্রেই সিন্ডিকেটের আস্ফালন লক্ষণীয়। তবে এটা নতুন কিছু নয়, সাংবার্ষিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্য তো বটেই, সেবা খাতেও সিন্ডিকেটের হস্তক্ষেপ প্রকট। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এ চক্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এরা ইচ্ছামতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে অনায়াসে অন্যায্যভাবে বিপুল মুনাফা লুটে নিচ্ছে। আমরা মনে করি, বাজার পরিস্থিতি পাল্টানোর জন্য সবার আগে প্রয়োজন বিক্রেতাদের অসৎ, লোভী ও প্রতারণামূলক মানসিকতার পরিবর্তন। এই পরিবর্তন কবে ঘটবে তার জন্য অপেক্ষা করে নিষ্ক্রিয় বসে থাকলে চলবে না। এর জন্য রাষ্ট্র-সমাজের সচেতন দায়িত্বশীল মহলকে ভূমিকা রাখতে হবে। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠা এবং পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরা দামের তফাতসহ সার্বিক বিষয়গুলো আমলে নিন।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা