এনজিওগুলোর প্ররোচনায়ই ভাসানচরে বিমুখ রোহিঙ্গারা

আগের সংবাদ

দুর্গাপূজায় ‘আনন্দ’ থাকছে না হিন্দুদের

পরের সংবাদ

ভোরের কাগজের সঙ্গে সাক্ষাৎকার

সড়কে শৃঙ্খলা ও থানায় সেবার মান যথাযথ নয় : আছাদুজ্জামান মিয়া

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯ , ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯, ১:০৭ অপরাহ্ণ

Avatar

রাজধানীতে গত সাড়ে ৪ বছরে ব্যক্তিগত কোনো গাড়ি রিকুইজিশন করা হয়নি। বছরে ৪/৫ কোটি টাকার গাড়ি ভাড়া করে চলছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কার্যক্রম। এ জন্য সরকারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে। মটরযান আইনে মামলা ও জরিমানা আদায় হচ্ছে ডিজিটালভাবে। সব মিলিয়ে নগরবাসীর স্বস্তি আনতে ঢাকা মহানগরীর ৩৪ হাজার পুলিশ সদস্য একযোগে কাজ করছে। যাদের মধ্যে ৩৭২ জন বিসিএস কর্মকর্তা রয়েছেন। অবশ্য ডিএমপিতে অনেক সাফল্যের মাঝে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এখনো থানায় জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত হয়নি। সড়কে শৃঙ্খলা আশানুরূপ হয়নি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিদায়ী কমিশনার পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি আছাদুজ্জামান মিয়া গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ভোরের কাগজকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে সফলতা এসেছে। এ পর্যন্ত ৭২ লাখের অধিক নগরবাসীর তথ্য ডাটাবেজের মাধ্যমে (সিআইএমএস) সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা অপরাধী শনাক্তে ও অপরাধ কমাতে কাজ করছে। টেকসই এই ব্যবস্থার সুফল পাচ্ছে নগরবাসী। কোনো অপরাধী ঠিকানা বদল করেও পার পাচ্ছে না। ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম চলছে। চলতি বছর এ সংখ্যা এক কোটি ছাড়াবে বলে তিনি আশা করেন। কোনো বাজেট ছাড়াই রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে পুলিশ এটা করছে।

তিনি বলেন, কমিউনিটি ও বিট পুলিশের মাধ্যমে সামাজিক নেটওয়ার্ক বাড়ানো হয়েছে। উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ঢাকায় এ পর্যন্ত লক্ষাধিক উঠোন বৈঠক হয়েছে। ৫০টি থানায় ৩০২টি বিট পুলিশ কাজ করছে। তারা সমস্যা চিহ্নিত করে পুলিশকে সহায়তা করায় জঙ্গি কার্যক্রম নির্মূল করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক সন্ত্রাস অনেক কমে এসেছে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সবার সহযোগিতার কারণে উল্টোপথে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। ‘পুলিশ জনগণের প্রভু নয় সেবক’ এই মানসিকতায় এনে ডিএমপিতে একটা টিম স্প্রিড তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে পেশাদারত্ব থেকে সবাই এক সুরে একযোগে কাজ করে।
টানা সাড়ে চার বছরে অনেক অর্জনের মধ্যে থানায় সেবার মান কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নিতে না পারার কষ্ট থেকে তিনি বলেন, সেবার মানে উন্নতি এলেও পুরোপুরি সফলতা আসেনি। আরো কাজ করতে হবে। অনেক দূর যেতে হবে। তবে এ জন্য অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জনবল, যানবাহন, আবাসন ও প্রযুক্তির সংকটসহ নানাবিধ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে কাক্সিক্ষত সেবার মান ও পরিবেশ তৈরি হবে। এ ছাড়া পুলিশের আইনি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে আরো সময় লাগবে। এ জন্য যেসব কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজধানীর সড়কে আশানুরূপ শৃঙ্খলা আসেনি। উন্নতি হয়নি যানজট পরিস্থিতির।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন রাস্তার উন্নয়ন করে, ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি ও বাস বে নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ভৌত অবকাঠামো যথাযথভাবে না হওয়ায় যানজট নিরসনে পুলিশ কাক্সিক্ষত সাফল্য পায়নি। র‌্যাপিড বাস ট্রান্সপোর্ট (বিআরটি), ইউলুফ, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভারের কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ হলে যানজট পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি।