এনজিওগুলোর প্ররোচনায়ই ভাসানচরে বিমুখ রোহিঙ্গারা

আগের সংবাদ

দুর্গাপূজায় ‘আনন্দ’ থাকছে না হিন্দুদের

পরের সংবাদ

আছাদুজ্জামান মিয়া

সড়কে শৃঙ্খলা ও থানায় সেবার মান যথাযথ নয়

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯ , ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ

Avatar

রাজধানীতে গত সাড়ে চার বছরে ব্যক্তিগত কোনো গাড়ি রিকুইজিশন করা হয়নি। বছরে ৪/৫ কোটি টাকার গাড়ি ভাড়া করে চলছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কার্যক্রম। এ জন্য সরকারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে। মটরযান আইনে মামলা ও জরিমানা আদায় হচ্ছে ডিজিটালভাবে। সব মিলিয়ে নগরবাসীর স্বস্তি আনতে ঢাকা মহানগরীর ৩৪ হাজার পুলিশ সদস্য একযোগে কাজ করছে। যাদের মধ্যে ৩৭২ জন বিসিএস কর্মকর্তা রয়েছেন। অবশ্য ডিএমপিতে অনেক সাফল্যের মাঝে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এখনো থানায় জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত হয়নি। সড়কে শৃঙ্খলা আশানুরূপ হয়নি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিদায়ী কমিশনার পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি আছাদুজ্জামান মিয়া মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ভোরের কাগজকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র বিপোর্টার কামরুজ্জামান খান

ভোরের কাগজ: সন্ত্রাস ও জঙ্গি নির্মূলে ডিএমপির সফলতা কতটুকু?
আছাদুজ্জামান মিয়া: সফলতা অবশ্যই এসেছে। এ পর্যন্ত ৭২ লাখের অধিক নগরবাসীর তথ্য ডাটাবেজের মাধ্যমে (সিআইএমএস) সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা অপরাধী শনাক্তে ও অপরাধ কমাতে কাজ করছে। টেকসই এই ব্যবস্থার সুফল পাচ্ছে নগরবাসী। কোনো অপরাধী ঠিকানা বদল করেও পার পাচ্ছে না। ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম চলছে। চলতি বছর এ সংখ্যা এক কোটি ছাড়াবে বলে আশা করছি। কোনো বাজেট ছাড়াই রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে পুলিশ এটা করছে

ভোরের কাগজ: সন্ত্রাস নির্মূলে জনগণের সম্পৃক্ততা আছে কী?
আছাদুজ্জামান মিয়া: কমিউনিটি ও বিট পুলিশের মাধ্যমে সামাজিক নেটওয়ার্ক বাড়ানো হয়েছে। উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে জনগণকে পুলিশের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ঢাকায় এ পর্যন্ত লক্ষাধিক উঠোন বৈঠক হয়েছে। ৫০টি থানায় ৩০২টি বিট পুলিশ কাজ করছে। তারা সমস্যা চিহ্নিত করে পুলিশকে সহায়তা করায় জঙ্গি কার্যক্রম নির্মূল করা যাচ্ছে। রাজনৈতিক সন্ত্রাস অনেক কমে এসেছে।

ভোরের কাগজ: এক্ষেত্রে পুলিশের পেশাদারিত্ব কতটা বেড়েছে?
আছাদুজ্জামান মিয়া: ‘পুলিশ জনগণের প্রভু নয়, সেবক’ এই মানসিকতায় এনে ডিএমপিতে একটা টিম স্পিরিট তৈরি করা হয়েছে। এখানে পেশাদারত্ব থেকে সবাই এক সুরে একযোগে কাজ করে। যদিও টানা সাড়ে চার বছরে অনেক অর্জনের মধ্যে থানায় সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে না পারার অসম্পূর্ণতা আছেই। সেবার মানে উন্নতি এলেও পুরোপুরি সফলতা আসেনি। আরো কাজ করতে হবে। অনেক দূর যেতে হবে। তবে এ জন্য অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। জনবল, যানবাহন, আবাসন ও প্রযুক্তির সংকটসহ নানাবিধ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে কাঙ্ক্ষিত সেবার মান ও পরিবেশ তৈরি হবে। এ ছাড়া পুলিশের আইনি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে আরো সময় লাগবে।

ভোরের কাগজ: রাজধানীর সড়কে এখনও শৃঙ্খলা ফেরেনি। কেন?
আছাদুজ্জামান মিয়া: রাজধানীর সড়কে আশানুরূপ শৃঙ্খলা যেমন আসেনি, তেমনি যানজট পরিস্থিতির উন্নতিও হয়নি। তবে সবার সহযোগিতার কারণে উল্টোপথে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। সিটি করপোরেশন রাস্তার উন্নয়ন করে, ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি ও বাস নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ভৌত অবকাঠামো যথাযথভাবে না হওয়ায় যানজট নিরসনে পুলিশ কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। র‌্যাপিড বাস ট্রান্সপোর্ট (বিআরটি), ইউলুফ, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভারের কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ হলে যানজট পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হবে।