৮ উপজেলায় ভোট ১৪ অক্টোবর

আগের সংবাদ

এরশাদের আসন নিয়ে পুত্র-ভাতিজা-ভাগ্নির কাড়াকাড়ি

পরের সংবাদ

মুশফিকের সামনে রেকর্ডের হাতছানি

খেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯ , ১০:২৪ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে মুশফিকুর রহিম নিজেকে একটা কারণে ভাগ্যবান ভাবতেই পারেন। কেননা, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেক হয়েছে ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেন্যু হিসেবে খ্যাত লর্ডসে। সময়টা ২০০৫ সালের ২৬ মে। ওই দিন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে টেস্ট খেলতে নামে টাইগাররা। এই ম্যাচ দিয়েই জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয় মুশফিকুর রহিমের। এরপর দেখতে দেখতে কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ সময়ে মুশফিকের ক্যারিয়ারে অনেক উত্থান-পতন হয়েছে। এসেছে দুঃসময়ও। আর এসবের মধ্য দিয়ে আরো পরিণত হয়েছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের পঞ্চপাণ্ডবের একজন তিনি। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি তিন ধরনের ফরম্যাটেই তিনি জাতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। আগামীকাল থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট। অনন্য এক রেকর্ডকে সামনে রেখে এই টেস্টে মাঠে নামবেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল হিসেবে খ্যাত মুশফিক। চট্টগ্রাম টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৩২২ রান করতে পারলেই তামিম ইকবালকে পেছনে ফেলে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের রেকর্ডটি এককভাবে নিজের করে নেবেন বগুড়ার এই ক্রিকেটার।

মুশফিকুর রহিম ইতিহাসের ছাত্র- এ কথা এতদিনে নিশ্চয়ই সবারই জানা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা মুশফিক শুধু ইতিহাস পড়ার ক্ষেত্রেই নয়, ইতিহাস গড়ার ক্ষেত্রেও ওস্তাদ। ব্যাট ও গ্লাভস হাতে এর মধ্যেই অনেক ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন তিনি। গত বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অপরাজিত ২১৯ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস খেলেন মুশফিক। এই ইনিংসটির মধ্য দিয়েই তিনি গড়েছেন নতুন এক ইতিহাস। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি। মুশফিকই একমাত্র উইকেটকিপার যার টেস্টে ২টি ডাবল সেঞ্চুরি রয়েছে। মুশফিক ছাড়া অন্য কোনো উইকেটকিপার টেস্টে দুইবার দ্বিশতক রানের ইনিংস খেলতে পারেননি। এ ছাড়া এটিই বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১৭ রানের ইনিংসটি সাকিব আল হাসানের।

সবচেয়ে বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলা টাইগার ক্রিকেটার মুশফিক। তিনি এ পর্যন্ত ৬৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মোহাম্মদ আশরাফুল খেলেছেন ৬১টি টেস্ট। উইকেটকিপার হিসেবে সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলা বাংলাদেশি ক্রিকেটারও তিনি। শুধু টেস্টই নয়, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিও খেলার ক্ষেত্রেও তিনি অন্য সব টাইগার উইকেটরক্ষকদের চেয়ে ঢের এগিয়ে আছেন। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সব ফরম্যাটের ক্রিকেটেই গ্লাভস হাতে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসাল করা টাইগার ক্রিকেটার তিনি। এ পর্যন্ত টেস্টে ১১২টি, ওয়ানডেতে ২২৩টি ও টি-টোয়েন্টিতে ৫৮টি ডিসমিসাল করেছেন মুশফিক।

সতীর্থদের সঙ্গে জুটি গড়ার ক্ষেত্রেও অতুলনীয় এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুশফিকের নাম। ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে সাকিবের সঙ্গে ৩৫৯ রানের জুটি গড়েন তিনি, যা যে কোনো উইকেটে টেস্টে টাইগারদের সর্বোচ্চ রানের জুটি। ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে মুমিনুল হকের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ২৩৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। এটি টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড। টেস্টে বাংলাদেশ দলকে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়ার রেকর্ডটিও মুশফিকের দখলে। ৩৪টি টেস্টে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে টাইগাররা জিতেছে ৭টিতে। এ ছাড়া ১৮টিতে হেরেছে এবং ৯টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

আগেই বলা হয়েছে, কেবল ইতিহাস পড়ার ক্ষেত্রেই নয়, ইতিহাস গড়ার ক্ষেত্রেও দারুণ পটু মুশফিকুর রহিম। এবার তার সামনে টেস্ট ক্রিকেটে দেশের সর্বোচ্চ রানের মালিক হওয়ার হাতছানি। ৬৬ টেস্টে তার নামের পাশে আছে এখন ৪০০৬ রান, যা বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর তালিকার শীর্ষে থাকা তামিমের রান ৫৮ টেস্টে ৪৩২৭। আফগানদের বিপক্ষে আসন্ন টেস্টে দেশসেরা ওপেনার তামিম খেলছেন না। তাই মুশফিকের জন্য তাকে পেছনে ফেলাটা আরো সহজ হলো। মিস্টার ডিপেন্ডেবল নিশ্চয়ই ঘরের মাঠে এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন না। এ ক্ষেত্রে মুশফিকের অনুপ্রেরণা হতে পারে আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচের ভেন্যু। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে তার পারফরমেন্স বেশ ভালো। এই মাঠে ১৫ টেস্টে ২৭ ইনিংসে ব্যাটিং করে ১ সেঞ্চুরি ও ৭ হাফসেঞ্চুরিতে ৪২.৮৮ গড়ে ১১১৫ রান করেছেন তিনি।