আ.লীগের বিদ্রোহীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ৮ সেপ্টেম্বর শুরু

আগের সংবাদ

সাকিবদের টেস্ট জার্সি উন্মোচন

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক

বিটিআরসির নির্দেশনা আমলে নিতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯ , ৯:০৮ অপরাহ্ণ

মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারী লাখ লাখ রোহিঙ্গার হাতে বাংলাদেশি সিম ব্যবহার হওয়ায় সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। রোহিঙ্গারা নিজেদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আর খবর আদান-প্রদানে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য পাচার, মাদক পাচার এমনকি খুনাখুনির মতো ঘটনা ঘটছে। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও গুরুত্ব বিবেচনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসুরক্ষার স্বার্থে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোবাইল সুবিধা বন্ধের জন্য দেশের সব মোবাইল অপারেটরকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। রোহিঙ্গারা যেন মোবাইল ফোনের সুবিধা না পায়, তা আগামী সাতদিনের মধ্যে নিশ্চিত করতে গত রবিবার চিঠি পাঠানো হয়েছে অপারেটরগুলোর কাছে। আশা করছি, অপারেটরগুলো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নিবে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে মোবাইল কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্ক কাভারেজ কক্সবাজার সীমান্তের জিরো লাইনের মধ্যে রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। এরপর ২০১৭ সালে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব বিবেচনায় কক্সবাজার এবং উখিয়া এলাকায় অস্থায়ীভাবে বিটিএস স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয়। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সিম বিক্রির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সরকারের সব নির্দেশনা উপেক্ষা করে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরের সম্মুখে কতিপয় লোভী ব্যবসায়ী অন্তত অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোনের দোকান বসিয়েছে। সেখানে স্থানীয়দের বিভিন্ন নামে সিম বিক্রি দেখিয়ে তা রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবিরে প্রায় চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে চলেছে বলে গণমাধ্যমের খবরে বিভিন্ন সময় উঠে আসছে। স্থানীয়দের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সিম নিবন্ধন করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী তা তুলে দিয়েছে তাদের হাতে। এসব সিম ব্যবহার করে অপরাধমূলক নানা কাজের অভিযোগ উঠেছে কিছু রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে। শুধু মোবাইল সিম নয়, ক্যাম্পগুলোতে থ্রিজি নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট ও স্থানীয়ভাবে ব্রডব্যান্ড লাইনও ব্যবহার করছে রোহিঙ্গারা। সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গাদের বিশাল সমাবেশের ভিডিও হাজার হাজার মোবাইলে ধারণ করতে দেখা গেছে। ওই দিন রোহিঙ্গা ভাষার সব অনলাইন টিভির প্রধান খবর ছিল উখিয়ায় রোহিঙ্গা সমাবেশ। সৌদি আরব, পাকিস্তান, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব টিভি পরিচালনা করে প্রবাসী রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের নিয়ে খবরের ফুটেজগুলো আবার বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে শেয়ার দেয়া হয়। এসব ফেসবুক গ্রুপ ও পেজ নিয়ন্ত্রণ করে প্রবাসী রোহিঙ্গা ও ক্যাম্পে থাকা কিছু রোহিঙ্গা তরুণ। বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের অনিবন্ধিত সিম বিক্রি বেআইনি। আর মোবাইল সিম নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র দরকার হয়। এ নিয়ম অনুসরণ করা হলে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বৈধভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের হাতে মোবাইল ফোন কীভাবে আসছে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।