চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষায়

আগের সংবাদ

টাইগারদের কঠোর অনুশীলন

পরের সংবাদ

কাশ্মির ও আমরা

শেখর দত্ত

রাজনীতিক ও কলাম লেখক

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯ , ৯:১৮ অপরাহ্ণ

মানবসমাজের অংশ হিসেবে এবং বিশেষভাবে আমাদের জাতিরাষ্ট্রের জন্মলগ্নের কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে এটা কোনোক্রমেই ভুলে যাওয়া যাবে না যে, কাশ্মির প্রশ্নে আমাদের নীতিগত অবস্থান থাকবে। কিন্তু নীতি কখনো বাস্তবভিত্তিক কৌশলকে এড়িয়ে চলতে পারে না। নীতি-কৌশল সবসময়ে থাকে জড়াজড়ি করে। নীতিগত অবস্থান নিঃসন্দেহে হবে কাশ্মিরবাসীর মতামতের ভিত্তিতে। কিন্তু এই নীতি নিয়ে কি আমরা বসে থাকতে বা অগ্রসর হতে পারি? পারি না। কেননা আণবিক অস্ত্রধারী তিন দেশ ভাগাভাগি করে রেখেছে কাশ্মিরকে।

কাশ্মির নিয়ে আমাদের দেশে যখন উত্তেজনা ছড়ায়, তখন ‘আমায় ভাসাইলিরে আমায় ডুবাইলিরে…’ গানটি মনে পড়ে। পাকিস্তান রাষ্ট্রটির সঙ্গে সঙ্গেই যেহেতু বেড়ে উঠেছি, তাই বুঝ হতে না হতেই কাশ্মির নিয়ে উত্তেজনা স্বাভাবিকভাবেই আমাকে স্পর্শ করত। ষাটের দশকের প্রথমদিকে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত ‘ভূস্বর্গ’ নিয়ে পাকিস্তান ও হিন্দুস্তানের লড়াইকে স্বর্গ নিয়ে দেবতা ও অসুরদের লড়াই বলে মনে হতো। সম্প্রদায়গত অবস্থানের কারণে দেবতা ছিল ভারত আর অসুর পাকিস্তান। হবিগঞ্জ শহরে স্কুলে-পাড়ায় হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সমবয়সীদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব ছিল। তা সত্ত্বেও হিন্দু বন্ধুরা কখনো মুসলিম বন্ধুদের সঙ্গে কাশ্মির নিয়ে আলোচনা করতাম না। জানতাম, দেবতা-অসুর নিয়ে আমাদের মধ্যে বিপরীত চিন্তা রয়েছে। যতটুকু মনে পড়ে ’৬১ সালে যখন রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালন নিয়ে সেই ছোট শহরটিতেও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ায়, তখন কাশ্মির নিয়ে কী যেন একটা গণ্ডগোল (পরে জেনে নিয়েছি ওটা ছিল ভারত ও পাকিস্তানের প্রথম আলোচনায় ‘চেনাব ফর্মুলা’ তথা লাইন অব কন্ট্রোল চেনাব নদী চুক্তি গৃহীত হওয়ার আগের উত্তেজনা) চলছিল। ওই দিনগুলোতে কাশ্মির নিয়ে ভারত-পাকিস্তান বৈরিতার সঙ্গে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালন ও রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রচার বন্ধের বিষয়টা জড়িয়ে গিয়েছিল। হঠাৎ করেই যেন মন্ত্রবলে পাল্টে গেল দৃশ্যপট। কাশ্মির নিয়ে পূর্ব বাংলার জনগণের মতামত আর আমার কাছে উল্লিখিত গানটি সত্য হয়ে উঠল।
১৯৬৪ সালের জানুয়ারি মাস। তখন নটর ডেম কলেজে পড়ি আর রামকৃষ্ণ মিশনের বিবেকানন্দ ছাত্রবাসে থাকি। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা সামনে, তাই পড়াশোনা নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। হঠাৎই আইয়ুব-মোনায়েম সরকারের উসকানি ও প্রশ্রয়ে কাশ্মিরের ঘটনা নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে বেধে গেল দাঙ্গা। রক্তে রঞ্জিত হয়ে ডুবতে গিয়েছিল আমাদের মানচিত্র। নিজেও ডুবন্ত। প্রায় আক্রান্ত হয়ে পালিয়ে যখন জগন্নাথ হলে আশ্রয় নিলাম, তখন লুট হয়ে গেল হোস্টেল থেকে বইখাতা, জিনিসপত্র সব। সোনারগাঁওয়ের গ্রামের বাড়ি (এখন লোকশিল্প জাদুঘরের অংশ) লুটপাট আর অগ্নিসংযোগে গেল ধুলায় মিশে। কিন্তু ওই দাঙ্গার ভেতর দিয়ে ভেসে উঠল ভাষা আন্দোলনের ভেতর দিয়ে সৃষ্ট বাঙালি জাতীয়তাবাদ। ‘পূর্ব বাংলা রুখিয়া দাঁড়াও’ স্লোগান নিয়ে এগিয়ে এলেন শেখ মুজিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগ, ন্যাপ, গোপন কমিউনিস্ট পার্টির নেতাসহ বুদ্ধিজীবীরা। অন্ধকারে জেগে উঠল আলো। জাতশত্রুরা কাশ্মিরের ঘটনা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যবহার করে আমাদের ডুবাতে চেয়েছিল, কিন্তু ভেসে উঠল বাংলা মা।
১৯৬৫ সাল। আবারো সেই কাশ্মির। বেধে গেল ওই উপত্যকা নিয়ে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে রাজনীতিতে জড়িয়ে গেছি। যুদ্ধ বেধে যাওয়ার পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভুট্টো বললেন, ঘাস খেয়ে হলেও তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। ওই যুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণ অরক্ষিত। এবারো এগিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। স্লোগান তুললেন, ‘পূর্ব পাকিস্তান অরক্ষিত কেন?’ কাশ্মির ইস্যু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়া আমাদের এবারো ডুবাতে চেয়েছিল। কিন্তু এর ভেতর দিয়ে আমাদের জাতিসত্তার সংগ্রাম নতুন উচ্চতায় উন্নীত হলো। ডুবতে গিয়ে বাঙালি পেল শেখ মুজিবের ৬ দফা আর ছাত্র সমাজের ৬ দফা সংবলিত ১১ দফা। পেল জয় বাংলা স্লোগান। ছিনিয়ে আনল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। বলাই বাহুল্য কাশ্মির সংক্রান্ত ওই দুই ইস্যু আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করেছে।
ঘুরেফিরে ২০১৯ সালে আবারো কাশ্মির ইস্যুতে বাঙালি মেতেছে। সর্বত্র কাশ্মির নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা, তর্কবিতর্ক। কিছু বলতে সজাগ থাকতে হয়। একটু এদিক-ওদিক হলেই সাম্প্রদায়িক তকমা জুটে যেতে পারে। এমন স্পর্শকাতর যখন অবস্থা, তখন বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও অতীত অভিজ্ঞতা স্মরণে আসছে। কাশ্মির ইস্যু অতীত থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করে সাম্প্রদায়িকতা বা বিভাজন ছড়াতে চায়। বাধে তর্কবিতর্ক-গোলমাল, এমনকি দাঙ্গাও। এই ইস্যুতে আমাদের চিন্তার জগৎ হয় আলোড়িত। তবে শেষ পর্যন্ত এই ইস্যু বাঙালি জীবনে অভিশাপ না হয়ে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। জাতীয়তাবাদের ঝান্ডাকে আরো উচ্চতায় নিয়ে যায়।
বাংলাদেশ থেকে ১,৭৪৬ কি.মি. দূরের কাশ্মির উপত্যকা নিয়ে জড়িত তিন দেশ ভারত-পাকিস্তান-চীন। তিন দেশের নিয়ন্ত্রণে বিভক্ত হয়ে আছে এই উপত্যকা। এই তিন দেশের মধ্যেই কাশ্মিরিদের গণতান্ত্রিক অধিকার, স্বশাসন বা আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার বা আজাদী প্রদানের বিষয়টি অগ্রাধিকারে নেই। চিন্তায়ও নেই। সর্বৈবভাবে রয়েছে ভৌগোলিক-রাজনৈতিক-সামরিক স্বার্থ। এই স্বার্থের টানাটানিতেই কাশ্মির ত্রিখণ্ডিত। মানচিত্রের অবস্থান কাশ্মিরকে যেমন ভূস্বর্গ বানিয়েছে, তেমনি চরম দুর্ভাগ্যের শিকারে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান ব্যবহার করছে ধর্ম আর ভারত উপমহাদেশ বিভক্তির সময়ে দেশীয় রাজাদের স্বেচ্ছায় যোগদানের ঐকমত্যের বিষয়টি সামনে আনছে। এক পথে হয়নি তো আরেক পথে গেছে। সবচেয়ে আগ্রহোদ্দীপক ব্যাপার হচ্ছে, পাকিস্তান ও ভারত দুই দেশের ক্ষমতার রাজনীতিই প্রথম থেকে কাশ্মির ইস্যুকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিতে ব্যবহার করছে। এই বিচারে কাশ্মির হচ্ছে বাংলা-পাঞ্জাবের আগে উপমহাদেশের রাজনীতির এক নম্বর বলির পাঠা। প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশ কাশ্মিরের সঙ্গে একবারেই জড়িত নয়। তাই যখন যে শক্তি ধর্মীয় দিকটি সামনে এনে কাশ্মিরকে আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বা জনগণকে উত্তেজিত করতে গেছে বা জড়িত করে রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে চেয়েছে, তখনই সেই শক্তি ডুবেছে। এই দিকটি বিবেচনায় এনেই স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশেষভাবে ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের চলমান বিবাদ-যুদ্ধ ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশ হবে এশিয়ার সুইজারল্যান্ড। বলাই বাহুল্য কাশ্মির নিয়ে যখন আমরা আলোচনা করব বা উত্তেজনা ছড়াব, তখন জন্মলগ্নের নীতিগত এই দিকটি আমাদের স্মরণে রাখতেই হবে।
মানবসমাজের অংশ হিসেবে এবং বিশেষভাবে আমাদের জাতিরাষ্ট্রের জন্মলগ্নের কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে এটা কোনোক্রমেই ভুলে যাওয়া যাবে না যে, কাশ্মির প্রশ্নে আমাদের নীতিগত অবস্থান থাকবে। কিন্তু নীতি কখনো বাস্তবভিত্তিক কৌশলকে এড়িয়ে চলতে পারে না। নীতি-কৌশল সবসময়ে থাকে জড়াজড়ি করে। নীতিগত অবস্থান নিঃসন্দেহে হবে কাশ্মিরবাসীর মতামতের ভিত্তিতে। কিন্তু এই নীতি নিয়ে কি আমরা বসে থাকতে বা অগ্রসর হতে পারি? পারি না। কেননা আণবিক অস্ত্রধারী তিন দেশ ভাগাভাগি করে রেখেছে কাশ্মিরকে। কেউ তিল পরিমাণ জমি ছাড়বে না। এই অবস্থায় কাশ্মিরের স্বাধীনতা বর্তমানে পিতলের মাটির কলস। চীন প্রথম থেকেই কাশ্মিরের ভূমিকে দেশের অংশ করে নিয়েছে, এখন ভারত দেশের অংশ করে নিল। কেবল পাকিস্তান আছে ‘আজাদ’ নিয়ে। পাকিস্তান তো চীনের অংশ নিয়ে কিছু বলে না! আর এই আজাদ কোন ধরনের, তা আমাদের ১৯৪৭ থেকে ’৭১ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা থেকে সুস্পষ্ট। তবে আমরা ছিলাম ১ হাজার মাইল দূরে আর কাশ্মির তো সংলগ্ন। বিদ্যমান এই অবস্থায় আমরা যদি কেবল নীতিগত অবস্থান তথা কাশ্মিরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার বা স্বাধীনতা নিয়ে মুখরোচক প্রচার করতে থাকি, তবে তা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িক ধারার পক্ষে যে বাতাস জোগাবে, তা বোধকরি বলার অপেক্ষা রাখে না।
সর্বোপরি একটা দিক বিবেচনায় নেয়ার প্রয়োজন, যদি ১৯৭১ সালে ধর্মভিত্তিক বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উঠত, তবে আদৌ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জাতি দাঁড়াত না। ‘মুসলিম বাংলা’ চিন্তা তখন ছিল, কিন্তু জাতি তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আর বর্তমান দিনগুলোতে বিশ্ব ও জাতীয় পরিস্থিতি যখন ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার দিকে ঝুঁকছে, তখন কাশ্মিরের স্বাধীনতা বলার অর্থ কী দাঁড়াবে? বাস্তবে তিন- বিশেষত দুই দেশের পাল্লায় পড়ে কাশ্মিরিরা এখনো ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ জাতিসত্তা নিয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এমন কোনো ভালো উদাহরণ নেই, যাতে বলা যাবে কাশ্মির স্বাধীন হলে সেই উপত্যকার সংখ্যলঘুরা নিরাপদ আশ্রয় পাবে। বরং উল্টো ঘটনাও সেখানে ঘটেছে। তাই নীতি সামনে এনে কাশ্মিরিদের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ানো মানে বিদ্যমান বাস্তবতায় সোনার পাথরবাটির পক্ষে বিশেষভাবে পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়ানো। আরো একটি পাকিস্তান বা পাকিস্তান অধিকৃত অঞ্চলের পক্ষে দাঁড়ানো। বাস্তব বিচারে এই অবস্থান নীতিগত দিক থেকে বলা আমাদের জন্য আদৌ সঙ্গত হবে না।
নিজেদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা করার জন্য তাই নীতির চেয়েও কৌশলের দিকটি জাতীয় স্বার্থে সামনে আনা প্রয়োজন। ভারতের অভ্যন্তরেই বর্তমান বিজেপি সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে ভিন্ন মতামত রয়েছে। বর্তমান দিনগুলোতে ভারতকে কাশ্মিরে কঠিন অবস্থার মোকাবেলা করতে হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ভারতের ভাবমূর্তি আজ প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও ভারত একঘরে হয়নি। পাকিস্তান প্রায় একঘরে। জন্মলগ্নের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, ‘পঞ্চশীলা নীতি’ থেকে ভারত সরে এসে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক সংকট হচ্ছে ধর্ম বা উগ্র জাতীয়তাবাদের অনুষঙ্গ, যুদ্ধবিগ্রহের জন্মদাত্রী। এই দিকটি বিবেচনায় নিয়ে কাশ্মির উপত্যকার পরিস্থিতির দিকে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করার প্রয়োজন রয়েছে। অবস্থা পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, উত্তেজনা বা যুদ্ধের কেন্দ্র এখন মধ্যপ্রাচ্য বা কোরিয়া উপদ্বীপ থেকে সরে উপমহাদেশে চলে এসেছে। তিন পারমাণবিক শক্তিধর দেশ কাশ্মির উপত্যকায় মুখোমুখি। এমন মুখোমুখি অবস্থান বিশ্বের আর কোথাও নেই। তাই ওই ‘হট বেড’ থেকে দূরে থাকলেও আমরা আসলেই নিরাপদে নেই। আণবিক বোমা নিয়ে কখন কোন দেশ মাথা গরমের কাজ করে, তা বলা আসলেই কঠিন। পাকিস্তান কোন মাস থেকে সর্বাত্মক যুদ্ধ বাধাবে, তা ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে। ভারত বলে দিয়েছে, প্রথমে আণবিক অস্ত্র ব্যবহার করব না নীতিতে থাকতে নাও পারি। চীন সীমান্তে নতুন করে সৈন্য সমাবেশ করছে। উত্তেজনা-হুমকি চরমে।
এই অবস্থায় আমাদের যথাযথ কৌশল গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, যুদ্ধ বাধলে বাংলাদেশ ভারতের পক্ষে অবস্থান নেবে। কোন পরিস্থিতিতে কোন বিবেচনায় তিনি এমন বললেন, তা সুস্পষ্ট নয়। বর্তমানে এশিয়া বিশেষত উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ আছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মহাসড়কে, সুবিধাজনক অবস্থায়। কোন কৌশলে নিয়ে সুযোগের সদ্ব্যবহার করে আমরা ইপ্সিত লক্ষ্যকে অবারিত করতে পারি, সেই কৌশল ধরে অগ্রসর হওয়াই হবে আমাদের প্রধান দেশপ্রেমিক ও জনকল্যাণকামী কর্তব্য।

শেখর দত্ত : রাজনীতিক ও কলাম লেখক।