বিমানবন্দরে বাবুস সালাম মার্কেটে হামলা, আহত ৩

আগের সংবাদ

র‌্যাবের হাতে ৯ চাঁদাবাজ আটক

পরের সংবাদ

মির্জা ফখরুল ইসলাম

২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেয়া বড় ভুল

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৯ , ১২:১৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯, ৫:১৫ অপরাহ্ণ

Avatar

বিএনপির সবচেয়ে বড় ভুল ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেয়া। ওই নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপিকে এখনকার মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতো না। তবে বাস্তবতা মেনে নিয়েই তা মোকাবেলার চেষ্টা করছে বিএনপি।
ক্ষমতাসীনদের হামলা মামলার মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বিএনপি। দল গুছিয়ে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে মাঠে নামব আমরা। এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে ভোরের কাগজকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকারে দল পুনর্গঠন ও আন্দোলনের পরিকল্পনার পাশাপাশি বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ফখরুল। কথা বলেন, জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও। বিস্তারিত তুলে ধরা হলো প্রশ্নোত্তর আকারে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রতিবেদক রুমানা জামান

ভোরের কাগজ : দল পুনর্গঠন ও আন্দোলন নিয়ে পরিকল্পনা কি?
মির্জা ফখরুল : সংগঠন ও আন্দোলন দুটোই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। কখনোই আন্দোলন সফল হয় না যদি একটি শক্তিশালী সংগঠন না থাকে। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। ৪০ বছরের পুরনো এই দল বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই শক্ত। বিএনপির মূল শক্তি তার জণগণ। দেশের সব জেলাতেই বিএনপির কমিটি রয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি গঠনের কাজ চলছে। যে সব জায়গায় কমিটিগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে, সেগুলো আবারো নতুন করে পুনর্গঠন শুরু হয়েছে। যেটা আংশিক আছে সেটা পূর্ণাঙ্গ করার জন্য কাজ চলছে।
আমরা আন্দোলনের মধ্যেই রয়েছি। তবে আন্দোলনের মৌলিক গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। সেটা হচ্ছে, আন্দোলন বলতে আগে বোঝা হতো হরতাল-অবরোধ- এই জিনিসগুলো এখন বাস্তব অবস্থার কারণে কমে এসেছে। এখন জনসমাবেশ ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিগুলোই আসছে। সেটা আমরা ক্রমান্বয়ে করে যাচ্ছি। কয়েকটি বিভাগীয় সমাবেশ হয়েছে। এরপর সেপ্টেম্বরে বাকি সমাবেশগুলো করা হবে। এর মধ্যে মানুষ যত সম্পৃক্ত হবে ততই দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন ও আবারো নির্বাচনের আন্দোলনও বেগবান হবে।

ভোরের কাগজ : দলীয় কাউন্সিল কবে নাগাদ হতে পারে?
মির্জা ফখরুল : গত মার্চে কাউন্সিলের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই পুরোদমে কাউন্সিলের প্রস্তুতি চলছে। জেলা উপজেলা কমিটিগুলো পুনর্গঠন হয়ে গেলে যত দ্রুততার সঙ্গে পারা যায় কাউন্সিলের আয়োজন করা হবে। নির্দিষ্ট সময় বলা যাবে না। তবে ডিসেম্বর-জানুয়ারিকে টার্গেট করেই আমরা এগোচ্ছি।

ভোরের কাগজ : আওয়ামী লীগ নেতারা প্রায়ই বলেন, বিপুল জনসমর্থ থাকা সত্তে¡ও সঠিক সময়ে সঠিক কর্মসূচি না নেয়ার কারণে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আপনার মত কি?
মির্জা ফখরুল : ক্ষমতায় থাকার জন্য সব ধরনের অনৈতিক কাজ তারা করবেন, আবার বলবেন বিএনপি পারছে না। গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের মতো ব্যবহার করে বলবেন বিএনপি পারছে না। এটা একেবারেই একটা অমূলক যুক্তি। তারাও একটি রাজনৈতিক, দল যারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে; অথচ তাদের হাতেই গণতন্ত্র পুরোপুরি নিহত হয়েছে।
ভোরের কাগজ : সিন্ডিকেটের কবলে থাকা ছাত্রদলের রাজনীতি কাউন্সিলের কতটা সংকট মুক্ত হবে?
মির্জা ফখরুল : ছাত্ররাজনীতির মৌলিক পরিবর্তন হয়ে গেছে। ছাত্রসংগঠনগুলো সম্পর্কে আগে আমরা যেভাবে ভাবতাম, সেই অবস্থা এখন আর নেই। ছাত্রদল দীর্ঘদিন যেহেতু কাউন্সিলের বাইরে ছিল; তারা সুষ্ঠু কোনো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে পারেনি। সেই কারণেই নানা অভিযোগের সুরাহা করে ঘুরে দাঁড়াতে একটু সময় লাগবে। তবে এবারের কাউন্সিল নিয়ে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী, একটি গতিশীল নেতৃত্ব উঠে আসবে এবং সংগঠনটি নতুন করে তাদের পথচলা শুরু করতে পারবে।

ভোরের কাগজ : খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কি ভাবছেন? অভিযোগ রয়েছে তার মুক্তির বিষয়ে বিএনপি কোনো যুতসই পদক্ষেপ নিতে পারছে না। না আইনিগত, না আন্দোলন। কি বলবেন?
মির্জা ফখরুল : বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে। আর আন্দোলন বলতে আমাদের দেশে যা বোঝায় সেটা বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে, সব কিছু মিলিয়ে অই ধরনের আন্দোলন এ মুহূর্তে আমরা করতে পারিনি। অর্থাৎ সরকার নির্যাতন নিপীড়ন এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগে রাস্তায় নামলে গুলি হতো না, এখন সেটা হয়; গুম হয়, ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে বাসায় থেকে তুলে থানায় নিয়ে নির্যাতন করে। এসব কারণে অই ধরনের আন্দোলন আমরা এখনো করতে পারিনি। তবে চেষ্টা করছি দ্রুত সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলার। আন্দোলনের মাধ্যমেই দলের চেয়ারপারসন মুক্ত হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।
বাংলাদেশের জনগণের কাছে গণতন্ত্রের প্রতীক তিনি (খালেদা জিয়া)। তাকে বাদ দিয়ে দেশে কিছু হওয়া কঠিন। তাই তাকে নিয়েই আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব। আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সরকার যেহেতু বিচার বিভাগের উপরে হস্তক্ষেপ করে নিয়ন্ত্রণ করছে। সেই নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করতেও আন্দোলন জরুরি হয়ে পড়েছে।

ভোরের কাগজ : খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে দলের পক্ষ থেকে প্যারোলের আবেদন করা হবে কিনা?
মির্জা ফখরুল : প্যারোল ম্যাডাম নিজের চাওয়ার কথা বা তার ডাক্তার যদি মনে করেন সেভাবে তারা পরামর্শ দেবেন। প্যারোল আমরা চাইনি। যদি সেই রকম কোনো পরিস্থিতি আগামীতে সামনে আসে, সেটা তখন ভাবা যাবে।

ভোরের কাগজ : দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হলে দলের নেতৃত্ব কি আবারো তার হাতে দেয়া সম্ভব? তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায়…
মির্জা ফখরুল : অবশ্যই সম্ভব। তিনি কারাগারে যে অবস্থায় আছেন, বের হয়ে চিকিৎসা করাবেন। তিনি যে মাত্রার ‘ক্যারিসম্যাটিক লিডার’ তার যে জনপ্রিয়তা আছে, তাকেই আওয়ামী লীগ ভয় পায়।

ভোরের কাগজ : তারেক রহমানের নেতৃত্বে আপনারা কতটা সন্তুষ্ট?
মির্জা ফখরুল : অবশ্যই সন্তুষ্ট। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার আগে তিনি যখন দেশে ছিলেন, তখন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। সে সময়ে তার সাংগঠনিক দক্ষতা আমরা দেখেছি। বিশেষ করে ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় তার নেতৃত্বে নির্বাচন পরিচালনা, প্রচার অত্যন্ত সফলভাবে হয়েছে। সে কারণেই তার নেতৃত্বের প্রতি আমরা আস্থাশীল। আমরা বিশ্বাস করি, যতদিন ম্যাডাম কারাগার থেকে মুক্ত না হবেন, তারেক রহমান সফলভাবে দল পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন।

ভোরের কাগজ : বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা কে হবেন?
মির্জা ফখরুল : সংসদে আমাদের একটা ছোট টিম গেছে, সেটাকে দল বলা যায় না। তাই ওভাবে সংসদীয় নেতা হওয়ার সুযোগ নেই। তবুও সিনিয়র হিসেবে সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ সংসদীয় টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ভোরের কাগজ : আপনি সংসদে থাকলে আজকে যে ভ‚মিকা তা আরো জোরাল হতো না?
মির্জা ফখরুল : আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। যে নমুনার অংশ হিসেবেই আমি পার্লামেন্টে যাইনি। আর আমি গেলে কী লাভ হতো জানি না। কারণ এখনো লাভের কোনো অংশ দেখতে পাইনি। যারা গেছেন, তারা বিরোধীদলীয় প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলেছেন। আমি গেলে আলাদা লাভ হতো বলে আমি মনে করি না।

ভোরের কাগজ : জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। তারা কি বিএনপির সঙ্গে আছে?
মির্জা ফখরুল : এ ধরনের জোট বা ফ্রন্ট তৈরি হয় একটি বিশেষ লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে। আমাদের জোট তৈরি হয়েছিল অনেক আগে। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট তৈরি হয়েছিল। সেটা ছিল ২০০১ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তখন আওয়ামী লীগ সরকারের যে স্বৈরাচারী ভূমিকা ছিল- তাকে আন্দোলনের মাধ্যমে মোকাবেলা করে, চ্যালেঞ্জ করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ২০০৮ সালের পর আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো ব্যাহত করা, অধিকারগুলোকে কেড়ে নেয়ার যে কাজ শুরু করল; তখন আমরা সেটাকে বাধা দেয়ার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য ২০ দলীয় জোট তৈরি করেছিলাম। মূল লক্ষ্যটা ছিল নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করা। সেখানে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছিলাম। তখন তারানকো জাতিসংঘ থেকে এসেছিলেন। তিনি মধ্যস্থতা করার পর ১ মাস আন্দোলন হয়েছিল যা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল- আওয়ামী লীগের প্রতারণার কারণে আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে পারিনি। তারা বলার পরও তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে পরবর্তীতে কোনো আলোচনা করেনি। তাই ২০ দলীয় জোটের সেই সময়ের যে ভ‚মিকা তা অবশ্যই অত্যন্ত ইতিবাচক ছিল। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনের পরে আমরা মনে করেছি, শুধু ২০ দলীয় জোট দিয়ে হবে না। অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে এক করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সব দলের সঙ্গে কথা বলে একদিকে ঐক্যফ্রন্ট তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ২০ দলীয় জোট- এ দুয়ের মধ্যে আমরা একটা সেতুবন্ধন রচনা করেছি।

ভোরের কাগজ : ২০ দল এবং ঐক্যফ্রন্টের ভেতরে যে অসন্তুষ্টি তা জোটের রাজনীতিতে কি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন?
মির্জা ফখরুল : যেকোনো রাজনৈতিক দলের ভেতরে অসন্তুষ্টি থাকতে পারে। রাজনীতির পথে তো গোলাপের পাপড়ি বিছানো থাকবে না। এখানে সমস্যা তৈরি হতেই পারে। তা কাটিয়ে উঠেই আমরা একসঙ্গে একটা নির্বাচন করেছি এবং ২০ দলীয় জোট, ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি মিলে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়েছি। এটা কিন্তু একটা বড় বিষয়। কিন্তু কোনো জানি না সরকারের নেগেটিভ প্রচারণার মুখে এ জিনিসগুলো কেউ তুলে ধরে না। নেগেটিভ দিকগুলোই দেখে। একটা কথা আছে ‘সাকসেস ইজ মেনি ফারদার, ফেইলর ইজ নান’। আমরা যদি সরকারের দখল করা নির্বাচনের ষড়যন্ত্রকে পরাজিত করে জনগণের পক্ষে নিয়ে আসতে পারতাম তাহলে পুরো হিসাবই পাল্টে যেত। তবে যাই হোক, ফন্ট্র, জোট ও বিএনপির মধ্যে মেজর কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। যদিও নির্বাচনের পর কিছু দল বেরিয়ে গেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে তারা অনেকটাই অধৈর্য হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাকি দলগুলো ঠিক আছে। সবাই জোটে আছে। তবে এই মুহূর্তে বিএনপি আলাদা কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি ঝালিয়ে নিচ্ছে। আমার দেখছি জনগণের আস্থা কেমন আছে।

ভোরের কাগজ : দলের ভেতরে আপনার নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। অভিযোগ আছে নির্বাচনে সঠিক সময়ে আপনার সঠিক নির্দেশনা ছিল না, কি বলবেন?
মির্জা ফখরুল : আমি সর্বাত্মক উদ্যোগ ও সক্ষমতা দিয়ে চেষ্টা করেছি। ‘আই এম ট্রাই মাই বেস্ট টু সাকসিড’। আর নেতৃত্বের বিষয়টা তো একক নয়। দলের একটি স্থায়ী কমিটি আছে, যা কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে সব স্থায়ী কমিটির মত নিয়েই হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘কনসার্ন’ নিয়েই সব সিদ্ধান্ত হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেয়া, প্রার্থী মনোনয়ন- সব ওইভাবেই হয়েছে। আমি এককভাবে কোনো কাজ করিনি। সুতরাং যদি বিচার করতে হয় তবে অবশ্যই সমষ্টিগতভাবেই বিচার করতে হবে।

ভোরের কাগজ : অভিযোগ রয়েছে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে ঐক্যের ঘাটতি রয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
মির্জা ফখরুল : বিএনপি গত ১৩ বছর অত্যন্ত নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে রাজনীতি করছে। ২৬ লাখ নেতাকর্মী মামলার আসামি, এক লাখের উপরে মামলা, ৫শ’র উপরে মানুষ গুম হয়ে গেছে। খুন হয়েছে হাজারের উপরে। এই যে ফ্যাসিস্ট কায়দায় নির্যাতন- একটি গণতান্ত্রিক দলের পক্ষে এটা মোকাবেলা করা এত সহজ নয়। অত্যন্ত কঠিন এই কাজটা আমরা করে যাচ্ছি। এই অবস্থায়ও বিএনপি এখনো বিভক্তি হয়নি। এটা আমাদের সাফল্য। আমি মনে করি অচিরেই আমাদের সাফল্য আসবে। দলীয় চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে সক্ষম হবো। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন দেয়ার জন্য সরকারকে বাধ্য করতেও সক্ষম হবো। ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা নতুন প্রত্যয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর শপথ নেব।

ভোরের কাগজ : বিএনপি একটি জাতীয়তাবাদী দল। এই দলটির সঙ্গে যখন একটি মৌলবাদী দল জোটবদ্ধ হয়- তখন অনেকেই বিএনপির রাজনীতিকে ইতিবাচক ভাবার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করে বলে মনে করেন। এটা কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন।
মির্জা ফখরুল : অনেকেই মনে করেন, জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী। তাদের সঙ্গে যারা সম্পর্ক রাখবে তাদের সঙ্গেও সম্পর্ক রাখা যাবে না। অথচ এই দলগুলোই কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ১৯৯৬ সালে আন্দোলন করেছে। আওয়ামী লীগ, জামায়াত, জাতীয় পার্টির একসঙ্গে অনেক ছবিও রয়েছে। বিএনপির অবস্থান সব সময়ই মানবতাবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বিপক্ষে ছিল। জিয়াউর রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে এমন অপবাদ লেপ্টে দেয়া কোনোভাবেই সঠিক নয়।

ভোরের কাগজ : জামায়াত কি বিএনপির বোঝা না বন্ধু এক কথায় কি বলবেন?
মির্জা ফখরুল : জামায়াত একটি রাজনৈতিক দল যাদের সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি। তাদের কিছু ভোট আছে। নির্বাচনে এই ভোটের অঙ্কটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভোটগুলো যখন যুক্ত হয় তখন আমাদের আসন সংখ্যা বাড়ে। সেই কারণেই তাদের সঙ্গে বিএনপির একটি নির্বাচনমুখী জোট রয়েছে। অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে যেমন সখ্যতা গড়েছি, তাদের সঙ্গেও সেটা রয়েছে। এখানে আর্দশিক কোনোই মিল নেই।

ভোরের কাগজ : বিএনপির একটি রাজনৈতিক ভুলের কথা বলুন, যা দলকে আরো পিছিয়ে দিয়েছে?
মির্জা ফখরুল : বিএনপির সবেচেয়ে বড় ভুল ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নেয়া। ওই নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপি আজকে যে অবস্থানে রয়েছে তার থেকে অনেকটাই ভিন্ন অবস্থানে থাকত।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা