রেকর্ডবুকে জয়া-সালমা

আগের সংবাদ

ভারত থেকেও আসছে ইয়াবার চালান

পরের সংবাদ

সাকিবের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৫, ২০১৯ , ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০১৯, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

Avatar

দ্বাদশ বিশ্বকাপটা স্বপ্নের মতো কেটেছে টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। এখন তার নাম উচ্চারিত হয় কিংবদন্তিদের কাতারে। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস বিশ^কাপের পর বেশ কিছুদিন ছুটিতে ছিলেন সাকিব। খেলেননি গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে। ১৯ আগস্ট থেকে জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হলেও সাকিব দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন গতকাল। আর এর মধ্য দিয়ে নতুন এক মিশন শুরু হলো দেশসেরা এই অলরাউন্ডারের। সাকিবের সামনে এখন অপেক্ষা করছে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এরপর জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের সঙ্গে অংশ নেবে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে। আর টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি উভয় ক্ষেত্রেই টাইগারদের নেতৃত্ব দেবেন সাকিব।
বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি মাঠে গড়াবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর। এই মাচটি হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। উপমহাদেশের মাটি বরাবরই স্পিনসহায়ক। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো বিশ^কাপজয়ী দলগুলো সব সময় ঘরের মাঠে স্পিনসহায়ক উইকেটের সুবিধা নেয়। ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। যে কারণে স্পিন সামলানোর বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েই উপমহাদেশের মাটিতে খেলতে আসে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও উইন্ডিজের মতো দলগুলো। স্পিন দিয়েই ঘরের মাঠে ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডকে টেস্টে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে স্পিনে ভর করেই অজিদের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে টেস্ট জিতেছে টাইগাররা। এ ছাড়া গত বছর উইন্ডিজকে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন বাংলাদেশ দলের স্পিনাররা। অতীতের এসব সফলতা বিবেচনা করে আফগানদের বিপক্ষে আসন্ন টেস্টের জন্যও স্পিনবান্ধব উইকেট বানাবে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট সেটা একপ্রকার নিশ্চিতই বলা যায়।
তবে চিন্তার বিষয় হলো স্পিনসহায়ক উইকেট তৈরি করলে আফগানরাও সেটার সুবিধা পাবে। এমনকি সেটা হতে পারে টাইগারদের চেয়ে বেশিই। কেননা, আফগানিস্তান দলে আছেন রশিদ খানের মতো বিশ্বমানের লেগ স্পিনার। এ ছাড়া মোহাম্মদ নবি ও মুজিব-উর রহমানের স্পিন ঘূর্ণিও খুবই বিপজ্জনক প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের জন্য। তাই আসন্ন এই টেস্ট ম্যাচে সাকিব, তাইজুল, মিরাজের সঙ্গে স্পিনে দারুণ লড়াই হবে রশিদ, নবী ও মুজিবদের। তাই টেস্টে আফগানদের হারানোটা সহজ হবে না সাকিবের দলের জন্য। এটা তাই অধিনায়ক সাকিবের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ। ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সাম্প্রতিক সময়ে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের যে দুরবস্থা তাতে এই সিরিজে হ্যামিল্টন মাসাকাদজারা টাইগারদের জন্য খুব বেশি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের শিরোপা জয়ের লড়াইটা হবে মূলত বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যে। এ ক্ষেত্রেও স্পিনাররা বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবেন।
এ ছাড়া টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে এখন টাইগারদের অবস্থান আফগানদের চেয়ে পেছনে। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে এখন ১০ নম্বরে আছে বাংলাদেশ। আর রশিদ খানদের অবস্থান ৭ নম্বরে। সেরা আটের মধ্যে থাকায় সরাসরি ২০২০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে আফগানিস্তান। অপরদিকে আসন্ন বিশ^কাপের মূল পর্বের টিকেট পেতে সাকিবের দলকে পাড়ি দিতে হবে বাছাই পর্বের বাধা। বাছাই পর্বের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে ঘরের মাঠে হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জেতা জরুরি ডমিঙ্গোর শিষ্যদের জন্য। আর অধিনায়ক হিসেবে সেই কঠিন চ্যালেঞ্জ জয়ে সাকিবের দায়িত্বই সবচেয়ে বেশি।
শুধু অধিনায়ক হিসেবেই নয়, ব্যাটে-বলেও ছন্দ ধরে রাখতে হবে বাংলাদেশ দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ককে। কারণ তিনি একদিকে যেমন দলের ব্যাটিংয়ের অন্যতম বড় ভরসা, অন্যদিকে তেমনি বোলিংয়েও টাইগারদের প্রধান অস্ত্র। অধিনায়ক সাকিব ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে দলকে সামনে থেকে কতটা নেতৃত্ব দিতে পারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সাকিব বাংলাদেশ দলকে ১৩টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩টিতে জিতেছে টাইগাররা। আর হেরেছে ১০টিতে। অন্যদিকে বাঁ-হাতি এই অলরাউন্ডারের অধীনে বাংলাদেশ দল এ পর্যন্ত ১৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ৪ জয়ের বিপরীতে আছে ১৩ হার।
এদিকে ইতোমধ্যেই জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন নতুন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। এ ছাড়া পেস বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট ও ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুকও যোগ দিয়েছেন দলের সঙ্গে। আর ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ান তো শুরু থেকেই কন্ডিশনিং ক্যাম্পের ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করছেন। সে হিসেবে বলা যায়, অধিনায়ক ও কোচিং স্টাফের বেশির ভাগ সদস্যের উপস্থিতিতে পুরোদমেই চলছে টাইগারদের প্রস্তুতি।
আজ থেকে শুরু হবে স্কিল অনুশীলন, যা চলবে আগামী ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর নিজেদের শেষবারের মতো ঝালিয়ে নিতে আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ক্রিকেটাররা।

বিষয়: