ফের আনুশকা বন্দনায় কোহলি

আগের সংবাদ

সাকিবের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

পরের সংবাদ

রেকর্ডবুকে জয়া-সালমা

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৫, ২০১৯ , ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০১৯, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ

Avatar

এক সময় খেলোয়াড় হিসেবে ফুটবল মাঠ দাঁপিয়ে বেড়িয়েছেন জয়া চাকমা। পেশাদারি ফুটবল থেকে অবসরের পর ২০১০ সালে রেফারিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা। রেফারি হিসেবে দ্রুত উন্নতি করতে থাকেন তিনি। অদম্য সাহস আর প্রেরণা নিয়ে রেফারি হিসেবে অতিক্রম করেছেন একের পর এক বাধা। লেবেল ৩, ২ ও ১ কোর্স সম্পন্ন করে জাতীয় পর্যায়ের রেফারি হয়েছেন অনেক আগেই। আর এবার তিনি সাফল্যের সঙ্গে পার হলেন ফিফা রেফারি হওয়ার ফিটনেস টেস্ট। জয়ার সঙ্গেই ফিফা রেফারি হওয়ার ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হয়েছেন আরেক বাংলাদেশি নারী সালমা ইসলাম মনি। বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে ফিফাভুক্ত রেফারি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন তারা। গতকালই এ সুখবর পান জয়া ও সালমা। ফিফার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলে এই দুজন আগামী ২০২০ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতীয় দলের ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন।
গত শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিফার নির্দেশনা অনুযায়ী রেফারি হওয়ার ফিটনেস টেস্ট দেন জয়া চাকমা ও সালমা ইসলাম মনি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দুজনকেই পাড়ি দিতে হয়েছে ৪ হাজার মিটার পথ। পাশাপাশি দিতে হয়েছে আরো বেশ কিছু কঠিন পরীক্ষা। আর যাবতীয় সব পরীক্ষাতেই সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারশনের (বাফুফে) রেফারিজ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম নেসার জানান, ফিফার পরীক্ষায় জয়া ও সালমা দুজনই পাস করেছেন। আমরা এখন তাদের নাম ফিফায় পাঠাব। এই দুজনের ফিফার তালিকাভুক্ত রেফারি হতে আর কোনো বাধা নেই। এদের মধ্যে জয়া প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন। আর সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সালমা। জয়া চাকমার এ পর্যায়ে উঠে আসার পেছনের গল্পটা বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক। এর আগে আরো দুইবার পরীক্ষা দিয়েও কাক্সিক্ষত ফল পাননি তিনি। তবে দুইবার ব্যর্থ হয়েও দমে যাননি রাঙ্গামাটি থেকে উঠে আসা এই নারী ফুটবলার। প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করেছেন নিজের সঙ্গে। পণ করেছিলের ফিফা রেফারি হওয়ার। নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে ছিলেন অবিচল।
সেই গল্প শোনাতে গিয়ে জয়া বলেন, ২০১৩ সালে বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করতে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কা গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি বিভিন্ন দেশের নারী রেফারিরা আছেন। কিন্তু আমাদের দেশে সেভাবে কেউ উঠে আসছে না। তখন থেকেই নিজের মধ্যে জিদ চেপে বসে। পণ করি যেভাবেই হোক আমাকে ফিফার রেফারি হতেই হবে। সাফল্যের চূড়ায় উঠতে তখন থেকেই পরিশ্রম করে যাচ্ছিলাম। আর অবশেষে ফিফা রেফারি হওয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলাম। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় সব মিলিয়ে চারজন ফিফার তালিকাভুক্ত নারী রেফারি আছেন। এদের মধ্যে ভারতের দুজন। আর নেপাল ও ভুটানের একজন করে। আর এবার এ তালিকায় নাম লেখানোর যোগ্যতা অর্জন করলেন জয়া ও সালমা।
রাঙ্গামাটির মেয়ে জয়াকে অলরাউন্ডারই বলা যায়। খেলার পাশাপাশি পড়ালেখাও চালিয়ে গেছেন সমানতালে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে মাস্টার্স করেছেন তিনি। এ ছাড়া স্পোর্টস সায়েন্সের ওপর ডিপ্লোমা ডিগ্রিও আছে তার। জয়ার মতো সালমাও দীর্ঘ এক দশক ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়ার পর উত্তীর্ণ হয়েছেন ফিফা রেফারি হওয়ার পরীক্ষায়। তিনিও দারুণ খুশি। নিজের অভিব্যক্তি জানাতে গিয়ে সালমা বলেন, আমার বিশ্বাশই হচ্ছে না। অনেক সাধনার পর অবশেষে সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলাম। আমি খুব খুশি।