বিশ্বের সবচেয়ে দামি অভিনেত্রী স্কারলেট

আগের সংবাদ

সিরাজগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ আ.লীগ নেতা নিহত

পরের সংবাদ

ছোট পর্দায় ঈদ

সাড়া ফেলে সেরা সাত

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৪, ২০১৯ , ১০:২২ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০১৯, ১০:২২ অপরাহ্ণ

Avatar

ঈদে স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে প্রচার হয়েছে শতাধিক নাটক ও টেলিফিল্ম। মানহীন কাজের আধিপত্যেও নজর কেড়েছে কয়েকটি ফিকশন। সমালোচনার বিচারে সেরা হলো কোনো কোনো নাটক, তারই বিবরণে সমৃদ্ধ এই প্রতিবেদন। লিখেছেন স্বাক্ষর শওকত

এই শহরে
ইট পাথরের এই শহরে নানা অপরাধের মাঝে একটি অপরাধী পরিবারের গল্প। কোনো না কোনোভাবে তারা অপরাধের মায়াজালে আটকে যায়। আর সেই মায়াজলের ভেতরে তাদের শেষ পরিণতি নিয়ে ‘এই শহরে’। এই ফিকশনের প্রধান প্রাণ ছিলেন মেহজাবিন। চেষ্টা থাকলে যে ধীরে ধীরে ভালো করা সম্ভব মেহজাবিন তার উত্তম উদাহরণ। আফরান নিশো ভালো অভিনেতা হলেও কতজনই বা তাকে ঠিকভাবে কাজে লাগান! ‘এই শহরে’র নির্মাতা আশফাক নিপুণ সেটা পেরেছেন।

কিংকর্তব্যবিমূঢ়
ইফতেখার আহমেদ ফাহমির রচনা ও পরিচালনায় ঈদের নাটক ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ এর গল্প এভাবেই সাজানো হয়েছে। নাটকের শেষে এসে একটা সামাজিক বার্তা এসেছে। চঞ্চল চৌধুরী অনেকদিন পর একটা ভালো চরিত্র পেয়েছেন। তিশাও ছিলেন যথাযথ। মামা-মামির চরিত্রে সোহেল খান-গুলশান আরা দৃষ্টি কেড়েছেন।

আমাদের সমাজবিজ্ঞান
শাফায়েত মনসুর রানা পরিচালিত টেলিফিল্ম ‘আমাদের সমাজবিজ্ঞান’। ইয়াশ রোহান পড়াশোনা শেষ করে নিজের মতো কিছু করতে চায়। অভিজ্ঞতার জন্য পার্ট টাইম জব করে। বাবা তাকে বিসিএস দিয়ে সরকারি চাকরি করতে বলে। কারণ গাড়ি হবে, বাড়ি হবে, সামাজিক সম্মান হবে। ইয়াশের বোন তানজিকা এক ছাদের নিচে স্বামীর সঙ্গে থাকতে পারছে না। ইয়াশ-তানজিকা ভাইবোন দুজনই বাবা-মার কাছে বোঝা হয়ে যায়। তারিক আনাম আদর্শ শিক্ষকের হিসেবে ইনডিপেনডেন্ট থাকার জন্য ছাত্রকে বলছে। উচিত নাটকের শেষটা নাড়িয়ে দেয় ইয়াশের অভিনয় ও বক্তব্যে। ইয়াশ একজন অভিনেতার মাধ্যমে অনেকের মনের কথা, মনের অবস্থা বলে যায়। চ্যালেঞ্জিং একটা রোলে ইয়াশের কাজ ছিল চমৎকার! এ ছাড়া সবাই যার যার জায়গায় সুন্দর, বিশেষ করে তানিয়ার কথা না বললেই নয়। আর তারিক আনাম খান তো সবসময় সেরাটা দিয়ে থাকেন।

‘আমাদের সমাজবিজ্ঞান’ নাটেক অভিনয় করেছেন সাফা কবির

আগন্তুক
গত বছর ও চলতি বছর দেশে ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বৃদ্ধা থেকে শিশু কেউই রেহাই পায়নি নরপশুদের হাত থেকে। যে পরিসংখ্যান উঠে এসেছে তাকানো যায় না। সমাজের চলমান এ ব্যাধি নিয়ে বক্তব্যধর্মী নাটক ‘আগন্তুক’। নাটকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়টি হচ্ছে গল্পটিকে সহজ করে তুলে ধরা। পরিচালক গল্পের মধ্য দিয়েই সমাজের চেহারা দেখিয়ে দিলেন। নিশো এসি সার্ভিসিং করতে আসে ইয়াশ-সাফা দম্পতির বাসায়। সাফাকে একা রেখে বাইরে ইয়াশ প্রথমে নামাজে যায়। তারপর একটা মনোমালিন্যে ফের বাইরে চলে যায়। এরপর নিশোর মধ্যে সাফা কিছু অস্বস্তিকর লক্ষণ দেখতে পায়। সাফা সেটাকে সাময়িক বিরক্তি ভাবলেও সিরিয়াসলি নেয় না কিন্তু সে জানে না তার সঙ্গে কি ঘটতে যাচ্ছে! নিশোই নাটকের প্রধান চরিত্র তাই ফোকাসটা তার দিকেই ছিল। নিশোর ক্যারেক্টরাইজেশনের মানুষেরাই সমাজে ছড়িয়ে আছে আগন্তুকের মতো। নির্মাতা আশফাক নিপুণ ও অভিনেতা আফরান নিশো দুজনই সফল এ যাত্রায়।

আশ্রয়
তাহসান-তিশার সুখের সংসার। তাদের একমাত্র মেয়ে তাদের কাছে দাদা-দাদির আবদার করে বসে। কিন্তু তারা দুজনই এতিম। অতঃপর তারা ঠিক করে বৃদ্ধাশ্রম থেকে তারা বাবা-মা নিয়ে এসে আশ্রয় দেবে। বাবা হয়ে আসেন মোশাররফ করিম, কিছুদিন পর তার স্ত্রী মম আসেন মা হয়ে। তাদের পরিবার যেন পরিপূর্ণতা পায়। তবে ভুল বুঝতে পেরে বাবা-মাকে ফিরে নিয়ে যেতে আসে তাদের সন্তানরা। এখন বাবা-মা কি তাদের আশ্রয় খুঁজে পাওয়া নতুন সন্তানদের কাছে থেকে যাবে না নিজের সন্তানদের সঙ্গে বিদেশ চলে যাবে এই নিয়েই এই নাটকের কাহিনী। নতুন ভাবনায় জাড়িত এ নাটক। নাটকের দৃশ্যায়ন সুন্দর। মাবরুর রশীদ বান্নাহ এ জন্য পাবেন প্রশংসা। বাজেটের দৈন্যদশার এই যুগে নাটকে দেখা পাওয়া গেছে মোশাররফ করিম-মম ও তাহসান-তিশার মতো ক’জোড়া জনপ্রিয় তারকা জুটিকে। তাহসান-তিশা নিজেদের বয়সে অভিনয় করলেও বয়স্ক চরিত্রে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন মোশাররফ করিম-মম। মোশাররফ করিম বয়স্ক চরিত্রে খুব মানানসই না হলেও অভিনয় ভালো করেছেন। একইভাবে মমও হয়েছেন সফল। তিশা যথারীতি ভালো অভিনয় করেছেন। আবেগপূর্ণ দৃশ্যে তাহসানের দুর্বলতা নতুন কিছু নয়।

কেস ৩০৪০
এই ঈদে প্রতীক্ষিত টেলিফিল্ম ছিল মিজানুর রহমান আরিয়ানের এই কাজটি। তবে এইবার তিনি তার চিরাচরিত ধারা থেকে বেরিয়ে আসে বানিয়েছেন থ্রিলারধর্মী টেলিফিল্ম। সিআইডির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী অপি করিম। আরিয়ানের সঙ্গে উনার প্রথম কাজ। ভালোই করেছেন তিনি। দক্ষ অভিনেতা জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় নিজের চরিত্রে ভালো সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া স্বল্প সময়ে রওনক হাসান, অপূর্ব, সাহানা সুমি, নাদিয়াও ভালো করেছেন।

মধ্যরাতের সেবা
মাজনুন মিজান একেবারেই স্বল্প সময়ের, পরিচিতর মধ্যে আছেন অর্ষা। এ ছাড়া মূল অভিনেতা, কাহিনী, চিত্রনাট্য আর পরিচালনা যারা করেছেন সবাই অপরিচিত। বেনু শর্মার চিত্রনাট্যে নাটকটি পরিচালনা করেছেন জিয়াউর রহমান জিয়া। মূল ভ‚মিকায় আছেন রাশেদ সীমান্ত। পুরো নাটকে তিনি বরিশালের ভাষায় কথা বলেছেন। শুধু কণ্ঠ যদি কেউ শোনে, তাহলে সবাই ভেবেই নেবে এখানে মোশাররফ করিম অভিনয় করছেন!