টেলিভিশন বনাম ইউটিউব

আগের সংবাদ

সাত মাসে রেমিট্যান্স এসেছে সাড়ে ১০ বিলিয়ন ডলার

পরের সংবাদ

মোশাররফে মুগ্ধতা এখনো…

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৪, ২০১৯ , ৪:২৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২৪, ২০১৯, ৪:২৫ অপরাহ্ণ

Avatar

২২ আগস্ট ছিল জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের জন্মদিন। গত দেড় যুগ ধরে টেলিভিশনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অভিনেতাটি এখনো সবচেয়ে ব্যস্ত। সদ্য পেরিয়ে আসা ঈদেও ছোটপর্দায় তার দাপুটে উপস্থিতি ছিল। তার ঈদের কাজের দর্শকসাড়া নিয়ে লিখেছেন মেলা প্রতিবেদক

মোশাররফ করিমের আজকের পর্যায়ে আসার পেছনে সবচেয়ে বড় প্রভাবক ছবিয়াল। তিনি এক সময় চুটিয়ে কাজ করেছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, ইফতেখার আহমেদ ফাহমি, মোস্তফা কামাল রাজ, রেদোয়ান রনিদের সঙ্গে। একের পর এক নাটক জনপ্রিয় হয়েছে তার। দর্শকরা সেসব দেখে মোশাররফ করিমের ভক্ত হয়েছেন। একটা সময় পর ছবিয়ালের সঙ্গেই কাজ করা একেবারেই কমিয়ে দেন তিনি। ছবিয়ালের পুরো বিপরীত ধারা ছিল সালাউদ্দিন লাভলুর নাটক। সেখানে চঞ্চল চৌধুরীর মতো অত নিয়মিত না হলেও বেশ নাটক করতেন তিনি। সেখানেই বন্ধুত্ব ঘটে শামীম জামানের সঙ্গে। শামীম জামান সুঅভিনেতা, তবে বিপত্তি ঘটান নির্মাণে এসে। নির্মাতা হিসেবে তিনি পরিপক্ব নন। বন্ধুত্বের খাতিরে মোশাররফ করিম তার নাটক গত তিন-চার বছর ধরে করেই যাচ্ছেন! মোশাররফ করিম দারুণ হাসাতে পারেন। গত তিন-চার বছর ধরেই তিনি হাসাতে গিয়েই একটা চক্রে আটকে গেছেন। সিরিয়াস চরিত্রে তিনি যে কত অসাধারণ অভিনেতা সেটা উনার কিছু নাটক দেখলেই দর্শকরা বুঝতে পারেন অথচ সেইগুলো জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে থাকে। যে জন্য কমেডি নাটকেই মোশররফ করিমকে নির্মাতারা বেশি বেশি নেন।
এবারের ঈদে শুধুমাত্র কমেডি নাটকে আটকে থাকেননি মোশররফ করিম। ঈদে ১৯টি নাটকে কাজ করেছেন মোশাররফ। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি নাটক দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। সেগুলো পেয়েছে উপযুক্ত প্রশংসাও। রেদওয়ান রনির ‘বিহাইন্ড দ্য পাপ্পি’ নাটকে মোশাররফ করিমকে পরিচিত চেহারায় দেখা গেলেও দর্শকরা আনন্দ নিয়ে নাটক উপভোগ করেছেন। দর্শকদের জোর করে হাসতে হয়নি। বর্তমানে যে প্রচেষ্টা অনেক পরিচালকের মধ্যে প্রবল যা দর্শকদের এনে দেয় বিরক্তি। ‘আশ্রয়’ নাটকের মূল চরিত্র তাহসান হলেও তার বাবার চরিত্রে অভিনয় করে মূল চরিত্রকে পেছনে ফেলে দেন মোশাররফ করিম। এই নাটকে দেখা গেছে এক বাবা-মাহীন দম্পতির বাবা-মাকে দত্তক নিতে। বাবার চরিত্রে মোশাররফ করিমের অভিনয় ছুঁয়েছে দর্শক মন। নাটকটি পরিচালনা করেছেন মাবরুর রশিদ বান্নাহ। বান্নাহ নিজের নির্মিত সমস্ত নাটকের মধ্যে ‘আশ্রয়’কে সবার শীর্ষে রাখছেন। মুরসালিন শুভ মোশাররফ করিমকে নিয়ে এবারের ঈদে খেলেছেন তার বাজি। এক অনবদ্য চরিত্রে নিয়ে এসেছেন জনপ্রিয় এই অভিনেতাকে। গল্প শুনে মোশাররফ করিমকে যেতে হয়েছে টঙ্গীর এক ঘিঞ্জি বস্তিতে। বস্তির মানুষদের সঙ্গে থেকে অভিনয় করেছেন। গোবর, কাঁদা-পানি, মশার কামড়কে উপেক্ষা করে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন ‘রাজন : দ্য কিং’। শামস করিমের ‘আম্মা াং জান’ নাটকটি মোশাররফ করিমের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। ভক্তরা পছন্দের তালিকায় এ নাটকটি রাখছেন। পৃথিবীতে যারা সবাইকে খুশি রাখতে চায় তারা আসলে কাউকেই খুশি করতে পারে না তারপরও পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুখে থাকার লড়াই তাকে চালিয়ে যেতে হয়। আর বিশেষ করে যারা বিয়ে করে প্রবাসে বসবাস করেন তাদের জন্য নাটকটি ভিন্নমাত্রার অভিজ্ঞতা হতে পারে। তপু খান প্রথমবারের মতো অসম বয়সের একটি সম্পর্ক দেখালেন নাটকে। আরো একটি আলোচিত নাটক ‘ডিল ডান কালাচান’। নাটকে সাফা কবিরের বিপরীতে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। বান্নাহ পরিচালিত আরো একটি নাটক ‘মুগ্ধ ব্যাকরণ’ও প্রশংসা পেয়েছে দর্শকদের কাছ থেকে।
মোশাররফ করিম বলেন, আসলে কেন মাথা খাটাবো? অমুকে এই জিনিসটা বানিয়েছে এবং সেটা হিট হয়ে গেছে সেটা অনুকরণ করলেই। তাতে হয় কি যারা সৃজনশীল মানুষ না, তাতেই তাদের হয়ে যায়। রোজগার হয়। আর কোনো ঝামেলা নেই। আর আমরা যারা দাবি করতে চাই যে আমরা সৃষ্টিশীল বা সৃষ্টিশীলতার মধ্যে ঢুকতে চাই, সৃষ্টিশীলতা আমাদের আনন্দ দেয়। তখন আমরা চিন্তায় পড়ে যাই। আমরা যেহেতু নাটক বা সিনেমা বানাই না, সেরকম জিনিস আমাদের কাছে আসতে হবে। হয়তো এবারের নাটকগুলোতে তেমনই কিছু পেয়েছেন মোশাররফ করিম। যার কারণে ত্যাগ স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি। এর ফল অবশ্য পেলেন হাতেনাতে।
উল্লিখিত নাটকগুলো ছাড়া এই ঈদে যেসব নাটকে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘সুরত’, ‘আনমাইন্ডফুল’, ‘কবুল বলিল কে?’, ‘এটাই ভালোবাসা’, ‘বাবা হতে চাই’, ‘যমজ ১২’, ‘সেই রকম বাকি খোর’, ‘ভালোবাসার সর্দিকাশি,’ ‘বাদশাহ্ আলমগীরের লটারি’, ‘ভিউ বাবা’, ‘লুজারস ২’, ‘জোকার জসিম’ ইত্যাদি।