শেষ হোক এই নির্মম নাটকের

আগের সংবাদ

পাবনায় ঝাড়ফুঁক দেয়া গুড় খেয়ে ইমামের মৃত্যু

পরের সংবাদ

জামাল উদ্দীন আহমেদ

মাদকের চাহিদা কমানোই প্রধান চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৪, ২০১৯ , ৯:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৯, ৬:২৭ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

বর্তমানে দেশের ভয়ানক ব্যাধি মাদক নির্মূল করতে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। দেশে এই অবৈধ মাদকের প্রবাহ রোধ, মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা, মাদকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। মাদক নির্মূলের বিভিন্ন প্রসঙ্গে সম্প্রতি ভোরের কাগজের মুখোমুখি হন ডিএনসির মহাপরিচালক (ডিজি) জামাল উদ্দীন আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইমরান রহমান

ভোরের কাগজ: উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অন্যতম বাধা মাদক। ভয়াবহ মাদক নিয়ন্ত্রণে ডিএনসির কর্মপন্থা কী?
জামাল উদ্দীন আহমেদ: মাদক নির্মূলে আমরা সাধারণত তিন ধরনের কাজ করে থাকি। প্রথমত, যারা মাদক বিক্রি ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ফৌজদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছি। দ্বিতীয়ত, যেহেতু আমাদের দেশে মাদক তৈরি না হলেও চাহিদা থাকার কারণে বাইরের রাষ্ট্র থেকে মাদক আসছে, সেহেতু চাহিদা কমানোর দিকে আমরা বেশি জোর দিচ্ছি। বলতে পারেন, এটিকে আমরা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। তৃতীয়ত, চাহিদা কমানোর অংশ হিসেবে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার মাধ্যমে পুনর্বাসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ভোরের কাগজ: মাদকের ভয়াবহতা নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ কোথায়?
জামাল উদ্দীন আহমেদ: মাদক আগের মতো সহজলভ্য নেই। সংগ্রহ করতেও অনেক কাঠগড় পোড়াতে হচ্ছে। তবে বেশ কয়েক বছর ধরেই ইয়াবা ট্যাবলেটের প্রাদুর্ভাব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ছাড়াও ফেনসিডিল, হেরোইন ও গাঁজার ভয়াবহতা রয়েছে। মাদক কারবারিরা অনেক প্রভাবশালী। আবার তারা প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করে ব্যবসা করছে। ফলে আইনের শক্তিতে বলীয়ান থেকে প্রতিনিয়তই আমরা এসব চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দেয়া হয় না।

ভোরের কাগজ: মাদক নির্মূল কর্মকাণ্ডে ডিএনসির সংকট কোথায়?
জামাল উদ্দীন আহমেদ: আমাদের পর্যাপ্ত লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। গাড়ি নেই। জনবল সংকট। অস্ত্র নেই। আমাদের জনবলের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণও নেই। তবে আমরা সবাইকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। ডিএনসিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপ দেয়া সময়ের ব্যাপার।

ভোরের কাগজ: মাদক কারবারীদের ধরতে আপনাদের কোনো সমন্বয়হিনতা আছে?
জামাল উদ্দীন আহমেদ: বর্তমানে আমাদের একটি সমস্যা হচ্ছে অস্ত্র ছাড়াই অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ীদের মোকাবেলা করা। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আইনের বিভিন্ন ধারা-উপধারায় ক্ষমতাবান হয়ে কাজ করছেন। অনেক অভিযানে খালি হাতে অস্ত্রধারী মাদক কারবারিকেও ধরছেন। তবে অস্ত্র থাকলে এ কাজগুলো আরো সহজ হতো। এরপরেও মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের সব সংস্থাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সহযোগিতা করছে। এখানে সমন্বয়হীনতার কিছু নেই।

ভোরের কাগজ: মাদকবিরোধী সর্বাত্মক অভিযানের এক বছর পার হলেও মাদক আসছেই। কারণ কী?
জামাল উদ্দীন আহমেদ: মাদকের চাহিদা যতদিন থাকবে ততদিন রুট ও কৌশল পরিবর্তন করে মাদক আসবেই। সুতরাং গণসচেতনতা সৃষ্টি করে মাদকের চাহিদা কমাতে হবে। আগেই বলেছি, চাহিদা কমানোকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। এ জন্য স্কুল-কলেজ-পরিবার থেকে শুরু করে সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এ মাসেই ডিজিটাল ডিভাইস কিয়স্কয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ছাড়াও মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য ১ বছরের ব্যবধানে কেন্দ্রীয় নিরাময় কেন্দ্রকে ৫০ ওয়ার্ড থেকে ১২৪ ওয়ার্ডে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বেসরকারি ২৭৫টিরও বেশি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ভোরের কাগজ: মাদকবিরোধী অভিযানে তিন শতাধিক ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এতে ন্যায়বিচার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মানবাধিকার কর্মীরা। আপনার কী মনে হয়?
জামাল উদ্দীন আহমেদ: আপনিই বলছেন বন্দুকযুদ্ধ। অর্থাৎ জানমাল রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হয়েছে। আর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সময় কারো দ্বারা আক্রান্ত হলে তার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া দোষের কিছু নয়। এটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করাও ঠিক নয়।

ভোরের কাগজ: মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেই ইয়াবার মতো মাদকের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
জামাল উদ্দীন আহমেদ: সম্প্রতি ভয়ানক দুটি নতুন মাদক খাত ও আইসের আবির্ভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে শিকড় বিস্তারের আগেই আমরা এ দুটির উৎস উপড়ে ফেলেছি।

ভোরের কাগজ: তাহলে সীমান্ত পথে মাদক আমদানি রোধে ডিএনসি কীভাবে কাজ করছে?
জামাল উদ্দীন আহমেদ: এক সময় কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ করলেও এখন সেটি বদলেছে। এখন দুর্গম পাহাড়ি পথ ও সমুদ্র পথ বেছে নেয়া হচ্ছে। এ জন্য ডিএনসির সীমান্তবর্তী প্রত্যেক অফিসকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ভোরের কাগজ: নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি না হওয়ায় হাজার হাজার মাদক মামলা এমনিতে ঝুলে আছে। নতুন করে আবার মামলা হচ্ছে। মামলার এই জট মাদক নির্মূলে প্রতিবন্ধকতা নয়কি?
জামাল উদ্দীন আহমেদ: ২০১৮ সালে কার্যকর হওয়া নতুন মাদক আইনে মাদক মামলার আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আমরা আশা করছি।

ভোরের কাগজ: দেশে ৭০ লাখ মাদকসেবী। এদের মধ্যে বড় অংশ তরুণ। মাদকের থাবা থেকে তাদের ফেরানোর উপায় কী?
জামাল উদ্দীন আহমেদ: মাদকাসক্ত তরুণদের চিকিৎসার মাধ্যমে পুনর্বাসন করতে হবে। এর পাশাপাশি অন্য কোনো তরুণ যাতে মাদক স্পর্শ না করে সে বিষয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আগামীর বাংলাদেশ তারুণ্যের। নিজ হাতে সোনার বাংলাদেশ গড়তে তারা যেন মাদক থেকে দূরে থাকে।

 

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা