শেষ হোক এই নির্মম নাটকের

আগের সংবাদ

পাবনায় ঝাড়ফুঁক দেয়া গুড় খেয়ে ইমামের মৃত্যু

পরের সংবাদ

জামাল উদ্দীন

মাদকের চাহিদা কমানোই প্রধান চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৪, ২০১৯ , ৯:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০১৯, ৫:৪২ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

বর্তমানে দেশের ভয়ানক ব্যাধি মাদক নির্মূল করতে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। দেশে এই অবৈধ মাদকের প্রবাহ রোধ, মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা, মাদকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। মাদক নির্মূলের বিভিন্ন প্রসঙ্গে সম্প্রতি ভোরের কাগজের মুখোমুখি হন ডিএনসির মহাপরিচালক (ডিজি) জামাল উদ্দীন আহমেদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইমরান রহমান।

উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অন্যতম বাধা মাদক নিয়ন্ত্রণে ডিএনসির কর্মপন্থা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে আমরা সাধারণত ৩ ধরনের কাজ করে থাকি। প্রথমত, যারা মাদক বিক্রি ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ফৌজদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছি। দ্বিতীয়ত, যেহেতু আমাদের দেশে মাদক তৈরি না হলেও চাহিদা থাকার কারণে বাইরের রাষ্ট্র থেকে মাদক আসছে। সেহেতু চাহিদা কমানোর দিকে আমরা বেশি জোর দিচ্ছি। বলতে পারেন, এটিকে আমরা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। তৃতীয়ত, চাহিদা কমানোর অংশ হিসেবে মাদকাসক্তদের চিকিৎসার মাধ্যমে পুনর্বাসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদক আগের মতো সহজলভ্য নেই। সংগ্রহ করতেও অনেক কাঠগড় পোড়াতে হচ্ছে। তবে বেশ কয়েক বছর ধরেই ইয়াবা ট্যাবলেটের প্রাদুর্ভাব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ছাড়াও ফেনসিডিল, হেরোইন ও গাঁজার ভয়াবহতা রয়েছে। তিনি বলেন, মাদক কারবারিরা অনেক প্রভাবশালী। আবার তারা প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করে ব্যবসা করছে। ফলে আইনের শক্তিতে বলীয়ান থেকে প্রতিনিয়তই আমরা এসব চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি। এ ক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দেয়া হয় না।

ডিএনসির বর্তমান সংকট সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। গাড়ি নেই। জনবল সংকট। অস্ত্র নেই। আমাদের জনবলের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই। তবে আমরা সবাইকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। ডিএনসিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপ দেয়া সময়ের ব্যাপার।

তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের একটি সমস্যা হচ্ছে অস্ত্র ছাড়াই অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ীদের মোকাবেলা করা। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আইনের বিভিন্ন ধারা-উপধারায় ক্ষমতাবান হয়ে কাজ করছেন। অনেক অভিযানে খালি হাতে অস্ত্রধারী মাদক কারবারিকেও ধরছেন। তবে অস্ত্র থাকলে এ কাজগুলো আরো সহজ হতো। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের সব সংস্থাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সহযোগিতা করছে। এখানে সমন্বয়হীনতার কিছু নেই।

মাদকবিরোধী সর্বাত্মক অভিযানের এক বছর পার হলো। এরপরও মাদক আসার কারণ সম্পর্কে তিনি জানান, মাদকের চাহিদা যতদিন থাকবে ততদিন রুট ও কৌশল পরিবর্তন করে মাদক আসবেই। সুতরাং গণসচেতনতা সৃষ্টি করে মাদকের চাহিদা কমাতে হবে। আগেই বলেছি, চাহিদা কমানোকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। এ জন্য স্কুল-কলেজ-পরিবার থেকে শুরু করে সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এ মাসেই ডিজিটাল ডিভাইস কিয়স্কয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ছাড়াও মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য ১ বছরের ব্যবধানে কেন্দ্রীয় নিরাময় কেন্দ্রকে ৫০ ওয়ার্ড থেকে ১২৪ ওয়ার্ডে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বেসরকারি ২৭৫টিরও বেশি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে তিন শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা এ নিয়ে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার প্রশ্ন তুলেছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আপনিই বলছেন বন্দুকযুদ্ধ। অর্থাৎ জানমাল রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়েছে। আর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সময় কারো দ্বারা আক্রান্ত হলে তার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়া দোষের কিছু নয়। এটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করাও ঠিক নয়।

মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেই সম্প্রতি নতুন মাদকের আবির্ভাব লক্ষ্য করা গেছে। এ পরিস্থিতিতে ইয়াবার মতো অন্য কোনো মাদকের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা সম্পর্কে তিনি বলেন, সম্প্রতি ভয়ানক দুটি নতুন মাদক খাত ও আইসের আবির্ভাব লক্ষ্য করা গেছে। তবে শিকড় বিস্তারের আগেই আমরা এ দুটির উৎস উপড়ে ফেলেছি।

সীমান্ত পথে মাদক আমদানি রোধে ডিএনসির কর্মসূচি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক সময় কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ করলেও এখন সেটি বদলেছে। এখন দুর্গম পাহাড়ি পথ ও সমুদ্র পথ বেছে নেয়া হচ্ছে। এ জন্য ডিএনসির সীমান্তবর্তী প্রত্যেক অফিসকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি না হওয়ায় হাজার হাজার মাদক মামলা ঝুলে আছে। এসব মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে কার্যকর হওয়া নতুন মাদক আইনে মাদক মামলার আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছি।

দেশে ৭০ লাখ মাদকসেবী। এদের মধ্যে বড় অংশ তরুণ। তাদের মাদক থেকে ফেরানোর উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, মাদকাসক্ত তরুণদের চিকিৎসার মাধ্যমে পুনর্বাসন করতে হবে। এর পাশাপাশি অন্য কোনো তরুণ যাতে মাদক স্পর্শ না করে সে বিষয়ে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আগামীর বাংলাদেশ তারুণ্যের। নিজ হাতে সোনার বাংলাদেশ গড়তে তারা যেন মাদক থেকে দূরে থাকে।