অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত

আগের সংবাদ

মোশাররফে মুগ্ধতা এখনো...

পরের সংবাদ

টেলিভিশন বনাম ইউটিউব

মেলা প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: August 24, 2019 , 4:18 pm

গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, আমাদের দেশের দর্শকরা টেলিভিশনে নাটক বা টেলিছবি দেখছেন না! নাটক টেলিভিশনে নয়, দর্শক দেখছেন ইউটিউবে। যেহেতু এখন টেলিভিশনের দর্শকরা ইউটিউবের দিকে ঝুঁকছে সে কারণেই এখন দেশের প্রায় সব বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলের রয়েছে নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল। আর এসব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারও লাখ লাখ। প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সাবস্ক্রাইবার। ফলে নাটক প্রচারের সঙ্গে সঙ্গেই চ্যানেলগুলো নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড দিচ্ছে তাদের প্রচারিত নাটক, টেলিছবি ও অন্যান্য অনুষ্ঠান। টেলিভিশন চ্যানেলের বিভিন্ন অনুষ্ঠান বিভাগ এখন নাটক প্রচারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি ইউটিউবে আপলোড দিচ্ছেন। আর এখন তো কেউ কেউ শুধু ইউটিউব-কেন্দ্রিকই নির্মাণ করছেন নাটক। বিশেষভাবে লক্ষ করার মতো বিষয় হলো এ বছর ঈদে যত সংখ্যক নতুন নাটক টেলিভিশনের জন্য নির্মিত হচ্ছে তত সংখ্যক নাটক ইউটিউব চ্যানেলের জন্যও নির্মিত হয়েছে। ‘বড় ছেলে’ নাটকের নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ান বলেন, এটা স্বীকার করতেই হবে যে, এখনো নাটক দেখার সবচেয়ে বড় মাধ্যম টেলিভিশন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে টিভি দেখা উৎসবের মতো। কিন্তু এখন মানুষ ইউটিউবের দিকেও ঝুঁকছে। এর অন্যতম কারণ বিজ্ঞাপন। নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহ বলেন, চ্যানেলের মতো ইউটিউব হচ্ছে আরেকটি মাধ্যম। আর সে কারণেই চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কিন্তু ইউটিউবে নাটক আপলোড করে। এতে করে টিভিতে প্রচারের সময় যারা নাটকটি দেখতে পারেননি, তারা ইউটিউবে নাটকটি দেখতে পারছেন। এতে নাটকের দর্শকসংখ্যা বাড়ছে। ইউটিউবে নাটকের বাজার একসময় আরো প্রসারিত হবে। ইউটিউবে নাটকের স্বত্ব ইউটিউবের মালিকের। শুধু ইউটিউবেই নয়, একই নাটক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে উঠানো যায়। এই প্ল্যাটফর্ম থেকেও আয় আসে। ফলে এখানে বিনিয়োগের অনেকটাই সুরক্ষা আছে। টেলিভিশনের চেয়ে ইউটিউবের বেশির ভাগ নাটকের বাজেট বেশি থাকে। যেখানে টেলিভশনে এক ঘণ্টার নাটকের বাজেট ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে আড়াই লাখ, সেখানে ইউটিউবের এক ঘণ্টার নাটকের বাজেট ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা। নির্মাতা মোস্তফা কামাল বলেন, অনেকে ভাবেন ইউটিউবে আমাদের নাটক লাখ লাখ ভিউ হচ্ছে বলে আমরা অনেক টাকা আয় করছি। এটা ঠিক তা নয়। ইউটিউবে নাটক বানিয়ে পুরো টাকাটা তুলে আনা এখনো আমাদের দেশে এতটা সহজ নয়। তবে আস্তে আস্তে উঠে আসতে পারে। তবে ইদানীং বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাগুলো আমাদের ইউটিউবের ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। হয়তো একটি নাটকের জন্য কিছু টাকা তারা দিল, বাকিটা গুগলের বিজ্ঞাপন থেকেই আস্তে আস্তে উঠে আসে। এত অনিশ্চয়তার মাঝেও আমরা কাজটি করছি অন্য কারণে। তা হলো- প্রতিটি নতুন জিনিস শুরু করতে হলে একটা লগ্নি লাগে। আস্তে আস্তে তা প্রতিষ্ঠিত হলে সুফল ভোগ করা যায়। এখন আমরা ইউটিউবে লগ্নি করছি, কিন্তু আশাবাদী এক সময় এ থেকেই অনেক ভালো কিছু আমরা ফেরত পাব। তিনি আরো বলেন, আমরা চাই নিজের মতো কাজ করতে। টেলিভিশনে নতুন পরিচালকদের কাজ খুব একটা প্রচার করতে চায় না। কিন্তু আমার অনেক সহকারী পরিচালক আছেন যারা ভালো কাজ করতে চায়। তাদের কাজগুলো দর্শক পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার জন্যও আমার চ্যানেলে নতুন নাটক প্রকাশ করছি। প্রায় দুই দশক ধরে টেলিভিশনের জন্য নাটক নির্মাণ করা শিহাব শাহীন বলেন, টিভিতে কতজন দর্শক আমার পরিচালিত নাটক ও টেলিছবি দেখছেন, তার সঠিক হিসাব দিতে পারব না। কিন্তু ইউটিউবে কতজন দর্শক দেখছেন, সেটা বলতে পারছি। সে কারণে ইউটিউবকে নাটক, টেলিছবি, গান ও চলচ্চিত্রে বক্স অফিসও বলা যায়। তবে এই যে, এত এত নাটকের ভিউ। এতে করে কিন্তু একজন শিল্পী বা নির্মাতার আত্মতুষ্টি ছাড়া আর কোনো লাভ হচ্ছে না।