হাইকোর্টের তিন বিচারপতিকে কাজ থেকে সাময়িক অব্যাহতি

আগের সংবাদ

বিমানের ভেতরেই জন্মদিন কাটবে

পরের সংবাদ

চক্র সক্রিয়

চট্টগ্রামে বিদেশি মদের নামে ভেজাল পানীয়

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২২, ২০১৯ , ১২:৫৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২২, ২০১৯, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

Avatar

নগরীতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নকল বিদেশি মদ তৈরি করে বিক্রি করে আসছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্পিরিট, ঘুমের ওষুধ, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, রঙ মিশিয়ে তৈরি করা মদ বিক্রি হচ্ছে বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে। এসব ভেজাল মদ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।
সম্প্রতি বিষাক্ত মদ খেয়ে তিনজনের মৃত্যুর পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভেজাল মদ তৈরি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে পুলিশ জানিয়েছে, অনুমোদিত বিভিন্ন বার ও ক্লাব থেকে বিদেশি মদের খালি বোতল সংগ্রহ করে তাতে ভেজাল মদ ঢুকিয়ে নতুন লেভেলে বাজারজাত করা হচ্ছে। মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় প্রতি বোতল ভেজাল মদ তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে দেড় হাজার থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত দামে। এসব ভেজাল মদ শরীরে বিষক্রিয়া তৈরি করছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ-সিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৩ আগস্ট রাতে নগরীর আকবর শাহ থানার বিশ্বকলোনির মালিপাড়ায় বিষাক্ত মদ পানে বিশ্বজিৎ মল্লিক, শাওন মজুমদার জুয়েল ও মিল্টন গোমেজ নামে তিন যুবকের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন উজ্জ্বল বণিক নামে একজন। বিষাক্ত মদ পানে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, যে মদ পান করে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সেই মদ গত ১৩ আগস্ট বিশ্বজিৎকে দেড় হাজার টাকার বিনিময়ে সরবরাহ করে নাছিম নামে এক ব্যক্তি। নাছিমসহ আরো কয়েকজন মিলে নগরীতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে, যারা বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল মদ তৈরি করে বিক্রি করে আসছে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় ভেজাল মদ তৈরি চক্রের মূল হোতা নাছিম উদ্দিন, স্প্রিরিট সরবরাহের অভিযোগে ইকরামুল হক ও স্বপন পাল, নকল বিদেশি মদের লেবেল বানানোর অভিযোগে ইমরান ফয়সাল ও জাহেদুর রহমান আরজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে স্পিরিট, নকল লেভেল, ভেজাল মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ, বোতলের কর্ক জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির উপকমিশনার (পশ্চিম) ফারুক উল হক বলেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে নাছিম জানিয়েছে, তারা গত চার বছর ধরে ভেজাল মদ তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তারা বাসায় বসে ভেজাল মদ তৈরি করে। বিভিন্ন নামিদামি হোটেল থেকে বিদেশি মদের খালি বোতল সংগ্রহ করে। পরে নকল লেবেল প্রিন্ট করে খালি বোতলে লাগায়। এরপর হোমিও ওষুধের দোকান থেকে স্পিরিট, ঢাকা থেকে কর্ক, মদ তৈরির বিভিন্ন কেমিক্যাল, রঙ সংগ্রহ করে।