তারেক রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য উচ্চ আদালতে যাবো : কাদের

আগের সংবাদ

ডেঙ্গুর ভিড়ে অন্য জ্বরকে অবহেলা নয়

পরের সংবাদ

ফিরে দেখা : সেই ভয়াল দিন

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২১, ২০১৯ , ১২:৫২ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৯, ১২:৫২ অপরাহ্ণ

Avatar

সেদিন ছিল শনিবার। ভাদ্র মাসের পড়ন্ত বিকেল। রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশের নিচে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশ। বিকেল ৫টা বেজে ২২ মিনিট। হঠাৎ বিকট শব্দে গ্রেনেড বিস্ফোরণ। এরপর খই ফোটার মতো ফুটতে থাকে একের পর এক গ্রেনেড। জনাকীর্ণ সমাবেশে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত ট্রাককে লক্ষ্য করেই ছোড়া হচ্ছিল

গ্রেনেডগুলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিস্ফোরিত হয় ১৩টি গ্রেনেড। পরে অবিস্ফোরিত ৪টি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। যার ৩টি জব্দ করা হয়। সেদিনের পৈশাচিক হামলার প্রধান টার্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। পরিস্থিতি বুঝে ট্রাকে অবস্থানরত নেতৃবৃন্দ ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা ঘিরে মানবঢাল তৈরি করে রক্ষা করেন প্রিয় নেত্রীকে। ভাগ্যক্রমে ঘাতকের গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড থেকে তিনি বেঁচে গেলেও ভয়াবহ ওই ঘাতক বুলেটে আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ চিরতরে হারিয়ে যায় ২৪টি তাজা প্রাণ। আহত হন চার শতাধিক নেতাকর্মী। লাশের মিছিলে স্বজনদের আহাজারি আর আহতদের চিৎকারে ভারি হয়ে ওঠে রাজধানীর পরিবেশ।

আজ সেই বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট। রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে স্মরণকালের নৃশংসতম গ্রেনেড হামলার রক্তঝরা দিন। ২০০৪ সালের এই দিনে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার ঘৃণ্য লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ গ্রেনেড হামলায় মেতে ওঠে ঘাতকের দল।
ফিরে দেখা সেই ভয়াল দিন : ওইদিন সমাবেশ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল হওয়ার কথা। তাই মঞ্চ নির্মাণ না করে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি ট্রাককে মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি শেখ হাসিনার বক্তৃতার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিকট শব্দে একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। হামলাকারীরা যখন বুঝতে পারে শেখ হাসিনা অক্ষত, তখন গুলি ছুড়তে শুরু করে। নেতৃবৃন্দ ও দেহরক্ষীরা দ্রæত শেখ হাসিনাকে তার বুলেটপ্রুফ গাড়িতে তুলে দেন। তখন শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ৬টি বুলেট। শেখ হাসিনা বুলেট থেকেও রক্ষা পেলে বুলেটবিদ্ধ হন পেছন থেকে আগলে রাখা তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী মাহবুব। গ্রেনেডের বিকট শব্দে শেখ হাসিনার কানের শ্রবণযন্ত্র মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মৃত্যুর মিছিলে অকুতোভয় সৈনিকরা : সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে এসে সন্ত্রাসীদের গ্রেনেডে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভী রহমান, কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক মোস্তাক আহমেদ সেন্টু, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স কর্পোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের (দক্ষিণ) কর্মী সুফিয়া বেগম, ১৫নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মমতাজ রীনা, মাদারীপুর জেলার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি লিটন মুন্সী, রি-রোলিং মিল ব্যবসায়ী রতন সিকদার, ৩০ নং ওয়ার্ড শ্রমিক নেতা মো. হানিফ, সরকারি কবি নজরুল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মামুন মৃধা, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসম্পাদক বেলাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আবদুস কুদ্দুস পাটোয়ারী, যুবলীগ নেতা আতিক সরকার, শ্রমিক লীগ কর্মী নাসিরউদ্দীন সরদার, মহিলা আওয়ামী লীগের রেজিয়া বেগম, বালুঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, আবুল কাশেম, মমিন আলী, শামসুদ্দিন, ইছহাক মিয়া এবং অজ্ঞাতনামা আরো দুজন। আহত হয়েছিলেন চার শতাধিক নেতাকর্মী। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, এডভোকেট সাহারা খাতুন, ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, মোহাম্মদ হানিফ, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ প্রমুখ আহত হন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল ঠুঁটো জগন্নাথ : সেদিন সমাবেশস্থল ও এর আশপাশে দায়িত্বরত কয়েকশ সশস্ত্র পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পুলিশ কাউকে আটক না করে হতাহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপকভাবে লাঠিচার্জ এবং টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে হামলাকারীদের নিরাপদে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। পরে প্রকৃত খুনি ও অপরাধীদের আড়াল করার হীন উদ্দেশে জজ মিয়া নাটক সাজায়।

কর্মসূচি : গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আজ বুধবার সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত বেদীতে পুস্পার্ঘ্য নিবেদন এবং বিকেল ৪টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।