ফিরে দেখা : সেই ভয়াল দিন

আগের সংবাদ

কাশ্মির ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় : বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

ডেঙ্গুর ভিড়ে অন্য জ্বরকে অবহেলা নয়

সেবিকা দেবনাথ :

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২১, ২০১৯ , ১:০৪ অপরাহ্ণ

দুই দিন জ্বরে ভোগার পর সম্প্রতি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করান বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র সৌরভ দাস। রিপোর্টে ডেঙ্গু নেগেটিভ আসায় স্বস্তি পেলেও গত ছয় দিনেও সৌরভের জ¦র সারেনি। সেই সঙ্গে মাথা ও শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা। প্যারাসিটামলেও অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় সৌরভ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসক সৌরভকে ‘ব্লাড কালচার’ করার পরামর্শ দেন এবং সেখানে ধরা পড়ে সৌরভ টাইফয়েডে আক্রান্ত। সৌরভের মতো মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা গৃহিণী মেঘলা রহমানেরও একই অবস্থা। জ¦রে আক্রান্ত হয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষার পর রিপোর্টে ডেঙ্গু নেগেটিভ আসে। পরবর্তীতে জ¦র ভালো না হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্লাড কালচার করালে তার টাইফয়েড ধরা পড়ে। মেঘলা বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও সৌরভ ও মেঘলার মতো অনেকেই টাইফয়েডসহ ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, টাইফয়েড হয়েছে এরকম সন্দেহ হওয়ার সাত দিন পর ‘ব্লাড কালচার’ করার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষা করতে সাধারণত তিন দিন সময় লাগে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু দেশজুড়ে যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে তাতে অন্য জ্বরে আক্রান্তের বিষয়টি অনেকটা চাপা পড়ে গেছে। ডেঙ্গুর ভয়াবহতার তুলনায় অন্য জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা কম। তবে সংখ্যায় কম হলেও জ¦র হলে কোনো ধরনের অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, টাইফয়েড জ্বর আমাদের দেশে পরিচিত রোগ। বর্তমান ডেঙ্গুর প্রকোপের পাশাপাশি টাইফয়েড জ্বরও বেশ লক্ষণীয়। তবে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা এতটাই যে দেশের মানুষ টাইফয়েড, প্যারা টাইফয়েড, চিকুনগুনিয়া ও ভাইরাস জ¦রের নাম ভুলেই গেছে। ভেক্টর বর্ন ডিজিজ নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা এসেন্ডের কান্ট্রি হেড এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহম্মেদ ভোরের কাগজকে বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মনে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাই এখন মানুষ জ¦র হলেই ভাবে ডেঙ্গু। ৪/৫ দিনের মধ্যেই ডেঙ্গু জ¦র সেরে যায়, আর পানিবাহিত রোগ টাইফয়েড হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি জ¦র। শুরুতেই গুরুত্ব না দিলে অনেক সময় মাসের পর মাসও এই জ¦র থাকতে পারে। একে মেয়াদি জ¦রও বলা হয়। এ বছর কতজন টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছে সেই সংখ্যা আমাদের কাছে নেই। ডেঙ্গুর মতো ব্যাপক না হলেও টাইফয়েডেও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া এডিস মশা যেহেতু আছে সেহেতু চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জার ‘সিজন’ চলছে। এতেও আক্রান্ত হচ্ছে অনেকে।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া ভোরের কাগজকে বলেন, আমাদের হাসপাতালে টাইফয়েড ও ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত বেশ কয়েকজন রোগী ভর্তি আছে। সংখ্যাটা পরিমাপ করা হয়নি। তবে তা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার তুলনায় অনেক কম। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের হাসপাতালে ৭০৪ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ডেঙ্গু পজেটিভ হয়েছে ৭০ জনের। বাকিরা ইনফ্লুয়েঞ্জা, ভাইসজনিত জ¦রে আক্রান্ত। ডেঙ্গুর ভিড়ে টাইফয়েড বা অন্য জ্বর হলে যাতে অবহেলা না হয় এই বার্তাটিও মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিতে হবে।