পুঠিয়ায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যা

আগের সংবাদ

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুতে এক ব্যক্তির মৃত্যু

পরের সংবাদ

ডেঙ্গু পরিস্থিতি

আগামী কয়েকটা দিন হতে পারে ভয়ঙ্কর

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১৯, ২০১৯ , ১:২৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০১৯, ৩:২১ অপরাহ্ণ

Avatar

ঈদের ছুটিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে এলেও আগামী কয়েক দিনে তা আবারো বাড়তে পারে। আর সেই সময় পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, থেমে থেমে বৃষ্টি এবং রোদ এডিস মশার বংশ বিস্তারের জন্য অনুক‚ল। এডিসের লার্ভা ধ্বংস এবং মশা নিধনে এখনো পর্যন্ত সমন্বিত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে ইতোমধ্যেই কর্মক্ষেত্রে যোগ দিয়েছেন অনেকে। গতকাল সরকারি অফিস খুলেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও খুলবে পুরোদমে। ঈদের ছুটির আগে সরকারের যেসব নির্দেশনা ছিল তা সঠিকভাবে পালন না করলে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, তা বুঝতে আগামী ৭ দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা ভোরের কাগজকে বলেন, আবহাওয়া এডিস মশার অনুক‚লে। আর সে জন্যই আমাদের আশঙ্কা। ঈদে অনেক মানুষ ঢাকার বাইরে গিয়েছিল। তারা ফিরতে শুরু করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও কয়েক দিনের মধ্যে খুলবে। ডেঙ্গু রোধে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। এসব নির্দেশনা কতটা মানা হবে তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। যদি সবাই নির্দেশনাগুলো মেনে চলেন তাহলে আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে।

প্রসঙ্গত, ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামের বাড়ি গিয়েছেন ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে তাদের উদ্দেশে ৫ আগস্ট বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাতে বাসার সব রুমের দরজা-জানালা, বাথরুম বা টয়লেটের জানালা ভালোভাবে বন্ধ করা, টয়লেটের কমোড ঢেকে রেখে, বালতি, বদনা ও ড্রাম খালি অবস্থায় উল্টো করে রাখা, বারান্দা বা ছাদে ফুলের টব কিংবা বৃষ্টির পানি জমতে পারে এমন কোনো পাত্র না রাখা, সোফা, পর্দা ও ঝুলন্ত কাপড়ের নিচে এবং রান্নাঘরসহ সব ঘরের মেঝে, বারান্দা ও বাথরুম পরিষ্কার করে সেখানে অ্যারোসল স্প্রে করা, ফ্রিজের পানি জমার জায়গায় ন্যাপথলিন দিয়ে রাখা, অব্যবহৃত বোতল বা কন্টেইনার না রাখা, অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। অফিস বা কর্মস্থলেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, এ কথা সত্য যে, পরিস্থিতি অনেকটাই জটিল হয়ে পড়েছে। তবে এটিও সত্য আক্রান্তের সংখ্যা কমে এসেছে। লার্ভা ধ্বংস ও মশা নিধন করা সম্ভব হলে এ সংখ্যা আরো কমে আসবে। বর্তমানে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির যে অবস্থা তাকে দ্বিতীয় পর্যায় বলে উল্লেখ করেন প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেনিন চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ছুটিতে ঢাকা ছেড়েছেন তারা ডেঙ্গুর বাহক হিসেবে কাজ করেছে। তারা কতটা ডেঙ্গুর বিস্তার করেছেন কিংবা সেখান থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন তা বুঝতে কিছুটা সময় লাগবে। ৩-১৪ দিনের মধ্যে ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। তাই সামনের কয়েকটা দিন ঘিরে আমাদের আতঙ্ক বাড়ছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম থাকলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবং মশা নিধনের কাজে যারা আছে তাদের দুর্বলতা এখনো লক্ষ করা যাচ্ছে বলে মনে করেন পরিবেশ আন্দোলনের এই নেতা। তিনি বলেন, মশা নিধন নিয়ে এক ধরনের আই ওয়াশ ও ফটোসেশনের প্রতিযোগিতা চলছে। এতে কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না বরং এডিসের বংশবিস্তার হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ বাড়ছে। দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় এক যোগে পর পর দুই দিন মশা ধ্বংসের কাজ শুরু করলে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।