যেকোনো সময় যে কাউকে নিজের কাছে যাওয়ার অনুমতি প্রধানমন্ত্রীর

আগের সংবাদ

চামড়া শিল্পের জন্য সহায়ক নীতি প্রয়োজন

পরের সংবাদ

সততা, সদিচ্ছা ও দায়বোধের অভাব

মহাসড়কে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ কি হবে না?

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১৮, ২০১৯ , ৯:৩০ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১৮, ২০১৯, ৯:৩০ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কোনো পদক্ষেপই কাজে আসছে না। গত বছর নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশজুড়ে কঠোর আন্দোলন হলেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ঈদ এলেই সড়কে নামে মৃত্যুর মিছিল। ঈদের আগে-পরে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট থেকে গত শনিবার পর্যন্ত ঈদের আগে-পরের ৯ দিনে সড়কে অন্তত ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এর মধ্যে গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জনসহ মারা গেছেন ১২ জন। সর্বশেষ গতকাল কুমিল্লার লালমাইয়ে বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। ঈদের ছুটি শুরুর পর থেকে গত ৭ দিনে নিহতের সংখ্যা ৮৮ জন। অন্যদিকে ঈদযাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় মোট ২৫৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এই পরিসংখ্যান দেখে মনে হচ্ছে, যমের দখলে মহাসড়ক। এ দেশে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহু স্থানে সড়ক-মহাসড়কের বেহালদশা, বিপজ্জনক মোড় বহাল রাখা, ভুয়া লাইসেন্সধারী চালকের সড়কে নামা, চালকদের প্রশিক্ষণের আওতায় না আনা, সচেতনতামূলক কর্মসূচির অনুপস্থিতি, মানুষ হত্যা করেও চালকদের পার পেয়ে যাওয়া- এসব কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। আর যা ঘটছে তার সবই কি দুর্ঘটনা? প্রতিরোধযোগ্য হওয়ার পরও যদি আমরা উদাসীন থাকি, কাক্সিক্ষত নীতি প্রণয়ন করে না এগোই, লাইসেন্সবিহীন সহকারীর হাতে তুলে দেই স্টিয়ারিং, তাহলে একে কি হত্যাকাণ্ড বলা যায় না? উন্নত বিশ্বের অনেক দেশ সঠিক নীতি ও কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমিয়ে আনতে পেরেছে। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্ধেক দেশ পর্যায়ক্রমে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ও মৃত্যুর হার কমিয়ে এনেছে, কিন্তু বেড়েছে বাকি ৫০ শতাংশ দেশে- যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। এই ব্যর্থতার দায়ভার মেনে নিয়ে আমরা যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেই, পরিস্থিতি সামনে আরো ভয়াবহ হয়ে উঠবে। সরকারি হিসাবে অবশ্য গত পাঁচ বছরে সড়ক দুর্ঘটনা কমেছে, কিন্তু বাস্তবতা তা বলে না। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ বাড়তি দায়িত্ব এড়ানোর জন্য দুর্ঘটনার হিসাব রেকর্ডভুক্ত করে না। এভাবে উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে রেখে হিসাব কমিয়ে রাখলে সমস্যার তীব্রতা কমে যাবে না। সদিচ্ছা থাকলে অর্থ ব্যয় না করেই ২৫ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব। এ জন্য মহাসড়কের সঠিক স্থানে ট্রাফিক সাইন স্থাপনসহ ছোট ছোট কিছু কাজ করতে হবে। বাকিটার জন্য বিনিয়োগ করতে হবে। দীর্ঘদিনের নাগরিক দাবি আইন সংশোধন করে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের শাস্তি বাড়ানোর। সেই আইনও পাস হলো। কিন্তু প্রতিকার কি দেখছি? বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট (এআরআই) দুর্ঘটনাপ্রবণ ২১৬টি স্থান নির্ধারণ করে প্রতিকারের সুপারিশ করেছে অনেক আগেই। তা কি বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ মনোযোগী হয়েছেন? বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে ওঠেন, তারপর আবার চিরাচরিত শৈথিল্য। এভাবে আর কতদিন? যতদিন আমরা সততা, সদিচ্ছা, দায়বোধ থেকে সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে না নামব, ততদিন সড়ক-মহাসড়কে গাড়ির চাকায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে না।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা