৩৭০ ধারা বিলোপে কি কাশ্মির সংকট সমাধান হবে?

আগের সংবাদ

ডেঙ্গু সচেতনতায় গান

পরের সংবাদ

বাঙালির জাতিরাষ্ট্রের পিতা শেখ মুজিব

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১৭, ২০১৯ , ৮:২০ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১৭, ২০১৯, ১০:২১ অপরাহ্ণ

মোস্তাফা জব্বার

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও কলাম লেখক

আমরা বাঙালি হিসেবে একদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ঋণী যে তারা কেবল যে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববন্ধু হিসেবে সম্মানিত করেছেন। জাতিসংঘের একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এটি না হলেও জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আমাদের মহান নেতাকে যতটা সম্মান দিলেন তা আমার জন্য এক গৌরব তিলক। অন্যদিকে বিশ্বসংস্থার পক্ষ থেকে বাঙালির মাতৃভাষা বাংলার স্মৃতিকে বিশ্বজুড়ে সম্মান নিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারিকে যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা দেয়া হয়েছে তার জন্যও আমরা বিশ্ব সংস্থার কাছে কৃতজ্ঞ।

২০২০ সালের ১৭ মার্চ আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করব। বিশ্বের একমাত্র বাংলা ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্রের জাতির পিতার শততম জন্মবার্ষিকী পালন যে কত গৌরবের সেটি কেবল আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নাগরিকরা পরিপূর্ণভাবে অনুভব করব। তবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ৩৫ কোটি বাংলা ভাষাভাষীও অন্তত বিশ্বের একমাত্র বাঙালি রাষ্ট্র তার জনককে নিয়ে গর্ববোধ করবে। বাঙালি জনগোষ্ঠীর জন্য আরো গৌরবের বিষয় যে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী পালনের পরের বছরই আমরা আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্মের ৫০ বছর বা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। বস্তুত ২০২১ সালের এই জোড়াবর্ষে সারা বিশ্বে বাঙালি তার জাতিরাষ্ট্র, রাষ্ট্রের মূল নীতিমালা, রাষ্ট্রের পিতা, ৫০ বছরের অর্জন যেমন করে তুলে ধরবে তেমনি করে একটি লাঙল-জোয়ালের দেশকে কেমন করে ডিজিটাল বিপ্লবের দেশে পরিণত করছে সেটাও দেখাবে। এবার ২০১৯ সালে সারাদেশের মানুষ প্রমাণ করেছে বাঙালি জাতির পিতা যেমনি শেখ মুজিব তেমনি বাঙালি জাতিসত্তা গড়ে তোলার প্রাণপুরুষ একজনই- শেখ মুজিবুর রহমান। আমরা ১৯৬৯ সালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতাকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়েছিলাম, এবার জাতিসংঘের আলোচনায় তিনি বিশ্ববন্ধুর অভিধা পেলেন।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে ফ্রেন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড বা ‘বিশ্ববন্ধু’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বক্তারা। ১৫ আগস্ট সংস্থাটির সদর দপ্তরে প্রথমবারের মতো জাতীয় শোক দিবসের এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় জাতিসংঘের কনফারেন্স রুম ৪-এ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন জাতিসংঘের সদস্য দেশের স্থায়ী প্রতিনিধি, কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, নিউইয়র্কের যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার মানবাধিকার কর্মী, লেখক, চলচ্চিত্র শিল্পী, টিভি উপস্থাপক, ফটোগ্রাফার এবং প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনরা।
এর আগে সকাল ৯টায় স্থায়ী মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে জাতির পিতার ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস পালনের কর্মসূচি শুরু করা হয়। এ সময় ১৫ আগস্টের শহীদদের উদ্দেশে মিশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং ১৫ আগস্টের শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়ার মাধ্যমে সকালের সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি শেষ হয়। বিকেলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত শোক দিবসের মূল অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। এ সময় দেশি-বিদেশি অতিথিরা জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করেন। এরপর জাতির পিতার জীবন ও কর্ম এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা তুলে ধরে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু ও বহুপাক্ষিকতাবাদ’ বিষয়ে কি-নোট স্পিচ প্রদান করেন জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করিম চৌধুরী। বক্তব্য দেন ভারত, সার্বিয়া ও কিউবার স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ফিলিস্তিনের স্থায়ী পর্যবেক্ষক। প্রবাসী বাঙালি সম্প্রদায়ের পক্ষে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। সাংস্কৃতিক পর্বে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা ও গান পরিবেশন করা হয়। সবশেষে জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের সেই কালরাত্রিতে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির হাতে নৃশংসভাবে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য এবং জাতীয় চার নেতাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। রাষ্ট্রদূত মাসুদ তার স্বাগত ভাষণে জাতির পিতা জনগণের ক্ষমতায়ন, মানবাধিকারের সুরক্ষা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি, গণতন্ত্র, শান্তি ও সহাবস্থানের যে আদর্শ রেখে গেছেন তা তুলে ধরেন।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে প্রথমবারের মতো জাতির পিতার শাহাদতবার্ষিকীর এ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা আগামী বছর বিশ্বব্যাপী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছি। সে উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ২০২১ সালে উদযাপন করা হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।’ এসব অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান স্থায়ী প্রতিনিধি। জাতিসংঘের সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করিম চৌধুরী বঙ্গবন্ধুকে ‘ফ্রেন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা ‘বিশ্ববন্ধু’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি জাতির পিতার সঙ্গে তার কর্মজীবনের নানা ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে তুলে ধরা, বহুপাক্ষিকতাবাদকে এগিয়ে নেয়াসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বনেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু যেসব অবদান রাখেন তা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করিম চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রদর্শিত পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ ধারণ করেই বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতাবাদের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে বিশ্বসভায় ভূমিকা রেখে চলেছে।
ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সৈয়দ আকবরউদ্দিন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের গভীর বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের উল্লেখ করে বলেন, ‘১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন ভারতবাসী তাদের অকৃত্রিম বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা জানতে পারে তখন ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়।’ বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শই আজ জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি বাংলাদেশকে উন্নয়নের বিস্ময় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘এটি সম্ভব হয়েছে কারণ বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’
সার্বিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মিলান মিলানোভিচ দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিকা দাচ্চির বাণী পড়ে শোনান। এ বাণীতে সার্বিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাবেক যুগোস্লাভিযার রাষ্ট্রনায়ক জোসেফ ব্রোজো টিটোর যে বন্ধুত্ব ও গভীর সম্পর্ক তা তুলে ধরেন এবং বঙ্গবন্ধুর বিখ্যাত উক্তি ‘বাংলার মানুষের প্রতি ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি, আর আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতাও এটা যে আমি তাদের অনেক বেশি ভালোবাসি’ উল্লেখ করেন।
কিউবার রাষ্ট্রদূত আনা সিলভিয়া রদ্রিগেজ আবাসকাল তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে কিউবার দেয়া অকুণ্ঠ কূটনৈতিক সমর্থনের কথা তুলে ধরেন। নির্যাতিতের পক্ষে ও মানবাধিকারের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুর অনন্য সাধারণ নেতৃত্ব, প্রচেষ্টা ও সাহসের কথা বলতে গিয়ে তিনি ১৯৭৩ সালে কিউবার মহান নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সেই বিখ্যাত উদ্ধৃতি ‘আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি, তাই হিমালয় দেখার সাধ আর আমার নেই’ উল্লেখ করেন।
ফিলিস্তিনের স্থায়ী প্রতিনিধি রিয়াদ এইচ মনসুর ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আজ ৪৪ বছর পর জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে, যা এ বিশ্বনেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি অনন্য উদ্যোগ।’
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান মুজিব শতবর্ষ উদযাপনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বক্তারা বঙ্গবন্ধুকে সেই সময়ের বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা এবং বিশ্ব মানবতার মুক্তির প্রতিভূ ও বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা বলেন, বিশ্বের বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতার সংগ্রাম ও ত্যাগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে।
জাতিসংঘে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল মিজ সাদিয়া ফয়জুনেচ্ছা এবং স্থায়ী মিশন, কনস্যুলেট ও জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কর্মরত বাংলাদেশের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মুকিত চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসী বাংলাদেশিরা। (১৫ আগস্ট ২০১৯-জাগো নিউজ-এর খবর)
আমি কৃতজ্ঞচিত্তে জাতিসংঘে আমাদের স্থায়ী মিশনকে ধন্যবাদ দিই। জাতির পিতার মহাপ্রয়াণের ৪৪ বছর পরে হলেও তারা যে উদ্যোগটি নিয়েছে এবং বিশ্ববাসীর কাছে জাতির পিতাকে তুলে ধরেছে সেটি একটি অনন্য সাধারণ ঘটনা। আমি প্রত্যাশা করব আমাদের এই প্রচেষ্টা বিশ্বজুড়ে ব্যাপৃত হবে এবং বিশ্বের সব দেশ জানবে বাংলা নামে ভাষা আছে। বাংলা ভাষার রাষ্ট্র আছে এবং সেই জাতিসত্তা গড়ে তোলার নায়ক একজন আছেন যিনি বাঙালি জাতির পিতা।
আমরা বাঙালি হিসেবে একদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ঋণী যে তারা কেবল যে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববন্ধু হিসেবে সম্মানিত করেছেন। জাতিসংঘের একটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এটি না হলেও জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আমাদের মহান নেতাকে যতটা সম্মান দিলেন তা আমার জন্য এক গৌরব তিলক। অন্যদিকে বিশ্বসংস্থার পক্ষ থেকে বাঙালির মাতৃভাষা বাংলার স্মৃতিকে বিশ্বজুড়ে সম্মান নিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারিকে যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা দেয়া হয়েছে তার জন্যও আমরা বিশ্ব সংস্থার কাছে কৃতজ্ঞ। বিশ্বের চতুর্থ মাতৃভাষা বাংলার এই অসাধারণ সম্মান দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রথমত বাংলা যে একটি বিশ্বভাষা সেটি প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত আজ যারা বাংলাদেশের নাগরিক তারাই যে বাংলা ভাষার মূল স্রোত সেটিও প্রমাণিত হয়েছে। এই কারণগুলোতে মনোযোগ দিয়েই আমাদের সম্ভবত প্রমাণ করার সময় হয়েছে যে বিশ্বের একমাত্র বাংলা ভাষার রাষ্ট্র বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু অতি আবশ্যকীয়ভাবেই জাতির পিতা। জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকীকে সামনে রেখে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সুবর্ণজয়ন্তীতে আমি একটু গভীরে অনুসন্ধান করতে চাই বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশের এই অসাধারণ বিজয়কে এবং তার পাশাপাশি শ্রদ্ধা জানাতে চাই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ একজনই বাঙালিকে। (চলবে)

মোস্তাফা জব্বার : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও কলাম লেখক।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা