পাকিস্তানে মাদরাসায় বিস্ফোরণ: নিহত ৫

আগের সংবাদ

ডেঙ্গু ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা

পরের সংবাদ

চামড়ার বাজারে বিপর্যয়

দায় কে নিবে?

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১৬, ২০১৯ , ৮:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০১৯, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

এবার ঈদের কুরবানির পশুর চামড়ার দরে বিপর্যয় হয়েছে। এর ফলে আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের দেয়া তথ্যানুযায়ী এবার ঈদে গরুর ৩৫ শতাংশ এবং ছাগলের ৮০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া যে চামড়া কেনাবেচা হয়েছে তাও নির্ধারিত দরের অনেক কম। যেমন খুশি তেমন দামে এবার চামড়া বিক্রি হয়েছে। দাম না পাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে চামড়া ফেলে দেয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। আবার কোথাও নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে দরিদ্র মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। হাজারীবাগের ট্যানারিশিল্প স্থানান্তর, কম দামে চামড়া কিনতে সিন্ডিকেট করার চেষ্টাসহ বিভিন্ন কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এদিকে দেশের ভেতর চামড়ার উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় তা পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কুরবানির পশুর চামড়ার বাজার নিয়ে এই বিশৃঙ্খলা-নৈরাজ্য প্রতি বছরের চিত্র। এটাকে কি কোনোভাবেই শৃঙ্খলায় আনা যায় না? প্রতি বছরের মতো এবারো ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। এবার প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ঢাকায় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। গত বছর লবণযুক্ত চামড়ার দাম ধরা হয়েছিল প্রতি বর্গফুট ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। প্রতি বছর কুরবানির পশুর দাম বাড়লেও ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করে বছরের পর বছর চামড়ার দাম কমিয়েই যাচ্ছেন। দাম কম নির্ধারণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। কারণ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এই নির্ধারিত দরে চামড়া কিনতে পারেন না। নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি টাকায় চামড়া কিনে লোকসানে পড়েন অনেক ব্যবসায়ী। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, বছরে দেশে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এসব চামড়ার ৬০ শতাংশেরও বেশি সংগ্রহ করা হয় কেবল কুরবানির পশু থেকে। কুরবানিরই এ দেশে পশু চামড়া সংগ্রহের মূল মৌসুম। কাজেই কুরবানি পশুর চামড়ার সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিকিকিনি কেন্দ্রিক যে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ এ সময় চলে একে সুশৃঙ্খল করা, সুপরিকল্পিত ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় আনা খুবই জরুরি। অথচ এ কাজটি করা হচ্ছে না। প্রতি বছরই চামড়ার দাম নির্ধারণ নিয়ে টালবাহানা করেন ব্যবসায়ীরা। বারবারই দাম নির্ধারণের বিপক্ষে থাকে তাদের অবস্থান। তবে শেষ সময়ে এসে তাড়াহুড়ো করে একটা দাম ধরে দেয়া হয়। কুরবানির পর মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এই নির্ধারিত দরে চামড়া কিনতে পারেন না। ফলে নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি টাকায় চামড়া কিনে লোকসানে পড়েন অনেক ব্যবসায়ী। এ ছাড়া কুরবানির পশুর চামড়ার বিক্রিকৃত টাকা এতিমখানা ও গরিব-দুস্থদের দান করাটাই নিয়ম। কুরবানির চামড়া থেকে প্রাপ্ত অর্থে এসব প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক খরচের একটি বড় অংশ নির্বাহ করা হয়। কিন্তু চামড়ার দাম প্রতি বছর কমতে থাকায় প্রতিষ্ঠান চালাতে হিমশিম খেতে হয়। অন্যদিকে এভাবে দেশের চামড়ার বাজারে মন্দায় প্রতি বছর ভারতে বিপুলসংখ্যক চামড়া পাচার হয়ে থাকে। সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের পরও তা ঠেকানো যায় না কখনো। চামড়া পাচারের ফলে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের অর্থনীতি। চামড়া পাচার ঠেকাতে, সিন্ডিকেটবাজি ঠেকাতে মহল্লাভিত্তিক ক্রয়কেন্দ্র বসানো দরকার। পাশাপাশি চামড়া যাতে যথাযথ মূল্যে বিক্রি হয় সে ব্যবস্থা করা দরকার। সরকারকেই এ উদ্যোগ নিতে হবে।